এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (৮ এপ্রিল, ২০২২)
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (৮ এপ্রিল, ২০২২):
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।
ইমাম শুরু করলেন এই বলে যে, রোজার মাস দোয়ার মাস। এরপর পুরো খুতবা জুড়ে দোয়া কবুলের শর্ত, সময়, করণীয়, দোয়া করার আদব নিয়ে আলোচনা করলেন। ইমাম বললেন, আল্লাহ তা'য়ালা ৩ ধরণের মানুষের দোয়া কবুল করেন: ১) যারা রোজাদার, ২) যারা নিপীড়িত আর ৩) সৎ, ন্যায়পরায়ণ শাসকের। ইমাম বললেন তবে এই দোয়া কবুলের কিছু শর্ত আছে। প্রথম শর্ত হচ্ছে, "আল্লাহ দোয়া কবুল করবেনই" - এমন বিশ্বাস রেখে, একাগ্রতার সাথে দোয়া করতে হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, হালাল উপার্জন আর হালাল খাবার খেতে হবে আর তৃতীয়ত: ধৈর্য নিয়ে, তাড়াহুড়া না করে দোয়া করতে হবে। তাড়াহুড়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বললেন, দুই-তিন বার দোয়া করে "আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করছেন না, তিনি আমার দোয়া কবুল করবেন না" - এমনটা করলে হবে না। উদাহরণ হিসাবে নবী আইয়ুব (আ:) ঘটনা বললেন। নবী আইয়ুব (আ:) সম্পত্তি, সন্তান, স্বাস্থ্য সব হারিয়ে এমন অবস্থায় পড়েছিলেন যে তাঁর পরিবারের লোকজনই নাকি বলা শুরু করেছিল যে আর দোয়া করে লাভ হবে না, তাঁর অবস্থার পরিবর্তন হবে না! কিন্তু তিনি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে, ধৈর্য নিয়ে দোয়া করতেই থাকেন এবং শেষে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর দোয়া কবুল করে পরে সব কিছুই ফিরিয়ে দেন: তিনি আবারো সম্পত্তি, সন্তান, স্বাস্থ্য ফিরে পান। ইমাম আরো বললেন, এছাড়াও আল্লাহ তা'য়ালা বিশেষ কিছু সময়ে দোয়া কবুল করেন। (খুব সম্ভবত হাদিসে এসেছে যে) শুক্রবার আজান হওয়ার পর থেকে নামাজ শুরুর ইকামত দেয়ার আগ পর্যন্ত, জুমআর নামাজের পরে আসরের আগ পর্যন্ত আর ফজরের আগে তাহাজ্জুদের সময়। এরপর ইমাম বললেন দোয়া কবুলের একটা সহজ উপায় আছে। রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন, কোনো মু'মিন যখন তার ভাইয়ের-বোনের অবর্তমানে তার ভালোর জন্য দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা নাকি দোয়াকারীর জন্য বলতে থাকেন "আপনার জন্যও প্রযোজ্য/কবুল হোক"। ইমাম মজা করে বললেন এটাকে তিনি বলেন 'বুমেরাং দোয়া' - অন্যের জন্য করা দোয়া নিজের জন্যও কবুল যেহেতু হয়, সেজন্য তিনি সবাইকে বেশি বেশি করে অন্যদের জন্য দোয়া করতে বললেন, এমনকি নবী, তাঁদের পরিবার আর সাহাবীদের জন্য দোয়া (নিজের জন্যেই) করতে বললেন।
সবশেষে ইমাম কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ করে ইব্রাহিম (আ:) -এর দোয়া করার আদব-কায়দা খেয়াল করতে বললেন। [এই রেফারেন্স গুলো পরে আমি ইন্টারনেট থেকে বের করে এখন লিখে দিচ্ছি] ইব্রাহিম (আ:) নিজে আল্লাহর নবী হয়েও দোয়া করেছেন, যেন আল্লাহ তাঁকে নামাজ কায়েমকারী হিসাবে কবুল করেন, তাঁর সন্তানদের/বংশধরদেরকেও থেকেও যেন কবুল করেন, তাঁর দোয়া যেন কবুল করেন (সূরা ইব্রাহিম ১৪:৪০), তাঁকে যেন সৎ/ধার্মিক সন্তান দান করেন (৩৭:১০); তাঁর ও ইসমাইলের পক্ষ থেকে তৈরি করা কাবা ঘর যেন কবুল করেন (২:১২৭), তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতা ও বিশ্বাসীদেরকে যেন হিসাবের দিনে ক্ষমা করেন (১৪:৪১), ইত্যাদি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন