এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১২ অগাস্ট, ২০২২) - কেয়ামতের দিন জ্ঞান আর মালের ব্যাপারে প্রশ্ন হবে
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১২ অগাস্ট, ২০২২) - কেয়ামতের দিন জ্ঞান আর মালের ব্যাপারে প্রশ্ন হবে
মাসজিদ আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া
গত শুক্রবারে অন্য আরেকজন ইমাম খুতবা দিয়েছিলেন। যিনি মূলত জাহান্নাম থেকে বাঁচার দোয়ার ব্যাপারে বলেছিলেন, "সাইয়েদুল ইস্তেগফার" সম্পর্কে বলেছিলেন। এই শুক্রবারের খুতবা দিতে এসে ইমাম বললেন, দুই সপ্তাহ আগের খুতবায় তিনি আলাপ করছিলেন কিভাবে কেয়ামতের দিন যে চারটা বিষয়ের উপর সবাইকে জিজ্ঞেস করা হবে তার উপর: জীবন (বা সময়), জ্ঞান, উপার্জন (বা মাল) আর স্বাস্থ্য। সেই খুতবায় তিনি মূলত "জীবন বা সময়" নিয়ে আলাপ করেছিলেন, আর তাই আজকের খুতবায় তিনি পরের গুলো নিয়ে আলাপ করবেন। পরে পুরা খুতবা জুড়ে তিনি 'জ্ঞান' আর 'উপার্জন' নিয়ে আলাপ করলেন।
ইমাম বললেন, যদিও সাধারণ ভাবে বললে দুনিয়াতে থাকাকালীন অর্জিত যেকোনো জ্ঞান আর তার ব্যবহারের উপর আমরা জিজ্ঞাসিত হতে পারি, কিন্তু আলেমদের মতে এই 'জ্ঞান' বলতে নাকি আসলে "ইসলামী জ্ঞান" বোঝানো হয়েছে। মানুষ মাত্রই নাকি আমাদের রবের প্রতি, তাঁর নির্ধারিত দ্বীনের ব্যাপারে আমাদের জানতে হবে, জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মুসলিম হিসাবে এটা আমাদের উপর ফরজ। এই জ্ঞান অর্জন না করার ব্যাপারে ধনী-গরিব, বয়স কোনোকিছুই কোনো অজুহাত হতে পারবে না। আমরা যে যেই অবস্থায়ই থাকি না কেন, নিজের অবস্থায় থেকে আমাদের শেখার চেষ্টা করে যেতে হবে। ইমাম বললেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই একটা বয়সের পর নতুন করে আর কোনো কিছু শেখার চেষ্টা করি না। উদাহরণ দিয়ে বললেন, অনেকেই কোরআন পড়তে পারাটাকেই শেষ ধাপ হিসেবে ধরে নিয়ে বসে থাকি। কিন্তু আমাদের উচিত কোরআন পড়তে পারলে, এরপর সেটা শুদ্ধ করে পড়তে পারার জন্য শেখা (যেটাকে তাজউইদ বলে), এরপর তাফসীর পড়ার চেষ্টা করা। হাদিসের বড় বড় বই পড়তে না পারলেও, নূন্যতম পক্ষে ইমাম নাদুইয়ের সংকলিত ৪০ টা হাদিসের ব্যাপারে পড়া।
ইমাম একটা হাদিস বললেন, যার মূল অর্থ হচ্ছে, অল্প কিছু কাজ (বা ইবাদত) যেটা জ্ঞান নিয়ে করা হয়, সেটা অজ্ঞতা নিয়ে করা অনেক কাজের থেকে ভালো। ইমাম নামাজের মধ্যে আমরা যেইসব সূরা সবসময় পড়ি, বাকি যা পড়ি, ঐগুলোর অর্থ বুঝে পড়ার উপর জোর দিলেন। ইমাম স্মরণ করিয়ে দিলেন, রাসূল (সাঃ)-এর কাছে আসা প্রথম আয়াতই ছিল "জ্ঞান" অর্জনের ব্যাপারে। শুধু তাই না, আল্লাহ তা'য়ালা নিজেই তাঁর রাসূলকে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে শিখিয়ে দিয়েছেন। সূরা তোহা (সূরা নম্বর ২০, আয়াত ১১৪) তে রাসূল (সাঃ) কে দোয়া করতে বলছেন, "রাব্বি জিদনি ইলমা" - হে আমার রব, আমাকে জ্ঞানে বৃদ্ধি করো। ইমাম বললেন, রাসূল (সাঃ) সরাসরি জিব্রিল (আঃ) কাছ থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত শিখেছেন, নিজে শিখে পরে আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। কাজেই, আমাদের প্রত্যেকের উচিত থেমে না যেয়ে, দুনিয়ার অন্য জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ইসলামের ব্যাপারে সবসময় নতুন কিছু শিখার, জানার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।আর এই জ্ঞান শুধু অর্জন করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে - তবেই সার্থকতা।
এরপর ইমাম "মাল" বা উপার্জন সম্পর্কে বললেন। কেয়ামতের দিন আমরা প্রত্যেকেই আমাদের ধন-সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছি, সেগুলো কিভাবে ব্যয় বা ব্যবহার করেছি - সেগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবো। ইমাম হালাল-হারামের বিভিন্ন কম্বিনেশন দিয়ে বুঝিয়ে বললেন, কেউ হালাল উপার্জন করে হারাম পথে সেটা ব্যয় করতে পারে, আবার হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ হালাল কাজে লাগাতে পারে - কিন্তু মনে রাখতে বললেন আল্লাহ তা'য়ালার কাছে শুধু হালাল উপার্জন, হালাল পথে ব্যয় - এই একটা কম্বিনেশনই কেবলমাত্র কবুল হবে। একটা হাদিস বললেন যেখানে রাসূল (সাঃ) নাকি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, হারাম উপার্জনে বেড়ে ওঠা শরীরের কোনো মাংস জান্নাতে যাবে না, জাহান্নামের আগুনই তার স্থান। অর্থাৎ, হারাম উপার্জনের টাকায় খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠা শরীর নিয়ে কেউ মুক্তি পাবে না। ইমাম বললেন, আমরা শুধু নিজেদের জন্য না, নিজেদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে হলেও যেন এই হাদিসকে গুরুত্ব দেই, হারাম উপার্জন - সেটা ব্যবসাতে চালাকি করে হোক, চাকরিতে ফাঁকি দিয়ে হোক, ঘুষ খেয়ে কিংবা ব্যাংকের সুদের টাকায় হোক - এগুলো থেকে এখনই তওবা করে ফিরে আসতে হবে।
[সাইড নোট বা ডিসক্লেইমার: ইমাম কোনো একটা হাদিস দুর্বল বলেছিলেন, কিন্তু কোনটা আমার ঠিক খেয়াল নাই। ইমাম খুতবায় কিছু কঠিন মন্তব্য করেছেন, যেমন কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো মুসলিম পুরুষ ব্যক্তির মসজিদে জামাতে নামাজ না পড়ে বাসায় নিজে নিজে নামাজ পড়লে সেটা আদায় হবে না, ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করা, ব্যবসা করাও সুদের অংশ - ইত্যাদি। এগুলোর কিছু আমি সারমর্মে লিখছি না।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন