এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৫ জুলাই, ২০২২) - আশা আর ভয়
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৫ জুলাই, ২০২২) - আশা আর ভয়
মাসজিদ আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া
আজকের খুতবার মূল কথা ছিল, আমরা যেন আল্লাহর রহমত, মাগফেরাত থেকে কখনো নিরাশ না হই। আমরা যত গুনাহই করি না কেন, যেন মনে রাখি, কেবল মাত্র শিরিক ছাড়া আমাদের করা সব গুনাহ থেকে আল্লাহর দয়া ও ক্ষমাশীলতা অনেক বড়। আর তাই আমরা তওবা করে ঠিক পথে ফিরে আসলে আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের মাফ করে দিবেনই।
ইমাম সূরা জুমার (সূরা নম্বর ৩৯, আয়াত ৫৩) উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন, আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর রাসূল (সাঃ) কে বলতে বলছেন, তাঁর বান্দারা যারাই নিজেদের উপর (পাপকাজ করে, সীমা লঙ্ঘন করে) জুলুম করেছে, তারা যেন আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ না হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন, তিনি অতিশয় ক্ষমাকারী, সর্বোচ্চ দয়ালু। এর পর ইমাম সাবধান করলেন, কিন্তু এর মানে এই না যে, আমরা যত গুনাহই করি, আল্লাহ আমাদের বিচার করবেন না। আল্লাহ তা'য়ালা গুনাহ মাফ তখনই করবেন যখন আমরা আগের করা ভুল গুলোর জন্য তওবা করবো আর এখন থেকে সঠিক পথে ফিরে আসার চেষ্টা করবো।
ইমাম বললেন, কুরআন শরীফে আল্লাহ তা'য়ালা যেমন অনেক শাস্তির কথা বলেছেন, একই ভাবে অনেক পুরস্কারের ঘোষণা আর সুসংবাদও দিয়েছেন। সুতরাং, শুধু শাস্তির ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যেমন থাকা যাবে না, অন্য দিকে "আল্লাহ তো মাফ করবেনই" - এই ভেবে নিজের ইচ্ছামতো, খেয়ালখুশি মতো চললে হবে না। এই দুটোর ভারসাম্য রেখে আমাদের সবার চলার চেষ্টা করতে হবে।
এরপর ইমাম আল্লাহর মাফ পাওয়ার জন্য, আশা নিয়ে দোয়া করতে বললেন। বললেন, আল্লাহ দোয়া কবুল তখনই করেন যখন বান্দা বিশ্বাস নিয়ে, আশা নিয়ে একনিষ্ঠ ভাবে দোয়া করে। উদাহরণ দিয়ে বললেন, কুরআনের সূরা ইউসুফে বর্ণনা করা আছে কিভাবে ইউসুফ (আ:) কে কম বয়সে হারিয়ে, অনেক বছর পরেও তাঁর বাবা ইয়াকুব (আ:) আশা ছেড়ে দেননি। পরে ইয়াকুব (আ:) তার আরেক ছেলে, বিন-ইয়ামিনকেও যখন হারিয়ে ফেলেন, যেটা ইউসুফ (আ:) কে হারানোর প্রায় ৩০-৪০ বছর পর [আসলে তার তার অন্য ছেলেরা তাদের দুইজনকেই ফেলে বা রেখে চলে আসে] - তখনও তিনি বিশ্বাস রেখে আল্লাহ'র কাছে দোয়া করে গেছেন। সূরা ইউসুফের (সূরা নম্বর ১২, আয়াত ৮৭) বলা আছে, ইয়াকুব (আ:) তাঁর বাকি ছেলেদের ইউসুফ (আঃ) আর বিন-ইয়ামিন কে খুঁজতে বলছেন, আল্লাহ'র দয়ার উপর নিরাশ হতে বারণ করছেন, আর এও বলছেন যে শুধুমাত্র অবিশ্বাসীরাই (কাফিররা) আল্লাহর দয়ায় নিরাশ হয়। শেষে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর দোয়া কবুল করেন, ইয়াকুব (আঃ) তাঁর দুই ছেলেকেই খুঁজে পান।
ইমাম উপদেশ দিয়ে বললেন, আমরা আমাদের জীবনের যেকোনো বিপদ, সমস্যার সমাধানের জন্য আল্লাহর কাছে বিশ্বাস রেখে, একাগ্রভাবে দোয়া করতে থাকবো, আর অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করতে থাকবো - আজ হোক, কাল হোক - আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের অবস্থা পরিবর্তন করবেনই।
এরপর ইমাম কিছু উপদেশ দিলেন: ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে। বললেন, ঠিক মতো নামাজ আদায় না করলে, ধরে নেয়াই যায় আমাদের বাকি ইবাদতে, যেমন জাকাত আদায় করা ইত্যাদিতে সমস্যা আছে। ইমাম বললেন, পুরুষদের সুযোগ থাকলে অবশ্যই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে।
সবশেষে একটা গল্প বললেন যেটার মূল সারাংশ অনেকটা এইরকম: এক তরুণ [নাম বলেছেন, কিন্তু আমার এখন মনে নাই], কুরআনে হাফেজ, তিনি কম বয়সেই ফিক্ব আর তাফসীরে পন্ডিত ছিলেন, কিন্তু অন্য এক কবির প্রভাবে পড়ে অন্য শহরে চলে যান এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েন। তিনি কবি হিসাবে যথেষ্ট সুনাম করলেও, এতটাই পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েন যে শেষ জীবনে ইসলামে ফিরলেও কেউ তাকে বিশ্বাস করে নাই। এমনকি উনি মারা যাওয়ার পর উনার জানাজায় খুব বেশি মানুষ আসে নাই। কিন্তু উনি মারা যাওয়ার পর উনার লেখা একটা অপ্রকাশিত মর্মস্পর্শী কবিতা পাওয়া যায় যেখানে লেখা ছিল: তিনি আল্লাহ'র দয়ায় বিশ্বাসী আর তার মতো গুনাহ্গারের এছাড়া যাওয়ার আর কোনো জায়গা নাই। ইমাম বললেন, এক হাদিসেও এসেছে, মৃত্যুর সময় কেউ আল্লাহ'র দয়ায় আশা রেখে মারা গেলে তার মাফ পাওয়ার সম্ভবনাই বেশি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন