পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা
পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা
----------------------------------------------------------------------------------------------
[সাইডনোট: এই পর্যায়ে একটা ব্যাপার বলে রাখা দরকার। যদিও আরো অনেক পরে ঘটবে, কিন্তু মদিনায় হিজরতের পর, ইহুদিরা কুরআনের আয়াত শোনার পর এই যে "আগে থেকেই চলে আসছে" - এই কথার পুনরাবৃত্তি করবে। ওরা দাবি করবে ছোট বেলা রাসূল (সাঃ) ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে পুরানো এইসব গল্প শুনে আসছেন। অবাক করা ব্যাপার, আজকের দিনেও ইহুদিদের অনেকে সেটা মনে করে। তারা বলে তাওরাত আর ইঞ্জিল থেকে ঘটনা নিয়ে রাসূল (সাঃ) কুরআনে বলেছেন। তারা জেনেও না-জানার চেষ্টা করে যে, আমাদের রাসূল (সাঃ)'র অক্ষর জ্ঞান ছিল না, তিনি পড়তে পারতেন না। কাজেই বই পড়ে এইসব ঘটনা জানার তাঁর কথা না। এছাড়াও মক্কায় এক অনারব এক দাস, যে কিনা আরবি বলতে পারতো না, সাফা পাহাড়ের পাদদেশে পণ্য বিক্রি করতো, আর রাসূল (সাঃ) তার সাথে হয়তো মাঝে মাঝে বসে কথা বলার চেষ্টা করতেন, নিন্দুকেরা এও বলাবলি করতো যে এই লোকই তাঁকে এইসব শিখিয়েছে। এই লোকের ব্যাপারেও কুরআনের আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তা'য়ালা পরিষ্কার করেছেন। মুসলিম হিসাবে আমরা বিশ্বাস করি, অবশ্যই জিরবাঈল (আঃ) তাঁকে কুরআনের আয়াত নিয়ে এসে এইসব জানিয়েছেন।]
----------------------------------------------------------------------------------------------
[ডিসক্লেইমার: সেইদিন একটা উক্তি পড়লাম। ইমাম শাফি' -র উক্তি। আরবি উক্তির ইংরেজি ভার্সনটা হচ্ছে: "Be patient with the bitterness of learning, for the sweetness of knowledge lies in its depths" - বাংলায় এর অর্থ করার চেষ্টা করছি: "শেখার তিক্ততায় ধৈর্য্য ধরো, কারণ জ্ঞানের মধুরতা এর গভীরে নিহিত"। কোনো কিছু শেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য খুব দরকারি একটা উপদেশ।]
আজকের লেখায় একজন ইন্টারেষ্টিং চরিত্র নিয়ে আলাপ করবো, তার নাম: আল-ওয়ালিদ ইবন আল-মুগীরা। আমি যাকে হয়তো সংক্ষেপে আল-মুগীরা বলবো। এই লোক বানু-মাখযুম গোত্রের প্রধান ছিলেন। আর রাসূল (সাঃ) ছিলেন বানু-হাশিম গোত্রের, যার প্রধান ছিলেন তাঁর চাচা আবু-তালিব। মক্কায় আরো গোত্র ছিল, যার মধ্যে অন্যতম আরেকটা ছিল ছিল বানু আব্দু-শামস। যাই হোক, এই আল-ওয়ালিদ ইবন আল মুগীরা রাসূল (সাঃ)'র প্রতিপক্ষ ছিল, ইসলামের প্রতিপক্ষ ছিল। তবে প্রভাবশালী এই গোত্র প্রধান আরবিতে খুবই দক্ষ ছিল, আরবিতে বাকপটু, কবি হিসাবে সবার কাছে পরিচিত ছিল।
এই মাখযুম গোত্র প্রধান আল-ওয়ালিদ আল মুগীরা রাসূল (সাঃ) কে থামানোর অনেক চেষ্টা করে। মক্কায় মূর্তিপূজা, এইসব ঘিরে ব্যবসা, সামাজিক বৈষম্য, অন্যায় ইত্যাদির বিরুদ্ধে রাসূল (সাঃ) ইসলামের কথা বললে বানু-মাখযুম গোত্রের মক্কার নিয়ন্ত্রণে প্রাধান্য কমে যাবে - মূলত সেটাই ছিল তার ভয়। কিন্তু রাসূল (সাঃ) যখন প্রকাশ্যে কুরআন তেলাওয়াত করেন, এই আল-মুগীরাও সেটা শোনে আর বিস্মিত হয়। হতবিহবল হয়ে একসময় নিজে থেকেই বিড়বিড় করে এই কুরআনের প্রশংসা করে বসে। সবাই সেটা শুনে রটিয়ে দেয় যে বানু-মাখযুম গোত্রের প্রধান, বিখ্যাত কবি আল-ওয়ালিদ-আল-মুগীরাও কি তাহলে কুরআনের শ্রেষ্টত্ব স্বীকার করে ইসলাম কবুল করে ফেললো? এই খবর শুনে আবু-জাহাল ছুটে আসে, দাবি করে এখনই মুগীরাকে সেটা অস্বীকার করে ঘোষণা দিতে হবে। আবু-জাহাল আর আল-মুগীরার এই কথোপকথনও বিখ্যাত হয়ে আছে। আল-মুগীরা উল্টো জিজ্ঞেস করে, আমি কী বলবো? তখন আবু জাহাল একের পর এক প্রস্তাব দিতে থাকে: বল সে পাগল, জাদুকর, ভাগ্যগণক, কবি - কিন্তু যেটাই প্রস্তাব করে, আল-মুগীরা সেটার উল্টো যুক্তি দেখায় যে কেন সেটা রাসূল (সাঃ)'র জন্য প্রযোজ্য হবে না। শেষমেষ আল-মুগীরা সময় চায়, বলে সে চিন্তা করে কিছু একটা বলবে। কুরআনের অলৌকিকতা বুঝেও শুধু অহংকার আর গোত্রের শ্রেষ্টত্ব নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে সে কুরআনে স্বীকার করতে চায় না। কুরআন যে কী সেটার একটা তকমা সে চিন্তা করে ঠিক করবে সিদ্ধান্ত নেয়। কি বলবে সেটাও কুরআনের আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তা'য়ালা আগেই বলে দেন, আর এই কথার শাস্তির কথাও বলে দেন সূরা মুদাসসিরের আয়াতে [সূরা নম্বর ৭৪, আয়াত ১১ - ২৯]:
** ছেড়ে দাও আমার উপর [আল-মুগীরাকে] যাকে আমি নিজেই সৃষ্টি করেছি। আর দিয়েছি অঢেল ধনসম্পদ আর সন্তান যারা সবসময় তার সাথেই থাকে, আর তার জন্য জীবন করে দিয়েছি সহজ। তারপরও সে আরো লোভ করে যে আমি তাকে আরো দেই। কক্ষনো না, সে নিশ্চয়ই আমার আয়াতের/নিদর্শনের প্রতি বিরুদ্ধচারী। অচিরেই আমি তাকে শাস্তি দিবো। [কারণ] সে চিন্তা করলো আর সিদ্ধান্ত নিলো [ঠিক করলো কুরআনকে কী তকমা দিবে]। নিন্দিত হোক, কতই না [বাজে] তার সিদ্ধান্ত।আবারো নিন্দিত হোক, কতই না [বাজে] তার সিদ্ধান্ত। তারপর সে তাকালো, মুখ-কপাল কুচকালো আর উল্টো ফিরলো, অহংকার করলো আর বললো "এটা জাদু ছাড়া কিছুই না, যা আগে থেকেই চলে আসছে, এটা তো মানুষের [তৈরী করা] কথা"। শীঘ্রই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব।তুমি কি জান জাহান্নামের আগুন কী? তা কাউকে জীবিতও রাখবে না, আর মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না। চামড়া ঝলসে দেবে। **
** ছেড়ে দাও আমার উপর [আল-মুগীরাকে] যাকে আমি নিজেই সৃষ্টি করেছি। আর দিয়েছি অঢেল ধনসম্পদ আর সন্তান যারা সবসময় তার সাথেই থাকে, আর তার জন্য জীবন করে দিয়েছি সহজ। তারপরও সে আরো লোভ করে যে আমি তাকে আরো দেই। কক্ষনো না, সে নিশ্চয়ই আমার আয়াতের/নিদর্শনের প্রতি বিরুদ্ধচারী। অচিরেই আমি তাকে শাস্তি দিবো। [কারণ] সে চিন্তা করলো আর সিদ্ধান্ত নিলো [ঠিক করলো কুরআনকে কী তকমা দিবে]। নিন্দিত হোক, কতই না [বাজে] তার সিদ্ধান্ত।আবারো নিন্দিত হোক, কতই না [বাজে] তার সিদ্ধান্ত। তারপর সে তাকালো, মুখ-কপাল কুচকালো আর উল্টো ফিরলো, অহংকার করলো আর বললো "এটা জাদু ছাড়া কিছুই না, যা আগে থেকেই চলে আসছে, এটা তো মানুষের [তৈরী করা] কথা"। শীঘ্রই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব।তুমি কি জান জাহান্নামের আগুন কী? তা কাউকে জীবিতও রাখবে না, আর মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না। চামড়া ঝলসে দেবে। **
[সাইডনোট: এই পর্যায়ে একটা ব্যাপার বলে রাখা দরকার। যদিও আরো অনেক পরে ঘটবে, কিন্তু মদিনায় হিজরতের পর, ইহুদিরা কুরআনের আয়াত শোনার পর এই যে "আগে থেকেই চলে আসছে" - এই কথার পুনরাবৃত্তি করবে। ওরা দাবি করবে ছোট বেলা রাসূল (সাঃ) ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে পুরানো এইসব গল্প শুনে আসছেন। অবাক করা ব্যাপার, আজকের দিনেও ইহুদিদের অনেকে সেটা মনে করে। তারা বলে তাওরাত আর ইঞ্জিল থেকে ঘটনা নিয়ে রাসূল (সাঃ) কুরআনে বলেছেন। তারা জেনেও না-জানার চেষ্টা করে যে, আমাদের রাসূল (সাঃ)'র অক্ষর জ্ঞান ছিল না, তিনি পড়তে পারতেন না। কাজেই বই পড়ে এইসব ঘটনা জানার তাঁর কথা না। এছাড়াও মক্কায় এক অনারব এক দাস, যে কিনা আরবি বলতে পারতো না, সাফা পাহাড়ের পাদদেশে পণ্য বিক্রি করতো, আর রাসূল (সাঃ) তার সাথে হয়তো মাঝে মাঝে বসে কথা বলার চেষ্টা করতেন, নিন্দুকেরা এও বলাবলি করতো যে এই লোকই তাঁকে এইসব শিখিয়েছে। এই লোকের ব্যাপারেও কুরআনের আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তা'য়ালা পরিষ্কার করেছেন। মুসলিম হিসাবে আমরা বিশ্বাস করি, অবশ্যই জিরবাঈল (আঃ) তাঁকে কুরআনের আয়াত নিয়ে এসে এইসব জানিয়েছেন।]
রাসূল (সাঃ)'র সাথে এই আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগীরার আরেকটা ঘটনা কুরআনে রেফারেন্স আছে। সেটা একটু পরে লিখছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আল-মুগীরার ছেলে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাঃ) প্রথমে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, পরে ইসলাম কবুল করে মুসলিমদের সেনাপতি হয়ে অনেক যুদ্ধ জয় করেন।
রাসূল (সাঃ)'র ব্যাপারে রটানো কুৎসার সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে আর কী কী বলেছেন সেটা দেখি। আমরা দেখবো অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মনের কথা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে প্রকাশ করে দিয়েছেন। রাসূল (সাঃ)'র অগোচরে তাদের করা কীর্তিকলাপ উল্লেখ করেছেন - এই যে অদৃশ্যের খবর প্রকাশ করে দেয়া, এটাও কুরআনের একটা বড় মু'জেজা।
সূরা আল-হিজর -এর আয়াত [সূরা নম্বর ১৫, আয়াত ৬ - ৮]:
** তারা [মক্কাবাসী] বলে, "ওহে সেই ব্যক্তি, যার উপর উপদেশবাণী [কুরআন] নাজিল হয়েছে! নিশ্চয়ই তুমি পাগল। তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের কাছে ফেরেশতা হাজির করছো না কেন?" আমি যথার্থ কারণ ছাড়া ফেরেশতা পাঠাই না, আর ফেরেশতা উপস্থিত হলে তারা আর কোনো ছাড় পাবে না। **
সূরা সাদ-এর আয়াত [সূরা নম্বর ৩৮, আয়াত ৪ - ৫]:
** তারা [মক্কার মূর্তিপূজকরা] এ ব্যাপারে বিস্মিত হয় যে তাদের মধ্যে থেকেই একজন সাবধানকারী এসেছে। আর কাফিররা/অবিশ্বাসীরা বলে "এ তো জাদুকর, স্পষ্ট মিথ্যুক। সে কী সব ইলাহকে/দেব-দেবীকে এককরে এক 'ইলাহ' বানিয়ে ফেলেনি? এটা তো বড়ই আশ্চর্যের বিষয়!" **
সূরা আল-ক্বালাম-এর আয়াত [সূরা নম্বর ৬৮, আয়াত ৫১ - ৫২]:
** নিশ্চয়ই কাফিররা/অবিশ্বাসীরা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে আপনাকে আছড়ে ফেলবে যখন তারা কুরআন শুনে আর বলে: "সে তো নিশ্চিত পাগল"। অথচ এই কুরআন বিশ্বজগতের জন্য জিকির/উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। **
সূরা আল-মুতাফফিফিন -এর আয়াত [সূরা নম্বর ৮৩, আয়াত ২৯ - ৩৬]:
সূরা আল-মুতাফফিফিন -এর আয়াত [সূরা নম্বর ৮৩, আয়াত ২৯ - ৩৬]:
** নিশ্চয়ই যারা অপরাধী তারা মু'মিনদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ/হাসি-তামাশা করতো। আর যখন তারা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতো তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা/টিটকারি করতো। আর আপনজনের কাছে ফিরত [মু'মিনদের ঠাট্টা-মশকারা করার কারণে] উৎফুল্ল হয়ে আর যখন তাদের [মু'মিনদের] দেখতো বলতো : "নিশ্চয়ই এরাই তো পথভ্রষ্ট" - যদিও তাদেরকে ওদের [মু'মিনদের] তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি। কাজেই আজকে [কিয়ামতের দিন জান্নাত হতে] যারা ঈমান এনেছিল তারাই অবিশ্বাসীদের দেখে হাসবে, সুসজ্জিত আসনে বসে দেখতে থাকবে কাফিররা তাদের কৃতকর্মের ফল পেলো কিনা? **
সূরা আল-ফুরকানের আয়াত [সূরা নম্বর ২৫, আয়াত ৪ - ৬]:
সূরা আল-ফুরকানের আয়াত [সূরা নম্বর ২৫, আয়াত ৪ - ৬]:
** কাফিররা বলে, "এটা [কুরআন] মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই না। আর সে [অর্থাৎ রাসূল (সাঃ)] তা উদ্ভাবন করেছে আর ভিন্ন জাতির লোকে এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করেছে"। আর এভাবেই তারা [কাফির/অবিশ্বাসীরা] নিছক অন্যায় আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তারা আরো বলে, "এগুলোতো আগের যুগের কাহিনী যা সে লিখিয়ে নিয়েছে আর এরপর এগুলোই সকাল-সন্ধ্যা তাকে শোনানো হয়"। বল : "তা তিনিই নাযিল করেছেন যিনি আসমান-যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় অবগত আছেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।" **
সূরা আন-নাহল -এর আয়াত [সূরা নম্বর ১৬, আয়াত ১০৪]:
** আমি জানি তারা বলে, "একজন মানুষ [অনারব দাস] তাকে এইসব শিখিয়ে দেয়", অথচ যার কথা তারা নির্দেশ করছে তার ভাষা অনারব, অন্যদিকে এটার [কুরআন] ভাষা তো স্পষ্ট আরবি। **
সূরা ফুরকানের আয়াত [সূরা নম্বর ২৫, আয়াত ৭ - ১১]:
** তারা আরো বলে, "এ কেমন রাসূল যে কিনা খাবার খায় আর হাট-বাজারে হেটে বেড়ায়? তার সাথে ফেরেশতা অবতীর্ন হয় না কেন যে কিনা তার সাথে থেকে সাবধান করতো? অথবা তার উপর ধন-দৌলত এসে পড়ে না কেন কিংবা তাকে একটা বাগান দেয়া হয় না কেন যা থেকে সে খেত?" আর জালিমরা আরো বলে [মু'মিনদেরকে]: "তোমরা তো কেবল এক জাদুগ্রস্থ ব্যক্তিরই অনুসরণ করছো"। দেখো [হে মুহাম্মদ] তারা তোমার প্রতি কী উপমা দেয়। সুতরাং তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর পথ খুঁজে পাবে না। মহা কল্যাণময় তিনি যিনি ইচ্ছে করলে তোমাকে ওগুলোর চেয়েও উৎকৃষ্ট জিনিস দিতে পারেন- বাগ-বাগিচা, যার নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী, দিতে পারেন তিনি তোমাকে প্রাসাদরাজি। আসলে তারা কিয়ামাতকে অস্বীকার করে, আর যারা কিয়ামাতকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য আমি প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।**
আল ওয়ালিদ ইবন আল মুগীরার আরেকটা ঘটনা লিখবো বলেছিলাম। রাসূল (সাঃ) একদিন সুযোগ পেয়ে এই আল-মুগীরাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। আমাদের বুঝতে হবে, আল-মুগীরা মক্কার অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা, আল-মাখযুম গোত্রের প্রধান। গোত্রপ্রধান ইসলাম গ্রহণ করে ফেললে অন্যরাও তাকে অনুসরণ করে ইসলাম কবুল করবে ভেবেই হয়তো রাসূল (সাঃ) খুব মনোযোগ দিয়ে তার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক অন্ধ সাহাবী, আব্দুল্লাহ ইবনে উম্ম মাখতুম পাশ থেকে এসে রাসূল (সাঃ) কে থামিয়ে দিয়ে কোনো আয়াত সম্পর্কে জানতে চান। রাসূল (সাঃ) এতে একটু বিরক্ত হন, ভুরু কুঁচকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেন। আমাদের বুঝতে হবে, ওই সাহাবী কিন্তু অন্ধ ছিলেন, রাসূল (সাঃ) 'র এই অভিব্যক্তি কিন্তু তিনি দেখতে পাননি বা বুঝেন নাই। কিন্তু আল্লাহ তা'য়ালার কাছ থেকে তো আর কিছুই লুকানো থাকে না। আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনের আয়াত নাজিল করলেন, সূরা-আবাসা-এর আয়াত [সূরা নম্বর ৮০, আয়াত ১ - ১৬]:
** সে ভ্রু কুঞ্চিত করলো আর মুখ ফিরিয়ে নিলো। কারণ তার কাছে [গোত্র প্রধানের সাথে আলাপচারিতার সময়] অন্ধ লোকটি আসলো। কীসে তোমাকে বলবে [হে নবী] হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো, কিংবা উপদেশ গ্রহণ করতো ফলে উপদেশ তার কাজে আসতো। অন্যদিকে যে পরোয়া করে না তার প্রতি তুমি মনোযোগ দিচ্ছ যখন সে পরিশুদ্ধ না হলে তোমার কোনো দোষ নেই। অন্যদিকে যে তোমার কাছে ছুটে আসলো, সে [আল্লাহকে] ভয়ও করে, তুমি তার প্রতি অমনোযোগী হলে। কখনোই না [এটা করা ঠিক না], এটা [কুরআন] তো উপদেশবাণী। কাজেই, যার ইচ্ছা সে এটাতে মনোযোগী হবে। এটা [লিপিবদ্ধ] আছে মর্যাদাসম্পন্ন কিতাবে। সমুন্নত, পবিত্র। এমন লেখকদের কাছে যারা সম্মানিত, নেককার [ফেরেশতা]। **
আর এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা পরিষ্কার বলে দিলেন, রাসূল (সাঃ) আর তার অনুসারীরা সবাই আল্লাহ তা'য়ালার দিকনির্দেশনার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
[সবশেষ: আমি এই লেখা গুলো ডা. মেরাজ মহিউদ্দিন আর ড. ইয়াসির কাদির -এর রাসূল (সাঃ)'র জীবনীর উপর লেখা বই থেকে নিচ্ছি। বইগুলোর লিংক প্রথম পর্বের লেখায় দেয়া আছে। আর কুরআনের আয়াতের অনুবাদ আমি Quran.com ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে ভাবার্থ লিখছি। আমার বোঝায়, লেখায় ভুল থাকতে পারে। নিজেরা যাচাই করে নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকলো।]
সূরা ফুরকানের আয়াত [সূরা নম্বর ২৫, আয়াত ৭ - ১১]:
** তারা আরো বলে, "এ কেমন রাসূল যে কিনা খাবার খায় আর হাট-বাজারে হেটে বেড়ায়? তার সাথে ফেরেশতা অবতীর্ন হয় না কেন যে কিনা তার সাথে থেকে সাবধান করতো? অথবা তার উপর ধন-দৌলত এসে পড়ে না কেন কিংবা তাকে একটা বাগান দেয়া হয় না কেন যা থেকে সে খেত?" আর জালিমরা আরো বলে [মু'মিনদেরকে]: "তোমরা তো কেবল এক জাদুগ্রস্থ ব্যক্তিরই অনুসরণ করছো"। দেখো [হে মুহাম্মদ] তারা তোমার প্রতি কী উপমা দেয়। সুতরাং তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর পথ খুঁজে পাবে না। মহা কল্যাণময় তিনি যিনি ইচ্ছে করলে তোমাকে ওগুলোর চেয়েও উৎকৃষ্ট জিনিস দিতে পারেন- বাগ-বাগিচা, যার নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী, দিতে পারেন তিনি তোমাকে প্রাসাদরাজি। আসলে তারা কিয়ামাতকে অস্বীকার করে, আর যারা কিয়ামাতকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য আমি প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।**
আল ওয়ালিদ ইবন আল মুগীরার আরেকটা ঘটনা লিখবো বলেছিলাম। রাসূল (সাঃ) একদিন সুযোগ পেয়ে এই আল-মুগীরাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। আমাদের বুঝতে হবে, আল-মুগীরা মক্কার অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা, আল-মাখযুম গোত্রের প্রধান। গোত্রপ্রধান ইসলাম গ্রহণ করে ফেললে অন্যরাও তাকে অনুসরণ করে ইসলাম কবুল করবে ভেবেই হয়তো রাসূল (সাঃ) খুব মনোযোগ দিয়ে তার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক অন্ধ সাহাবী, আব্দুল্লাহ ইবনে উম্ম মাখতুম পাশ থেকে এসে রাসূল (সাঃ) কে থামিয়ে দিয়ে কোনো আয়াত সম্পর্কে জানতে চান। রাসূল (সাঃ) এতে একটু বিরক্ত হন, ভুরু কুঁচকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেন। আমাদের বুঝতে হবে, ওই সাহাবী কিন্তু অন্ধ ছিলেন, রাসূল (সাঃ) 'র এই অভিব্যক্তি কিন্তু তিনি দেখতে পাননি বা বুঝেন নাই। কিন্তু আল্লাহ তা'য়ালার কাছ থেকে তো আর কিছুই লুকানো থাকে না। আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনের আয়াত নাজিল করলেন, সূরা-আবাসা-এর আয়াত [সূরা নম্বর ৮০, আয়াত ১ - ১৬]:
** সে ভ্রু কুঞ্চিত করলো আর মুখ ফিরিয়ে নিলো। কারণ তার কাছে [গোত্র প্রধানের সাথে আলাপচারিতার সময়] অন্ধ লোকটি আসলো। কীসে তোমাকে বলবে [হে নবী] হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো, কিংবা উপদেশ গ্রহণ করতো ফলে উপদেশ তার কাজে আসতো। অন্যদিকে যে পরোয়া করে না তার প্রতি তুমি মনোযোগ দিচ্ছ যখন সে পরিশুদ্ধ না হলে তোমার কোনো দোষ নেই। অন্যদিকে যে তোমার কাছে ছুটে আসলো, সে [আল্লাহকে] ভয়ও করে, তুমি তার প্রতি অমনোযোগী হলে। কখনোই না [এটা করা ঠিক না], এটা [কুরআন] তো উপদেশবাণী। কাজেই, যার ইচ্ছা সে এটাতে মনোযোগী হবে। এটা [লিপিবদ্ধ] আছে মর্যাদাসম্পন্ন কিতাবে। সমুন্নত, পবিত্র। এমন লেখকদের কাছে যারা সম্মানিত, নেককার [ফেরেশতা]। **
আর এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা পরিষ্কার বলে দিলেন, রাসূল (সাঃ) আর তার অনুসারীরা সবাই আল্লাহ তা'য়ালার দিকনির্দেশনার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
[সবশেষ: আমি এই লেখা গুলো ডা. মেরাজ মহিউদ্দিন আর ড. ইয়াসির কাদির -এর রাসূল (সাঃ)'র জীবনীর উপর লেখা বই থেকে নিচ্ছি। বইগুলোর লিংক প্রথম পর্বের লেখায় দেয়া আছে। আর কুরআনের আয়াতের অনুবাদ আমি Quran.com ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে ভাবার্থ লিখছি। আমার বোঝায়, লেখায় ভুল থাকতে পারে। নিজেরা যাচাই করে নিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকলো।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন