এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২১ এপ্রিল ২০২৩): রোজা-ঈদ, দুনিয়া-জান্নাত ইসলামিক সেন্টার অফ বোস্টন, ওয়েল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২১ এপ্রিল ২০২৩): রোজা-ঈদ, দুনিয়া-জান্নাত
ইসলামিক সেন্টার অফ বোস্টন, ওয়েল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস
[সাইডনোট: সবাইকে প্রথমেই ঈদ মুবারক। রোজার ঈদে বোস্টন এসে একটা নতুন মসজিদে জুমুআর নামাজ পড়লাম। মনে হলো ইমাম নিয়মিত ইমাম নন, জুমুআর খুতবা দেয়ার জন্যই ইমামতি করছেন। ইমাম নির্ঘাত আমার চেয়েও কম বয়সী। এই প্রথম মনে হয় কোনো মসজিদে এতো কম বয়সী একজন ইমামের খুতবা শুনলাম, ইমামতিতে নামাজ পড়লাম। ভালোই লাগলো।]
ইমাম রোজা আর ঈদ কে দুনিয়া আর আখিরাতে জান্নাত বা বেহেশতের সাথে তুলনা করলেন। বললেন, রোজাতে আমরা যেমন অনেক ইবাদতি করি, অনেক নিয়ম মেনে কষ্ট করে রোজা রাখি আর তারপর অনেকটা পুরস্কার হিসাবে আল্লাহ তা'য়ালার কাছ থেকে ঈদ পাই - একই ভাবে দুনিয়াতে অনেক কষ্ট করে, আল্লাহ তা'য়ালার বিধিনিষেধ মেনে চললে আখিরাতে পুরস্কার হিসাবে জান্নাত বা বেহেশত পাবার আশা আমরা করতে পারি।
এরপর বললেন, যদিও দুনিয়ার ঈদে আমরা অনেক খুশি হই, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করে ঈদ উদযাপন করি, কিন্তু দুনিয়ার এই উদযাপনে আমাদের দুইটা জিনিস পুরোপুরি খুশি হতে দেয় না: ১) অতীত কোনো দুঃখ, অনুশোচনা বা আক্ষেপ আমাদের তাড়া করে বেড়ায়, আর ২) যত খুশিই করি না কেন, ঈদের বন্ধের পরের কাজের কোনো একটা ইমেইল এসে অস্থিরতা তৈরী করবে এই শঙ্কা, কিংবা ভবিষ্যতের কোনো অনিশ্চয়তা বা ভয় আমাদের মাথার পেছনে ঘুরপাক খেতে থাকে। কিন্তু কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে, যেমন সূরা বাকারা [সূরা নম্বর ২, আয়াত ৬২] কিংবা সূরা আরাফ [সূরা নম্বর ৭, আয়াত ৪৯] আল্লাহ বলেছেন যার অর্থ: "সেখানে (জান্নাতে) না তাদের কোনো ভয় থাকবে, না কোনো অনুশোচনা"।
ইমাম আরো বললেন, একই ভাবে দুনিয়াতে আমাদের সবচেয়ে যে জিনিসটা পেতে বা করতে ভালো লাগে, সেটাও পরিমাণগত বা গুণগতভাবে (quantitative or qualitative) সীমিত। উদাহরণ দিয়ে বললেন, কারো হয়তো সূর্যাস্ত দেখতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এই নৈসর্গিক দৃশ্য যতভাবেই দেখা হোক না কেন, যদি কেউ বার বার দেখতে থাকে, তাহলে একটা পর্যায়ে এসে সেটা তার জন্য আর উপভোগ্য হবে না, ক্লান্তি ধরে যাবে, হয়তো বিরক্ত লাগা শুরু হবে। কিন্তু কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা বিভিন্ন আয়াতে জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন, যেমন সূরা আল-হিজর [সূরা নম্বর ১৫, আয়াত ৪৮] কিংবা সূরা ফাতির [সূরা ৩৫, আয়াত ৩৫] -এ আর অর্থ অনেকটা এইরকম: "সেখানে তাদের কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ স্পর্শ করবে না"।
সবশেষে ইমাম বললেন, ঈদের সময় মসজিদে প্রায় সবসময়ই "কমিউনিটি আউটরীচ" প্রোগ্রাম করা হয়। আমরা নিজেরাও সেটা করতে পারি। ঈদের পর সোমবার কাজের জায়গায় চকলেট বা মিষ্টি নিয়ে গিয়ে বলতেই পারি এটা ঈদ উপলক্ষে সবার জন্য আমার সামান্য উপহার। কাউকে "ঈদ" কী সেটা ব্যাখ্যা করার দরকার নাই। ঈদ উপলক্ষে চকলেট-মিষ্টি নিয়ে গেলে চাইলে তারা নিজেরাই ইন্টারনেট ঘেঁটে তা দেখে নিতে পারবে।
[অন্য একটা সাইডনোট : অন্য একটা ভিডিও শুনছিলাম, যেখানে ড্. ওমর সুলাইমান রোজার শেষে সবাইকে একটা এসাইনমেন্ট দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে, রোজার পরেও "আমি ___ ছেঁড়ে দিবো" আর "আমি ____ শুরু করবো" - এই দুই লাইনের নিজের কাছে করা প্রতিজ্ঞা। ওই দুই শূন্যস্থানে প্রথমটায় নিজের কোনো বদ অভ্যাস, ছোট হোক অসুবিধা নাই - যা গুনাহর কারণ; আর দিত্বীয়টায় যেকোনো একটা ভালো আমল, নিজে চিন্তা করে বসাতে বললেন। কারো সাথে শেয়ার করারও দরকার নাই। শুধু কোথাও লিখে রেখে নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করা আর পরের বছর রোজার শুরুতে ভেবে দেখা যে সেই দুই লাইনের কতটুকু করা সম্ভব হয়েছে। রোজার স্পিরিট ধরে রাখার এইটা একটা সহজ কিন্তু কার্যকরী উপায় হতে পারে।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন