এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২২ এপ্রিল, ২০২২)
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২২ এপ্রিল, ২০২২):
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।
লাইলাতুল ক্বদর বা ক্বদরের রাতে কিভাবে আমরা ইবাদতি করতে পারি, মূলত সেইটাই আজকের খুতবার আলোচনার বিষয় ছিল। ইমাম সূরা ক্বদর তেলাওয়াত করলেন, মনে করিয়ে দিলেন সূরা ক্বদরে আল্লাহ বলছেন এই এক রাতের ইবাদতি হাজার মাসের ইবাদতি থেকেও ভালো। হিসাবে যেটা ৮০ বছরের ইবাদতের চেয়েও বেশি। ইমাম বললেন, আমাদের রাসূল (সাঃ) উম্মতের আয়ুষ্কাল আগের নবী-রাসূলের উম্মতদের তুলনায় অনেক কম বলেই আল্লাহ তা'য়ালা এই সুযোগ করে দিয়েছেন। চিন্তা করে দেখতে বললেন কেউ যদি ৮০ বছর বাঁচে, আর প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে প্রতি বছর রোজা মাসে যদি লাইলাতুল ক্বদর খুঁজে পায়, তাহলে তার ইবাদতির পরিমান কত বেশি হবে (সুবহানাল্লাহ)!
ইমাম এরপর বললেন, দুইটা জিনিস সাধারণত আমাদেরকে বর্তমান থেকে, আমাদের সামনে থাকা সুযোগ কাজে লাগানো থেকে ভুলিয়ে রাখে: শোক আর শঙ্কা। অতীতের কোনো শোক আঁকড়ে যদি আমরা বসে থাকি, আর ভবিষ্যতে কী ঘটবে তাই ভেবে যদি দুঃশ্চিন্তা-আশংকা করতে থাকি, তাহলে বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সামনে আগানো যায় না। ইমাম বললেন, এই শোক শুধু "শোক" না, অনেকের জন্য সেটা আফসোস আকারেও আসে। যেমন উদাহরণ দিয়ে বললেন, "রোজা মাসের ২০ দিন চলে গেছে, কিছুই করা হয় নাই, আমাকে দিয়ে হবে না" - এই টাইপ চিন্তা/শোক/আফসোসও অনেক সময় আমাদের সামনে থাকা রোজার শেষ ১০ দিন/রাতকে কাজে লাগানোর অন্তরায় হতে পারে। একই ভাবে, "আমার আমল ভালো না, আল্লাহ আমার জন্য কি আর ক্বদরের রাত কপালে রেখেছেন?" - এই টাইপ শঙ্কা করাও ঠিক হবে না। দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে নিশ্চই আল্লাহ আমার রোজা, ইবাদত কবুল করছেন আর এই শেষ ১০ দিন-১০ রাত আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমার জন্য লাইলাতুল ক্বদর রেখেছেন। কোনো আমলকেই ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নাই।
এরপর ইমাম আলোচনা করলেন কিভাবে "সাধ্যমতো" চেষ্টা করা যায়। বললেন, সবার পক্ষে পুরা রাত ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো সম্ভব না। চিন্তা করে দেখতে বললেন, নিজের 'সাধ্য' অনুযায়ী কী কী করা যায় সেটা প্রথমে ভাবতে, তারপর এতদিন যা করেছি, তার থেকে যেন কিছু বেশি হলেও ইবাদত করবো - সেই নিয়ত করতে হবে। এই ইবাদত যে শুধু নামাজ পড়ে আদায় করতে হবে তা না, বেশি বেশি 'জিকির' করে (মনে মনে 'ইখলাস' বা আন্তরিকতার সাথে আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার বলে), একটু বেশি কুরআন পড়ে, একটু বেশি দান-খয়রাত ইত্যাদি করেও করা যায়। ইমাম মনে করিয়ে দিলেন, যেহেতু হাদিসে আছে যে যেই ব্যক্তি জামাতে এশার নামাজ মসজিদে আদায় করবে, যে যেন পুরা রাত ইবাদতিতে কাটালো - সেই হিসাবে আর কিছু না হলেও আমরা সবাই যেন এই শেষ ১০ রাত মসজিদে এশার নামাজ জামাতে পড়ার নিয়ত করি। আরো বললেন দোয়া করাও ইবাদত। সুতরাং বেশি বেশি দোয়া করেও আমরা ইবাদতে যোগ দিতে পারি। আয়েশা (রাঃ) থেকে উদৃত হাদিস বললেন, যেটা আসলে আমরা সবাই কম-বেশি জানি: আয়েশা (রাঃ) রাসূল (সা:) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, লাইলাতুল ক্বদর কোন রাতে সেটা জানলে কী দোয়া করা উচিত? উত্তরে রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন বেশি বেশি করে "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি" (অর্থাৎ: ও আল্লাহ, নিশ্চই তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও) এই দোয়া করতে বলেছিলেন।
[সাইড নোট: আরবিতে 'আন্নি' মানে 'আমাকে', আর 'আন্না' মানে 'আমাদেরকে' - কাজেই এই দোয়ার শেষে 'ফাফু আন্নি' না বলে 'ফাফু আন্না' বলে আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি।]
সবশেষে ইমাম বুখারীর হাদিস উল্লেখ করে বললেন, রাসূল (সাঃ) নাকি লাইলাতুল ক্বদর কবে সেটা জানতেন, সবাইকে বলতেও চাচ্ছিলেন, কিন্তু এসে দেখেন দুই সাহাবী তর্ক করছিলেন। আর তা দেখে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছিলেন তাদের এই বাদানুবাদই তাকে সেটা (আল্লাহর নির্দেশে) ভুলিয়ে দিয়েছে। ইমাম বললেন, আমরা যেন বিশেষভাবে এই ঘটনা মনে রেখে একে অন্যের সাথে যেকোনো রকম তর্ক-ঝগড়া-মনোমালিন্য থেকে দূরে থাকি, একে অন্যকে যেন ক্ষমা করে দেই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন