এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (৫ অগাস্ট, ২০২২) - জাহান্নাম থেকে বাঁচার দোয়া
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (৫ অগাস্ট, ২০২২) - জাহান্নাম থেকে বাঁচার দোয়া
মাসজিদ আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া
সূরা কিয়ামার (সূরা নম্বর ৭৫: আয়াত ৭ - ১৫) রেফারেন্স দিয়ে ইমাম কিয়ামতের দিনের অবস্থা বর্ণনা করলেন। সেদিন মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে যাবে, চাঁদের আলো থাকবে না (কারণ সূর্যের আলো নিভে যাবে), চাঁদ আর সূর্যকে এক করে ফেলা হবে। হতচকিত মানুষ প্রশ্ন করবে আশ্রয় কোথায়? সেদিন কারো কোনো আশ্রয় থাকবে না। একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার কাছেই সবার ফিরতে হবে। ইমাম আরো বললেন, সূর্যের আলো না থাকায়, কোনো দিন-রাত থাকবে না। সবকিছুই মিলেমিশে এক হয়ে 'একদিন' হয়ে যাবে। ইমাম বললেন, এরপর একদল হবে জান্নাতি, আরেকদল জাহান্নামী।এরপর ইমাম জাহান্নামের ভয়ঙ্কর সব বর্ণনা দিলেন।
ইমাম বললেন, আল্লাহ তা'য়ালার সাথে কিয়ামতের দিন যেমন মিটিং হবে, একইভাবে দুনিয়াতেও তাঁকে "মিট" বা সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা আল্লাহ তা'য়ালা করে রেখেছেন। আর তা হচ্ছে ৫ ওয়াক্ত নামাজ। যে নামাজে বান্দা তার রবের কাছে কিয়ামতের দিনে পার পাবার দোয়া করতে পারে। দুনিয়ার চাহিদা মেটানোর জন্যও চাইতে পারে। যেই ব্যক্তি আল্লাহ তা'য়ালার সাথে দুনিয়ার এই 'মিটিং'- এ মনোযোগী হবে, তার জন্য কিয়ামতের দিনের "মিটিং" সহজ হয়ে যাবে।
এরপর ইমাম জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য দুইটা দোয়া বা রাসূল (সাঃ)-র উপদেশ শিখিয়ে দিলেন। এর মধ্যে প্রথমটা দিনের বেলা, আর আরেকটা রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগের দোয়া বা করণীয়। দিনের বেলার দোয়া বা করণীয় হিসাবে ইমাম বললেন, রাসূল (সাঃ) তাঁর প্রিয় সাহাবী মুয়াজকে (রাঃ) (ইয়েমেনে পাঠানোর আগে শেষ উপদেশ হিসাবে) বলেছিলেন: "সব অবস্থায় আল্লাহকে ভয় কোরো, একটা খারাপ কাজের পর একটা ভালো কাজ কোরো যাতে তা আগেরটাকে মুছে দিতে পারে, আর মানুষজনের সাথে (নিজের সবচেয়ে) ভালো ব্যবহার কোরো"। ইমাম মানুষজনের সাথে ভালো ব্যবহারের ব্যাখ্যায় বললেন: অন্যের সাথে সত্য কথা বলা, হক বা অধিকার নষ্ট না করা আর আমানতের খেয়ানত না করা - এর মধ্যে পড়ে।
ইমাম রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওযু করে শোয়া, আয়াতুল কুরসী পড়া, চার "ক্বুল" (সূরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক আর নাস) পড়ার অভ্যাস করতে বললেন; ডান কাতে ঘুমাতে যাওয়ার কথা বললেন। ইমাম বললেন, আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে ইসলামে ঘুমানো একপ্রকার মৃত্যু। পরের দিন জেগে ওঠার কোনো নিশ্চয়তা নাই। তাই মৃত্যুর আগে বেঁচে থাকতে যেমন আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, একইভাবে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও আমাদের প্রস্তুতি নেয়া উচিত। খেয়াল রাখতে বললেন রাতের বেলা আমরা অনেকেই শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ি আর না হয় ইদানিং মোবাইলে বিভিন্ন জিনিস দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি - এটা করা মোটেও ঠিক না। এরপর ইমাম বললেন "সাইয়েদুল ইস্তিগফার" নামে রাসূল (সাঃ)-এর শিখিয়ে দেয়া একটা দোয়া আছে, যেটা প্রত্যেক মুসলিমের মুখস্থ থাকা উচিত, আর জেনে-বুঝে এই দোয়া সকালে, আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে করা উচিত। তার কারণ একটা সহীহ হাদিসে আছে যেখানে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন, এটা সবচেয়ে ভালো 'ইস্তেগফার' (মাফ চাওয়ার দোয়া)। যে ব্যক্তি বিশ্বাস রেখে দিনের বেলা কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দোয়া করবে, সে দিনের বেলা বা রাতে মারা গেলে জান্নাতবাসী হবে।
[সাইড নোট: আমি আগে কখনো "সাইয়েদুল ইস্তিগফার" দোয়ার ব্যাপারে শুনছি বলে মনে পড়ে না, মুখস্ত থাকা তো দূরের কথা। তাই নিজের ও বাকিদের জন্য নেট ঘেঁটে অর্থ সহ দোয়াটা নিচে লিখে দিচ্ছি। আরেকটা কথা: লেখার শুরুর আয়াতের রেফারেন্স ইমাম সম্ভবত দেন নাই, কিংবা আমি খেয়াল করি নাই। পরে আমি প্রয়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমানের লেখা "কোরানসূত্র" বই থেকে "কিয়ামত"-এর চ্যাপ্টার থেকে রেফারেন্সটা খুঁজে বের করেছি। আল্লাহ তা'য়ালা উনাকে বেহেশতবাসি করুন।]
আল্লাহ হুম্মা আন্তা রাব্বি -- [ও আল্লাহ, তুমি আমার রব]
লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা -- [তুমি ছাড়া কোনো 'ইলাহ' (উপাস্য) নেই]
খালাক্বতানী ওয়া আনা আবদুকা -- [তুমি আমাকে বানিয়েছো, এবং আমি তোমার দাস]
ওয়া আনা 'আলা আহ্ব্দিক ওয়া ওয়া'দিকা মাসতাত্ব'তু -- [এবং আমি তোমার (প্রতি দেয়া আমার) অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞা পালনে সাধ্যমতো সচেষ্ট আছি।]
আউযুবিকা মিন শাররি মা সানা'তু -- [আমি তোমার কাছেই আশ্রয় চাই আমার করা খারাপ কাজের অনিষ্ট থেকে]
আবুউ লাকা বিনিই'মাতিকা আ'লাইয়া -- [আমি স্বীকার করছি তোমার নেয়ামত আমার প্রতি]
ওয়া আবুউ বিযামবিই -- [এবং আমি স্বীকার করছি আমার (করা) পাপ]
ফা-গফিরলিই -- [কাজেই আমাকে মাফ করে দাও]
ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরু -যযুনুবা ইল্লা আন্ত -- [কেননা তুমি ছাড়া তো আর কেউ পাপ মাফ করতে পারে না]
শুনে শুনে সাইয়েদুল ইস্তিগফার মুখস্ত করার জন্য: https://youtu.be/xFYhd7VLyRA
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন