এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৯ এপ্রিল, ২০২২)
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৯ এপ্রিল, ২০২২):
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।
আজকে "জামাতুল বিদাহ" বা বিদায়ের জামাত অর্থাৎ রোজার মাসের শেষ শুক্রবারের জমায়েত ছিল। ইমাম বললেন উনি আজকে আলাপ করবেন কুরআন নাজিলের মহিমা বা গুরুত্ব সম্পর্কে। কুরআন আর হাদিসের অনেকগুলো রেফারেন্স দিলেন, যেগুলোর কিছু আমি পরে ইন্টারনেট ঘেঁটে এখন লিখছি। আমার বুঝতে কিংবা লেখায় ভুল থাকতে পারে, তাই সবাইকে নিজ দায়িত্বে পড়ার অনুরোধ করছি।
সূরা বাকারাতে [সূরা নং ২ : আয়াত ১৮৫] আল্লাহ বলেছেন তিনি কুরআন নাজিল করেছেন রোজার মাসে। আর সূরা দুখান [৪৩:৩] আর সূরা ক্বদরে [৯৭] আল্লাহ বলছেন তিনি তা নাজিল করেছেন এই মাসের 'লাইলাতুল ক্বদর' বা 'শক্তির রাতে'। ইমাম বললেন, এই নাজিল করা মানে হচ্ছে 'লাওহে মাহফুজ' -এ সংরক্ষিত কুরআন, সেখান থেকে প্রথমে আসমানের সর্বোচ্চ স্তর 'বায়তুল মামুর' আর তারপর দুনিয়ার উপরে প্রথম স্তর 'বায়তুল ইজ্জা'য় পুরো কুরআন একবারে নাজিল হওয়া। আর তারপর সেখান থেকেই ২৩ বছর ধরে রাসূল (সাঃ) কাছে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন আয়াত নাজিল হয়। ইমাম আরো বললেন, এই আয়াত বা ওহী নাজিল কখনোবা ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ) বিভিন্ন রূপ ধরে নিয়ে এসেছেন, কখনোবা রাসূলের কানে ঘন্টা ধ্বনির মতো আওয়াজ করে, আবার কখনো স্বপ্নে এসেছে। কেন পুরাটা একবারে নাজিল না হয়ে ভেঙে ভেঙে হলো, এর ব্যাখ্যায় ইসলামের স্কলাররা বলেছেন যে রাসূল (সাঃ) কে, তাঁর হৃদয়কে তৈরি করার জন্যই আল্লাহ তা'য়ালা তা করেছেন। এই আয়াত নাজিল রাসূল(সাঃ)-এর জন্য সহজ ছিল না। হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, আয়াত নাজিলের সময় রাসূল (সা:) শীতের মধ্যেও ঘামতেন, যেন ভারে নুয়ে যেতেন, এমনকি অনেক সময় ফ্যাকাসে কিংবা লাল হয়ে যেতেন। ভুলে যাবেন মনে করে নাজিলের সময় রাসূল (সাঃ) তাড়াতাড়ি মুখস্হ করার চেষ্টা করতেন। পরে আল্লাহ তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই কুরআন রাসূল (সাঃ) হৃদয়ে মনে রাখানো, এর অর্থ বোঝানো আল্লাহর নিজের দায়িত্ব, রাসূল (সাঃ) কে সেজন্য অস্থির হতে হবে না (সূরা আল-কিয়ামাহ [৭৫:১৬-১৮]) ।
এর পর ইমাম বললেন, কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে (সূরা হাশর ৫৯: ২১, সূরা আহযাব ৩৩ :৭২) উল্লেখ আছে যে এই কুরআনের জিম্মাদার হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলে আসমান, জমিন আর জমিনে থাকা শক্তিশালী পাহাড় পর্যন্ত তাতে রাজি হয় নাই, ভয় পেয়েছে। কিন্তু মানবজাতি তাতে রাজি হয়েছে। ইমাম ব্যাখ্যা করলেন, আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল (সাঃ)-এর অন্তরকে এই শক্তিশালী কুরআন ধারণ করার জন্য পবিত্র করেছেন, তৈরি করেছেন (এই প্রসঙ্গে ইমাম ফেরেশতাদের রাসূল (সা:) বুক চিড়ে তা পবিত্র করার অলৌকিক ঘটনা বললেন)।
আর এই যে এতো শক্তিশালী, মহিমান্বিত কুরআন - সেটাকে আমাদের যথাযত গুরুত্ব দিতে হবে। ইমাম বললেন, যে কুরআন নাজিল হওয়ার কারণেই রোজার মাস, আর তাতে 'লাইলাতুল ক্বদর' এতো মর্যাদাপূর্ণ, সেই কুরআনকে আমরা যেন আমাদের জীবনের অংশ করে নেই। এর তেলাওয়াত, অর্থ-তাফসীর পড়া, আয়াত নিয়ে চিন্তা করা, ইত্যাদি যেন রোজার পরে শেষ না হয়ে যায়, আমরা যেন চালিয়ে যাই, প্রতিদিনের জীবনে যেন আমল করার চেষ্টা করি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন