পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৮ এপ্রিল ২০২৩): মৃত্যুই নিশ্চিত, বাকি সবকিছু অনিশ্চিত

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৮ এপ্রিল ২০২৩): মৃত্যুই নিশ্চিত, বাকি সবকিছু অনিশ্চিত ইমাম সাফওয়ান ঈদ, মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি।  [সাইড নোট: এই কয়েকদিনের মধ্যে দুই জন আলেমের মৃত্যু হয়েছে। একজনের নাম সিদি মুয়াজ আল-নাস, আরেকজন শেখ আব্দুল্লাহ কামেল। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমি যদিও তাঁদের কাউকেই চিনতাম না, কিন্তু যাঁদের চিনি, যেমন ড. ওমর সুলাইমান, উনার ফেইসবুক পোস্ট, কিংবা মসজিদের হোয়াটসআপ গ্রুপে বিভিন্ন মেসেজ দেখে মনে হলো, এঁরা দুইজনই বেশ পরিচিত ছিলেন, সবাই তাঁদের পছন্দ করতেন। শেখ আব্দুল্লাহ কামেল সম্ভবত নিউ জার্সির কোনো এক মসজিদের ইমাম ছিলেন। এই রোজায় তারাবী সহ অনেক মানুষের ঈদের নামাজের ইমামতি করেছেন। উনি সম্ভবত চোখে দেখতেন না। তিনি নাকি আবার এর মধ্যেই বাবা হয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী তাদের নিজের দেশে একটা ছেলের সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু সেই ছেলেকে আর কোলে নেয়া হয় নাই, তার আগেরই ঘুমের মধ্যে তিনি মারা গেছেন। এই দুইজনের বয়সই ৩০-৪০ এর মধ্যে ছিল। খুতবায় ঘুরে-ফিরে ইমাম মৃত্যু, এঁদের হঠাৎ চলে যাওয়া, আমরা কিভাবে মৃত্যু প্রস্ত...

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২১ এপ্রিল ২০২৩): রোজা-ঈদ, দুনিয়া-জান্নাত ইসলামিক সেন্টার অফ বোস্টন, ওয়েল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২১ এপ্রিল ২০২৩): রোজা-ঈদ, দুনিয়া-জান্নাত ইসলামিক সেন্টার অফ বোস্টন, ওয়েল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস [সাইডনোট: সবাইকে প্রথমেই ঈদ মুবারক। রোজার ঈদে বোস্টন এসে একটা নতুন মসজিদে জুমুআর নামাজ পড়লাম। মনে হলো ইমাম নিয়মিত ইমাম নন, জুমুআর খুতবা দেয়ার জন্যই ইমামতি করছেন। ইমাম নির্ঘাত আমার চেয়েও কম বয়সী। এই প্রথম মনে হয় কোনো মসজিদে এতো কম বয়সী একজন ইমামের খুতবা শুনলাম, ইমামতিতে নামাজ পড়লাম। ভালোই লাগলো।] ইমাম রোজা আর ঈদ কে দুনিয়া আর আখিরাতে জান্নাত বা বেহেশতের সাথে তুলনা করলেন। বললেন, রোজাতে আমরা যেমন অনেক ইবাদতি করি, অনেক নিয়ম মেনে কষ্ট করে রোজা রাখি আর তারপর অনেকটা পুরস্কার হিসাবে আল্লাহ তা'য়ালার কাছ থেকে ঈদ পাই - একই ভাবে দুনিয়াতে অনেক কষ্ট করে, আল্লাহ তা'য়ালার বিধিনিষেধ মেনে চললে আখিরাতে পুরস্কার হিসাবে জান্নাত বা বেহেশত পাবার আশা আমরা করতে পারি।  এরপর বললেন, যদিও দুনিয়ার ঈদে আমরা অনেক খুশি হই, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করে ঈদ উদযাপন করি, কিন্তু দুনিয়ার এই উদযাপনে আমাদের দুইটা জিনিস পুরোপুরি খুশি হতে দেয় না: ১) অতীত কোনো দুঃখ, অনুশোচনা বা আক্ষেপ আমাদের তা...

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৪ এপ্রিল ২০২৩): মুসলিম, মু'মিন আর অন্যের প্রতি ব্যবহার

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৪ এপ্রিল ২০২৩): মুসলিম, মু'মিন আর অন্যের প্রতি ব্যবহার  মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি। [ডিসক্লেইমার: আজকের লেখা তিন ভিন্ন দিনের আলোচনার সারমর্ম। এরমধ্যে প্রথমটা শুধু গত খুতবার একটা চুম্বক অংশ, বাকিগুলো অন্যদিন তারাবির আগের হালাকা বা সংক্ষিপ্ত আলোচার মূল বিষয়বস্তু - খুব সংক্ষেপে লিখছি। বরাবরের মতো আগেই বলে নিচ্ছি, সবগুলো লেখাই আমার শুনে, বুঝে আর তারপর কিছু ইন্টারনেট ঘেঁটে রেফারেন্স বের করে লেখা, কিন্তু আমার বোঝার ভুল হতেই পারে। তাই, নিজেরা যাচাই করে নেয়ার অনুরোধ থাকলো।] ১. অন্যের সাথে ব্যবহার: ইমাম বললেন আমাদের মধ্যে অনেকে খুব "পরহেজগার" হিসেবে পরিচিত। এতটাই ইবাদতে মশগুল যে অন্যের কী হলো তার কোনো খবর নাই, তাতে কিছু যায় আসে না। যেন তাদের "হৃদয়" পুরাটাই আল্লাহর জন্য বরাদ্দ। আপাত দৃষ্টিতে সেটা ভালো মনে হলেও, আসলে সেটা মোটেও ভালো না।  ইসলাম আমাদের এই শিক্ষা দেয় না। আমরা যদি আল্লাহর সৃষ্টিতে আল্লাহর রহমত, কুদরত খুঁজে না পাই - তাহলে আমাদের মধ্যে সমস্যা আছে। কোনো মানুষকে দেখে - সে যে ধর্ম, বর...

আব্দুল্লাহ - পার্ট ২

আব্দুল্লাহ - পার্ট ২ এই মসজিদে তারাবির নামাজের আগে ইমাম ঐদিনের যে সূরা তেলাওয়াত করা হবে, তার কোনো একটা আয়াত নিয়ে সংক্ষেপে আলাপ করেন। সেদিনের আয়াতটা ছিল, সূরা ইসরার [সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ২৬-২৭] আয়াত, যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দাও, এবং অভাবীকে, ভ্রমণকারীকে। আর অপব্যয়/অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়/অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ"।  ইমাম বললেন, এইখানে আল্লাহ তা'য়ালা শয়তানের ব্যাপারে অকৃতজ্ঞ বলতে "কাফুর" শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমরা সচরাচর "কাফুর" বা "কাফের" বলতে অবিশ্বাসী মনে করি। কিন্তু এই শব্দের অন্য অর্থ - অকৃতজ্ঞ বোঝাতেও ব্যবহার হয়। তিনি খেয়াল করতে বললেন,  শয়তান কিন্তু অবিশ্বাসী ছিল না। সে আল্লাহ তা'য়ালার আদেশ অমান্যকারী ছিল। তার প্রতি আল্লাহ তা'য়ালার নেয়ামতের অস্বীকারকারী ছিল। জ্বীন হওয়া সত্ত্বেও তাকে আল্লাহ তা'য়ালা ফেরেশতার মর্যাদা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেইসব ভুলে সে নিজেকে মাটির তৈরী মানুষের চেয়ে ভালো মনে করেছিল,  সে আল্লাহ তা'য়ালার আদেশ অমান্যকারী ছিল, মাটির তৈরী আদম (আঃ) কে...

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৭ এপ্রিল ২০২৩): আব্দুল্লাহ (আল্লাহ'র দাস)

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৭ এপ্রিল ২০২৩): আব্দুল্লাহ (আল্লাহ'র দাস) মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি। [সাইডনোট: আজকেও খুতবার সারমর্ম ছাড়াও এর আগেরদিন এশার নামাজের পর ইমামের দেয়া হালাকা বা ছোট লেকচারের বিষয়টা - দুটোই খুব ইন্টারেটিং ছিল: দুটাই "আব্দুল্লাহ" বিয়ষক। প্রথমটা আব্দুল্লাহ বা আল্লাহর বান্দা/বান্দি/দাস/দাসী - এই আইডিয়া নিয়ে, আর পরেরটা ব্যক্তি আব্দুল্লাহকে দেয়া ওমর (রাঃ)'র উপদেশ নিয়ে।] ইমাম বললেন আমরা যখন সূরা ফাতিহা পড়ি [সূরা নম্বর ১, আয়াত ১-৪], খেয়াল করে দেখতে তখন যেন আল্লাহ তা'য়ালা নিজের সম্পর্কে তৃতীয় বাচ্যে বলছেন, তিনি যেন সামনে উপস্থিত নাই। যেমন: আল্লাহ বলছেন, "আলহামদুলিল্লাহ হিরাব্বিল আলামিন, আর-রাহমানির রাহিম, মালিকিয়াও মিদ্দিন": অর্থাৎ: সকল প্রশংসা (এবং ধন্যবাদ) আল্লাহ'র যিনি বিশ্বভ্রমান্ডের রব, তিনি পরম করুনাময়, অশেষ দয়ালু। বিচার দিনের মালিক -- এসবই তৃতীয় বাচ্যে।  কিন্তু তারপর যখনই আমরা সূরা ফাতিহাতে বলি [সূরা নম্বর ১, আয়াত ৫] , "ইয়্যাকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকানাস তাঈন", অর্থাৎ: আমরা...

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৩১ মার্চ ২০২৩): কুরআনের সাথে সত্যিকার সম্পর্ক - মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি।

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৩১ মার্চ ২০২৩): কুরআনের সাথে সত্যিকার সম্পর্ক  মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি। ইমাম বললেন আমরা যখন কুরআন খুলে বসি তখন কী আমরা বুঝি যে আসলে আমরা যেন একজন শিক্ষকের সামনে কুরআন খুলে বসলাম? এই শিক্ষক আর কেউ না, স্বয়ং আল্লাহ তা'য়ালা নিজেই - যার ঘোষণা তিনি সূরা আর-রহমানে [সূরা নম্বর ৫৫, আয়াত ১-৪]  দিয়েছেন যার অর্থ অনেকটা এই রকম: "আর-রহমান (অশেষ দয়ালু), যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে 'বায়ান' বা ভাব-প্রকাশ করার শিক্ষা দিয়েছেন"। ইমাম বললেন কিন্তু আফসোসের ব্যাপার আমরা অনেকেই কুরআন খুলি, পড়ি, কিন্তু বুঝি না। আবার অনেক সময় খুলি, পড়ি - কিন্তু পড়ার উদ্দেশ্য হয় কোনো একটা বিতর্কের ব্যাপারে ফয়সালা করতে, কিংবা নিয়ম শিখতে অথবা হয়তো সওয়াবের আশায়। কিন্তু উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল দৈনন্দিন জীবনের দিক-নির্দেশনার জন্য, আল্লাহ তা'য়ালা আমাদেরকে কী বলছেন সেটা জানার জন্য।   ইমাম বললেন, তিনি দশ বছর আগে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তাঁর মিশন হবে যে তিনি চেষ্টা করবেন কুরআনকে দৈনন্দিন জীবনের আলাপ...