এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৫ এপ্রিল, ২০২২)
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৫ এপ্রিল, ২০২২):
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।
ইমাম আজকে ফিলিস্তিনিদের স্কার্ফ পড়ে খুতবা দিলেন। শুরু করলেন দোয়া করে যেন মসজিদুল আকসা তার সঠিক দাবিদারের কাছে ফিরে যায়। বললেন, রোজার মাসে যেখানে আমাদের পুরো মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর ইবাদতি করা উচিত, সেখানে দুনিয়ার বিভিন্ন ঘটনা, আমাদের চারপাশের ঘটনা আমাদেরকে বিক্ষিপ্ত করে রাখে। আমরা সময় ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারি না, নষ্ট করি। পরে পুরো খুতবা জুড়ে বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে আলাপ করলেন আমরা কিভাবে, অনেক ক্ষেত্রেই না জেনে - অমূল্য সময় নষ্ট করছি, আর কিভাবে তা থেকে বাঁচতে পারি।
ইমাম সরাসরি বললেন, আমরা অনেকেই এই রোজার মধ্যেও নিজেদের ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কিংবা ভিডিও, টিভিতে মুভি, সিরিয়াল দেখে সময় নষ্ট করছি। প্রত্যেকের ফোনে সেটিংস-এ গিয়ে "স্ক্রিন টাইম" চেক করে দেখতে বললেন যে আমরা এই রোজা মাসের মধ্যেও দিনে কতটা সময় ফোনে নষ্ট করছি। বললেন দেখে অবাক হয়ে যাবে সবাই। পরে মুখে মুখে কিছু অংক করে বললেন, ২৪ ঘন্টা হিসাবে রোজার ২৯/৩০ দিনে প্রায় ৭২০ ঘন্টা হয়। দিনে যদি আমরা ১০ ঘন্টা বিভিন্ন কাজে ব্যয় করি, আর ৮ ঘন্টা ঘুমাই, তাহলে বাকি ৬ ঘন্টা হিসাবে ৩০ দিনে ১৮০ ঘন্টা আমাদের হাতে ইবাদতি করার জন্য থাকে। যেহেতু এখন ১৩-১৪ রোজা চলেই গেছে, সেহেতু আমাদের হাতে এর অর্ধেক, আর মাত্র ৯০ ঘন্টার মতো বাকি আছে, যার মধ্যেই 'লাইলাতুল ক্বদর' পরবে। এই বাকি কয়টা দিন তাই খুব খেয়াল করে, সময় নষ্ট না করে ইবাদতির কাজে লাগাতে হবে। ইমাম আরো বললেন, ভাবলে অবাক হতে হবে যে, কেউ যদি ৭০ বছর বাঁচে, তাহলে হিসাব করলে দেখা যাবে ফরজ নামাজের পেছনে নাকি মাত্র ৩ মাসের মতো ব্যয় হয়। আর সব ইবাদতি যোগ করলেও বছর পাঁচের বেশি কোনোভাবেই হবে না। এই যে এতো কম সময়, তার কতটুকুই বা মনোযোগ দিয়ে, 'ইখলাসের সাথে' আমরা পালন করছি?
ইমাম মনে করিয়ে দিলেন, সূরা আছর [১০৩: ১-২]-এ আল্লাহ এই সময়ের প্রতিজ্ঞা করেই বলেছেন, মানুষ মাত্রই ক্ষতি বা 'লসে' আছে। খুব সম্ভবত কোনো এক হাদিসে আছে যে মানুষ দুইটা জিনিস থাকাকালীন সময়ে এর গুরুত্ব বুঝে না: স্বাস্হ্য আর অবসর সময়। তার তাই, সময়ের ব্যাপারে আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। এরপর ইমাম একটা হাদিস বললেন যেখানে এক ব্যক্তি এসে রাসূল (সা:) কে নাকি জিজ্ঞেস করলেন যে, তার নামাজে মনোযোগ লাগে না, কী করলে নামাজে মনোযোগ আসবে? রাসূল(সা:) উত্তরে বলেছিলেন: এমনভাবে নামাজ পড়তে হবে যেন এইটাই তার জীবনের শেষ নামাজ। ইমাম বললেন, আমাদেরকে এই 'শেষ সুযোগ' চিন্তাটা শুধু নামাজ -এর বেলায় না, এই বছরের রোজার বেলায়ও ভাবতে হবে। আমরা যখন এই বছরের রোজা আমাদের "শেষ রোজা"- এইটা চিন্তা করবো, তখনই এর বাকি কয়টা দিন তার সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারবো। ইমাম প্রশ্ন করলেন, কোনো মৃত ব্যক্তিকে যদি কখনো আরেকবার সুযোগ দেয়া হয়, আমরা কী মনে করি না যে সেই ব্যক্তি তার সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করে ইবাদতি করবে? আমরা যেন মনে করি আমরাই সেই 'মৃত ব্যক্তি' যে কিনা আরেকবার সুযোগ পেয়েছি, কারণ আমরা কখন যে কে চলে যাবো, তার কোনো ঠিক নাই।
শেষে ইমাম আয়েশা (রাঃ) কে উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন রাসূল (সাঃ) রোজার শেষের দিকে বেশি বেশি করে ইবাদতি করতেন, ইতিকাফ পালন করতেন। শুধু নিজে না, নিজের পরিবারের সবাইকে রাত জেগে ইবাদতি করতে বলতেন। ইমাম উদাহরণ দিয়ে বললেন, একটা দৌড় প্রতিযোগিতায় যেমন কে কত দ্রুত আর ভালোভাবে শুরু করেছে সেটা গুরত্বপূর্ণ না, বরং কে কত ভালোভাবে শেষ করলো সেইটাই মুখ্য - একই ভাবে শেষ সময়ে এসে আমরা ঠিকভাবে রোজা শেষ করতে পারলাম কিনা, 'লাইলাতুল ক্বদর' খুঁজে পেলাম কিনা সেটা চিন্তা করে আমল করার চেষ্টা করতে হবে।
সবশেষ: গত সপ্তাহেও ঘটেছে, আজকেও ঘটলো: নামাজ শেষে একজন তার 'শাহাদা'/ সাক্ষী দিয়ে মুসলিম হলো। ইমাম ইসলামের মূল ভিত্তি আর বিশ্বাস কী সেটা সংক্ষেপে বলে তাকে কালেমা পড়ালেন। প্রথমে ইংরেজিতে, পরে আরবিতে ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে ইমামের সাথে কালেমা পড়া শেষ হতেই মসজিদ ভর্তি লোক স্বমস্বরে তিন বার বলে উঠলো 'আল্লাহু আকবার"। এই অভিজ্ঞতা লিখে প্রকাশ করার না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন