নতুন করে কয়েকটা জিনিস জানলাম, আগে ভুল জানতাম।

নতুন করে কয়েকটা জিনিস জানলাম, আগে ভুল জানতাম। তাই শেয়ার করছি। নিজেরা ভেরিফাই করে নিও/নিয়েন প্লিজ। এই নিয়মের কারণ অবশ্য আমি জানি না।  

  • কুরআন পড়তে, মুসহাফ ধরতে ওযু করা লাগে না। তবে গোসল 'ফরজ' হলে তা না ধরাই ভালো। বিশেষ করে অনলাইনে কম্পিউটার কিংবা ফোনে কুরআন পড়তে ওযু করা বা থাকা লাগে না। তাই বেশি বেশি কুরআন পড়া উচিত। দিনে ১০ আয়াত, ১ পাতা যার পক্ষে যেইটুকু সম্ভব অর্থ সহ কুরআন পড়া উচিত।  
  • "গোসল করলে ওযু করা লাগে না" - এইটা ভুল ধারণা।  গোসল করার পরও নামাজ পড়ার আগে ওযু করতে হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম 'ফরজ' গোসল। 'ফরজ' গোসলের পর ওযু করা লাগে না। 
  • দুই সিজদার মাঝে নূন্যতম পক্ষে 'রাব্বিগফিরলী ওয়ারহামনি' (অর্থ: আমার রব, আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং  আমাকে রহম করো) পড়তে হবে। 
  •  আমরা 'আল্লাহ' বলার সময় আল্লাহ বলি, আসলে উচ্চারণ হবে "আল্লোহ" অর্থাৎ 'ল' বা লামের উচ্চারণ মোটা হবে, পাতলা না। মুখ গোল করে উচ্চারণ হবে। যেমন আল্লোহু-আকবার হবে, আল্লাহু-আকবার না। সূরা ইখলাস পড়ার সময় "ক্বুলহু আল্লোহু আহ্বাদ" হবে,  "ক্বুলহু আল্লাহু আহ্বাদ" না। তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে যখন আল্লাহ শব্দের আগে 'জের/কাসরা' বা 'এ-কার' থাকবে, তখন কেবল লামের উচ্চারণ পাতলা হবে, যেমন: বিসমিল্লাহ (এই ক্ষেত্রে বিসমিল্লোহ হবে না)
  • "কেউ আত্মহত্যা করলে তার জানাজা পড়া যাবে না, সে জাহান্নামে যাবে। তার জন্য দোয়া করা যাবে না" - প্রচলিত এই ধারণা ভুল। আত্মহত্যা করেছেন এমন সাহাবীর জন্য রাসূল (সা:) দোয়া করেছেন এমন উদাহরণ আছে। তবে এটা ঠিক যে আত্মহত্যাকারীর জানাজায় উনি ইমামতি করেন নাই  - তবে উলামাদের মতে এটা আত্মহত্যা নিরুৎসাহিত করার জন্য, জানাজা পড়া যাবে না সেইজন্য না। 
  • জামাতে, ইমামের পেছনে নামাজের মাঝে গিয়ে কেউ যোগ দিলে তার জন্য শুরু থেকেই নামাজ পড়ছেন - এমনটা হবে। যেমন ৪ রাকাতের শেষ রাকাতে গিয়ে কেউ যদি নামাজ ধরে, ইমাম সূরা ফাতেহা পড়ে (অন্য সূরা না মিলিয়ে) রুকুতে গিয়ে, সেজদা শেষ করে আত্তাহিয়াতু পড়বেন, ঐ ব্যক্তিও তাইই করবেন। তারপর যখন ইমাম  সালাম ফিরালেন, তখন ঐ ব্যক্তি উঠে গিয়ে তার দ্বিতীয় রাকাত (সূরা ফাতেহার সাথে সূরা মিলিয়ে) পড়বে। সেজদা শেষ করে বসে আত্তাহিয়াতু পড়বে (কেননা তার দ্বিতীয় রাকাত পড়া হলো), উঠে যাবে এবং স্বাভাবিক নিয়মেই বাকি ২ রাকাত পড়ে নামাজ শেষ করবে। যদিও সব মিলিয়ে ঐ ব্যক্তি মাত্র ১ রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে পড়লো, মোট ৩ বার বসে আত্তাহিয়াতু পড়লো, তার নামাজ সম্পূর্ণ হবে।      


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ