এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৭ মে, ২০২২)
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৭ মে, ২০২২)
মাসজিদ আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া
গত শুক্রবারের খুতবায় ইমাম আলোচনা করেছিলেন, যেকোনো কিছুর শেষ ভালো করার গুরুত্বের উপর। আজকে আলোচনা করলেন এমন একটা বিষয়ের উপর, যেটা ইমাম নিজেই বলে নিলেন যে এটা নিয়ে অনেক মতপার্থক্য আছে, অনেকে এই ধারণাকে ভুল ভাবে ব্যবহার করেন, এমনকি ভুল বুঝে নিজেদের ঈমান-আমলও নষ্ট করে ফেলেন। এ ব্যাপারে শুরুতেই সাবধান করে দিয়ে বললেন, আজকের বিষয় হচ্ছে ক্বদর - বা আল্লাহ তা'য়ালা সবকিছু আগে থেকেই জানেন, অন্যভাবে বললে সবার ভাগ্য আগে থেকেই ঠিক করা আছে -- এই বিষয়টা।
ইমাম একটা হাদিস বললেন যেখানে রাসূল (সা:) সাহাবীদেরকে নাকি বলেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের ভাগ্য বা ক্বদর (অর্থাৎ জান্নাত, জাহান্নাম) ঠিক করা আছে। এই হাদিস শুনে সাহাবীরা নাকি আজকের আমাদের মতোই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। ভাগ্য যদি নির্ধারিত হয়েই থাকে তাহলে আর আমাদের ইবাদত করে কী হবে? আর ভাগ্য যদি নির্ধারিত হয়েই থাকে, তাহলে কোনো ভুল করলে তার জন্য আমাদের আর কি করার আছে? আমাদের দোষ হবে কেন? এইসব প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সা:) নাকি বলেছিলেন, ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে থাকলেও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যার চেষ্টা যেরকম হবে, তার প্রতিফল সেইরকম হবে। কারো চেষ্টা ভালো হলে, আল্লাহ তা'য়ালা তার জান্নাতের পথ সুগম করে দিবেন, আর কারো চেষ্টা খারাপের জন্য হলে, তার খারাপ হওয়ার পথ সহজ হয়ে যাবে। মানুষ হিসেবে আমাদের "ফ্রি উইল" বা ইচ্ছামতো চলার সুযোগ আল্লাহ দিয়ে রেখেছেন, সেটা ব্যবহার করে আমাদের কার ভাগ্য শেষমেষ কী হবে সেটা আল্লাহ তা'য়ালা জানলেও তার জন্য আমাদের দায় এড়ানো যাবে না।
আমাদের কার ভাগ্যে কি নির্ধারিত হয়ে আছে, সেটা বোঝার কিছু লক্ষণ ইমাম এরপর আলাপ করলেন। ইমাম কিছু রেফারেন্স দিয়ে বললেন, যেই ব্যক্তির মধ্যে তিনটা জিনিস বিদ্যমান, ১. এক আল্লাহতে ও তার রাসূলে বিশ্বাস, ২. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করে আর ৩, আল্লাহকে ভয় করে - তার ভাগ্যে জান্নাত আছে ধারণা করা যায়। ইমাম এরপর দান - সদকার গুরুত্ব বোঝাতে বললেন, কারো অন্তরে ঈমান আর কৃপণতা একসাথে থাকতে পারে না। অন্যদিকে একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞানী হয়, কিন্তু তারপরেও "Heedless" বা গাফেল (অর্থাৎ, পাত্তা না দেয়া, আমলে না নেয়া টাইপ) হয়, তাহলে তার ভাগ্য খারাপ - এটা ধারণা করা যায়।
এরপর ইমাম জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্ব দিয়ে বললেন, আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা। আর তার জন্য নিজেরা আলোচনা করা, প্রশ্ন করা, কোনোকিছু নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেটা নিয়ে ইমাম - আলেমদের সাথে কথা বলার উপর জোর দিলেন। শুক্রবারের খুতবা শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য, এর বাইরে 'হালকা' তে গিয়ে আলোচনা শোনা, প্রশ্ন করার উপরও জোর দিলেন। ইমাম বললেন, আজকের দিনে আমরা গুগল বা অনলাইনে কিছু পড়ে নিজে থেকে জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করি। সেটা খারাপ না, কিন্তু অনলাইনে কিংবা বই আকারে এতো বিভ্রান্তিকর সব তথ্য আছে যে, যা পড়তে গিয়ে অনেকসময় মানুষ উল্টো পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। এরপর যেই উদাহরণ ইমাম দিলেন সেটা আমার চমৎকার লেগেছে। আমাদের রাসূল (সা:) সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হয়েও আল্লাহ তা'য়ালা তাঁকে জিব্রিল (আ:)-এর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন, আমাদের রাসুল (সা:) নিজে নিজে শিখে নেননি। আর তাই, নিজেরা পড়ার পাশাপাশি আমাদের জ্ঞানী ব্যক্তি, আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে, জিজ্ঞেস করতে হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন