এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১ এপ্রিল, ২০২২)

এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১ এপ্রিল, ২০২২):
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।


সূরা ইউনূস (১০ নং সূরা) -এর ৫৮ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে ইমাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে তাঁর রাসূল (সা:) কে বলতে বলছেন যে এই দুনিয়ার অর্থ, সম্পদ, খ্যাতি, পরিচিতি ইত্যাদি সবকিছু থেকে আল্লাহর রহমত, পুরস্কার অনেক বড়। ইমাম বললেন, আর এই আল্লাহ তা'য়ালাই যখন বলছেন রোজার মাসে তাঁর রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়,  জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় - তখন আমরা কি এর গুরুত্ব বুঝতে পারছি? ইমাম বললেন খুতবার শেষ অংশে একটা হাদিস আলোচনা করে তিনি রোজা মাসের গুরত্ব সম্পর্কে আবার আলোচনা করবেন। 

এর পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রোজার প্রস্তুতি নেয়ার প্রসঙ্গে অনেক আলোচনা হয়েছে, এর পরও কি আমরা রেডি হয়েছি? যদি এখনো না হয়ে থাকি, তবে আর কখন হবো? এ প্রসঙ্গে ইমাম মনে করিয়ে দিলেন, আমরা যেন সবসময় দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাদেরকে রোজার মাসে পৌঁছানোর তৌফিক দেন, রোজা মাসে পৌঁছে যেন দোয়া করি লাইলাতুল-ক্বদর পাওয়ার তৌফিক দেন, রোজা যেন কবুল করেন। রোজার মাসে পৌছিয়েও রোজার ফজিলত অর্জন করতে না পারলে এর থেকে আক্ষেপের আর কিছু নাই। আমাদের রাসূল (সা:) অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন (ইমাম কয়েকটা উদাহরণ দিলেন)। সেই দয়ালু রাসূল(সাঃ)-ও  কিছু মুসলিম ব্যক্তির ব্যাপারে  "ওই ব্যক্তির নাক ধুলোতে ঘষানো হোক" - বলে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন, ধিক্কার দিয়েছেন। কারা তারা? যারা ৩ টা জিনিসের ব্যাপারে উদাসীন বা গাফেল: ১. যাদের মা কিংবা বাবা অথবা দুইজনই জীবিত, বার্ধক্যে উপনীত, কিন্তু তাঁদের খেয়াল করে নাই; ২. রাসূল (সা:) নাম উল্লেখ শুনেছে কিন্তু দুরুদ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পড়ে নাই; আর ৩. যারা রোজার মাসে পৌঁছেছে কিন্তু এর সুফল অর্জন করতে পারে নাই। ইমাম আবারো স্বরণ করিয়ে দিলেন (সম্ভবত এটা হাদিসে কুদসীতে উল্লেখ আছে, অর্থাৎ কুরআনে সরাসরি নাই, কিন্তু রাসূল (সা:) বলেছেন যে আল্লাহ বলেছেন): বাকি সব ভালো কাজের প্রতিদান আল্লাহ ১০, ৭০, ৭০০ ইত্যাদি সংখ্যা দিয়ে গুন করে বাড়িয়ে দিবেন বললেও, রোজার প্রতিদান তিনি নির্দিষ্ট করেন নাই, আল্লাহ বলেছেন তিনি 'নিজে' এর প্রতিদান দিবেন, অর্থাৎ এই ইবাদতের প্রতিদান হিসাব করে শেষ করা যাবে না।

সবশেষে ইমাম একটা হাদিস বর্ণনা করলেন। এটা সহীহ হাদিস (ইমাম রেফারেন্স দিয়েছিলেন, কিন্তু আমার ঠিক মনে নাই)। নবীর (সা:) সময়ে নাকি কোনো এক গোত্রের দুই লোক (বা বন্ধু) একই সময়ে রাসূল (সা:) কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। অনেক সাহাবীর সাথে তখন 'তালহা' নামের এক সাহাবীও ওই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে ওই দুইজনের একজন নাকি তাঁর ধন, সম্পদ, জীবন সব ইসলামের জন্য দিয়ে গেছেন। কোনো এক যুদ্ধে ওই ব্যক্তি শহীদও হন। আর আরেক বন্ধু তার এক বছর পর নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে মারা যান। সাহাবীরা সবাই এই দুইজনের ঘটনা জানতেন। তালহা (রা:) নাকি এক রাতে স্বপ্নে দেখেন যে ওই দুই বন্ধুর মধ্যে যে পরে বাসায় মারা গেছেন, তিনি সরাসরি জান্নাতে চলে যাচ্ছেন, আর যেই ব্যক্তি আগের বছর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল, তাঁকে নাকি বলা হচ্ছে তাঁর এখনো জান্নাতে যাবার সময় আসে নাই! ঘুম ভেঙে তালহা (রাঃ) এর কারণ বা হিসাব মিলাতে পারছিলেন না (ইমাম আবারো খেয়াল করিয়ে দিলেন এটা তালহা (রাঃ) দেখা স্বপ্ন ছিল)। পরে তালহা (রাঃ) অন্য সাহাবীদেরকে নিয়ে এই স্বপ্নের ব্যাপারে রাসূল (সা:) জিজ্ঞেস করায় রাসূল (সাঃ) নাকি উল্টো প্রশ্ন করেছিলেন, এইটা নিয়ে অবাক হওয়ার কী আছে?! যে ব্যক্তি পরের বছর মারা গেলো, সে কি রোজার মাস পায় নাই? সে যদি রোজার মাস পেয়ে থাকে আর তাতে আমল করে আর তার রোজা কবুল হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি আর যে রোজার আগে মারা গেলো তার মধ্যে আসমান আর দুনিয়ার মতো তফাৎ আছে! 

ইমাম বললেন, আমরা যেন আমাদের সামনে আসা এই রোজার সুযোগ, এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে সঠিকভাবে কাজে লাগাই।   


 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ