এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৬ অগাস্ট, ২০২২): উমর (রাঃ)-এর কাহিনী

এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৬ অগাস্ট, ২০২২): উমর (রাঃ)-এর কাহিনী  
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।

[সাইড নোট: এই শুক্রবারের খুতবা ছিল উমর (রাঃ)-এর জীবনের বিভিন্ন কাহিনীর উপরে। অনেক অবাক করা তথ্য, ঘটনা জানলাম। ইমাম বারবার বলছিলেন, উনি বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল, আরো শুনি। সবশেষে ইমাম এইসব কাহিনী থেকে আজকের দিনে আমাদের কী শিক্ষণীয় সেটা বললেন। সেটা আমি লেখার শেষেই লিখছি। নামাজ শেষে ইমামকে খুতবার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে যখন বললাম, আমি সারমর্ম লেখার চেষ্টা করি, আর তাঁর নোট থেকে রেফারেন্স গুলোর ছবি তুলে নিতে পারি কিনা, উনি উনার পুরা নোট আমাকে দিয়ে দিলেন! এটাও বললেন যে নোটে কিছু হাদিস আছে, যেইগুলো নিয়ে মতভেদ আছে,  আমি যেন সেটা উল্লেখ করি। এখন সেই নোট  দেখে দেখে লিখছি। তবে আগেই বলে নিচ্ছি, লেখা বড় হবে, ধৈর্য আর সময় নিয়ে পড়তে হবে।] 

ইমাম শুরু করলেন বলে যে আরবি জুল-হিজ মাসের শেষে, মতান্তরে মুহাররাম মাসে শেষের দিকে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় খলিফা উমর-বিন-আল-খাত্তাব (রাঃ) আততায়ীর ছুরির আঘাতে খুন হন। ইমাম বললেন,  উমর (রাঃ)-এর এই মৃত্যুও এক আশ্চর্য ঘটনা। কারণ উমর (রাঃ) নাকি সবসময় দোয়া করতেন তিনি যেন মদিনায়, শহীদের মর্যাদায় মৃত্যু বরণ করেন আর তাঁর মৃত্যু যেন কোনো মুসলিমের হাতে না হয়।  তিনি তখন মদিনায় থাকেন, ইসলামের খিলাফতের খলিফা, আমির-উল-মুমিনিন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ইসলামী সাম্রাজ্যের বিপুল বিস্তার ঘটছে। মদিনায় যুদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভবনাই নাই। মদিনায় বেশিরভাগ সবাই মুসলিম। আর তাই,  তাঁর সঙ্গীরা নাকি এই দোয়া শুনে মন্তব্য করেছিলেন, অসম্ভব এই শর্তগুলো পূরণ কী করে হবে? উমর (রাঃ) নাকি হেসে উত্তর দিতেন, আল্লাহর পক্ষে তো এর থেকেও কঠিন কাজ, দোয়া কবুল করা সহজ। আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর ওই দোয়া কবুল করেছিলেন, কারণ আততায়ী পার্সিয়ান (বা ইরানিয়ান) দাস, অমুসলিম, যার নাম: আবু-লু'লুয়া। উমর (রাঃ) ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন।  দিনের আলো তখনো ফুটে নাই, অন্ধকারের মধ্যে আবু-লু'লুয়া তাকে কয়েকবার ছুরিকাঘাত করে, উনি বেহুশ হয়ে যান। তিন দিন পর তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় আবু-লু'লুয়া আরো কয়েকজনকে আঘাত করে খুন করে।  

ইমাম বললেন, রাসূল (সাঃ) নাকি একবার এক স্বপ্ন দেখেছিলেন যে একটা দরজা ভেঙে গেছে, এবং তারপর একটার পর একটা ফিতনা আসছে।  পরে ওই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় নাকি বলেছিলেন, ওই দরজা হচ্ছে উমর (রাঃ), আর দরজা খুলবে না, ভেঙে যাবে, আর ফিতনা কেয়ামত পর্যন্ত আসতে থাকবে। দরজা না খুলে ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিতই নাকি ছিল যে উমর (রাঃ) স্বাভাবিক মৃত্যবরণ করবেন না, খুন হবেন। রাসূল (সাঃ) নাকি আবু-বকর (রাঃ) আর উমর (রাঃ) -র খিলাফতের আরো কিছু ভবিষৎবাণী করেছিলেন, যেগুলো পরে মিলে গিয়েছিলো। 

ইমাম বললেন, রাসূল (সাঃ) সরাসরি উমর (রাঃ)-র অনেক গুণ বর্ণনা করেছেন, প্রশংসা করেছেন। এর কিছু আমরা কমবেশি সবাই জানি।  যেমন, উমর (রাঃ) যেই পথে হেঁটে যান, শয়তান তার উল্টো পথে যায়। কারণ উমর (রাঃ) সবসময় সত্য, সোজা পথে চলছেন, কিন্তু শয়তান তা কখনোই করে না। শয়তান উমর (রাঃ) কে ভয় পায়। অন্য অনেক সাহাবীকে পথচ্যুত করতে চেষ্টা করলেও, শয়তান কখনোই উমর (রাঃ) কাছেও ভিড়তো না। উমর (রাঃ) জিহ্বা আর হৃদয় - সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, ইত্যাদি। রাসূল (সাঃ) নাকি এটাও বলেছিলেন যে, তাঁর পর কেউ যদি নবী হতো, তবে তা উমর (রাঃ)-ই হতেন। উমর (রাঃ)-র প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছিলেন,  উমর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে তাঁরা অনেক শক্তিশালী হয়েছেন, ইসলামের সম্মানের আর কোনো ঘাটতি হয় নাই।   

ইমাম বললেন, উমর (রাঃ) এতটাই  সত্যের উপর প্রতিষ্টিত ছিলেন যে, অনেক সময় তাঁর মত, বা দৃষ্টিভঙ্গি পরে কুরআনের আয়াত দিয়ে প্রতিষ্টিত হয়েছিল। অনেক সময় দেখা গেছে কোনো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, উমর (রাঃ) একটা মত দিয়েছেন, কিন্তু এই ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আসে নাই দেখে রাসূল (সাঃ) সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না, বা অন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন - পরে কুরআনের আয়াত নাজিল হলে দেখা গেলো উমর (রাঃ) -এর মতই ধার্য হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে ইমাম বললেন, কাবা ঘরের পাশে, 'মাকামে ইব্রাহিম' অর্থাৎ যে পাথরের উপরে ইব্রাহিম (আঃ) কাবা নির্মাণের সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই জায়গায় নামাজ পড়ার নিয়ম ছিল না। উমর (রাঃ) মাকামে ইব্রাহীমে নামাজ পড়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন, পরে কুরআনের আয়াত নাজিল (সূরা বাকারা, সূরা নম্বর ২, আয়াত ১২৫) হলে সেটাই ঠিক হয়। আবার বদরের যুদ্ধে যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে কি করা হবে, সেই বিষয়ে আলাপ করার সময় পরামর্শ চাইলে, আবু-বকর (রাঃ) তাঁর স্বভাবসুলভ নমনীয়, দয়ালু হওয়ার মত দেন, কিন্তু উমর (রাঃ) ঠিক তার উল্টো, কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন। রাসূল (সাঃ) আবু বকরের (রাঃ) কথা মতো মুক্তিপণ নিয়ে বন্দিদের ছেড়ে দেন। কিন্তু পরে কুরআনের আয়াত নাজিল (সূরা আনফাল, সূরা নম্বর ৮, আয়াত ৬৯-৭১) হয় যেখানে রাসূলের (সাঃ) সাথে সরাসরি যুদ্ধ করা শত্রুদের ব্যাপারে কঠোর হতে বলা হয়েছে। ইমাম আরেকটা উদাহরণ দিলেন, যেখানে আব্দুল্লাহ-ইবন-উবাই নামে এক প্রকাশ্য মুনাফিক (যারা মুখে ইসলাম কবুল করে কিন্তু আসলে ভেতরে ভেতরে তা মানে না) মারা গেলে রাসূল (সাঃ) তার জানাজা পড়াতে তৈরী হন। তখন উমর (রাঃ)  ওই লোক বেঁচে থাকতে কী কী করেছেন ইত্যাদি উদারণ টেনে রাসূল (সাঃ) -কে বাধা দেন। রাসূল (সাঃ) নাকি সেটা উপেক্ষা করে জানাজা পড়ান। পরে এই ব্যাপারে আয়াত নাজিল হয় (সূরা আত-তাওবা, সূরা নম্বর ৯, আয়াত ৮৪) যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, এমন প্রকাশ্য মুনাফিকদের জন্য জানাজা পড়তে, কবর জিয়ারত করতে, এমনকি দোয়া করতেও নিষেধ করেছেন। উমর (রাঃ) পরে নাকি লজ্জিত হয়ে বলেন, সেদিন তাঁর কি হয়েছিল তিনি জানেন না, কিভাবেইবা তিনি এমন দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন ভেবে তিনি নিজেই অবাক হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।  

এরপর ইমাম উমর (রাঃ)-র শাসক হিসাবে কিছু সিদ্ধান্ত আর কিছু অলৌকিক ঘটনার কথা বললেন। উমর (রাঃ) একজন দক্ষ, ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন।  তিনি যখনই কোনো গভর্নর নিয়োগ দিতেন, তাদের কাছে নির্দেশ থাকতো তারা যেন কোনোভাবেই দামি ঘোড়া না চড়েন, বাহারি কাপড় না পড়েন, খাবার না খান। আর তাদের দরজা যেন গরিবের জন্য সবসময় খোলা থাকে। শর্ত দিতেন, তারা যদি এই নির্দেশনা না মানেন, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। উমর (রাঃ) নিজেও খুব সাধারণ ভাবে চলতেন। খরা বা দুর্ভিক্ষের সময় মাসে একবার মাংস খেয়েছেন, নিজের রুটিতে মাখন বা তেল লাগাতে রাজি হন নাই। রাতের বেলা নিজের চোখে গরিবের কষ্ট দেখার জন্য লুকিয়ে বের হয়ে যেতেন। তালি-দেয়া সাধারণ কাপড় পরে দিনের বেলায় বের হয়ে যেতেন। অনেক সময় তার নিজের সৈন্য বাহিনীর লোকজন তাঁকে দেখে চিনতে পারতো না। হয়তো তাঁর কাছেই খবর নিয়ে যাচ্ছে কেউ, পাশ দিয়ে চলে গেছে, বুঝেই নাই আমিরুল-মু'মিনিন তার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এরপর ইমাম একটা অলৌকিক ঘটনা বললেন:  তখন মিশরে একটা কুসংস্কার চালু ছিল। নীল নদীর পানি নাকি একবছর পর পর শুকিয়ে যেত বা প্রবাহ কমে যেত। আর মিশরের লোকজন তখন তাদেরই কোনো বাবা-মা'র সম্মতিতে একটা বাচ্চা বলি দিয়ে পানি ফিরিয়ে আনার প্রথা চালু করেছিল। ইসলামের মিশর জয়ের পর আমর-ইবন-আল আস গভর্নর হিসাবে নিয়োগ পান। নিয়োগ পেয়ে তিনি এই প্রথা বন্ধ করেন। কিন্তু নদীর পানি কমে গেলে লোকজন তাকে দোষারোপ করা শুরু করে। তখন আমর-ইবন-আল আস উমর (রাঃ) কে ঘটনা জানিয়ে চিঠি লিখেন। উত্তরে উমর (রাঃ) তাঁকে সমর্থন করে চিঠি লিখেন, কিন্তু সাথে আরেকটা কাগজে কিছু একটা লিখে দেন আর সেটা নীল নদীতে ফেলতে বলেন। আমর-ইবন-আল আস সেটা খুলে দেখেন তাতে নীল নদীর উদ্দেশ্যে উমর (রাঃ) লিখছেন, যা অনেকটা এইরকম: আল্লাহর দাস, আমির-উল-মু'মিনিন, উমর-আল-খাত্তাবের কাছ থেকে নীল নদীর প্রতি: যদি তুমি এতদিন ধরে নিজেই বয়ে থাকো, তাহলে বন্ধ হয়ে থাকো। আর যদি আল্লাহ তোমাকে বইয়ে থাকেন, তাহলে আমি আর্জি করছি আল্লাহ'র কাছে, যেন তিনি তোমাকে আবারো বইয়ে দেন। - এই কথা লেখা কাগজ নদীতে ফেলে দেয়ার পরেরদিন থেকেই নাকি নদী আবার জেগে উঠে! 

সবশেষে ইমাম উমর (রাঃ)-এর ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়বিচারের উদারণ দিলেন। তাঁর যে খুনি, আবু লু'লুয়া নামের পার্সিয়ান অমুসলিম দাস - সে নাকি উমর (রাঃ) -র কাছে তার মুসলিম মালিকের বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে এসেছিলো।  সব শুনে উমর (রাঃ) মালিকের পক্ষে রায় দিলে আবু লু'লুয়া সেটা মেনে নিতে পারে নাই। আবু লু'লুয়া ভালো 'ক্রাফ্টসম্যান' বা কারিগর ছিল। এই ঘটনার পর, উমর (রাঃ) একদিন সকালে বাজারে গেলে দেখেন আবু লু'লুয়া তার বানানো (সম্ভবত অস্ত্র, ছুরি ইত্যাদি) যন্ত্রপাতি বিক্রি করছে।  উমর (রাঃ) এগিয়ে গিয়ে তার কাছে জানতে চান, আবু লু'লুয়া তাঁর জন্য কিছু বানিয়ে দিবে কিনা। উত্তরে নাকি সে ইঙ্গিত করে বলেছিলো, সে উমর (রাঃ)-এর  জন্য এমন জিনিস বানিয়ে দিবে যেটার সম্পর্কে সবাই জানবে। এটা শুনে উমর (রাঃ) সাথের লোকজন এই বেয়াদবির, হুমকির ব্যবস্থা নিতে চাইলে তিনি না করেন, কারণ শুধু সন্দেহের বশে কাউকে তিনি শাস্তি দিতে চান নাই! 

ইমামতি করা অবস্থায় ছুরির আঘাতে বেহুশ হয়ে পড়ার পর, পরে যখন উমর (রাঃ) হুশ ফিরে আসে, তখন নাকি তিনি প্রথমেই জানতে চান সেই নামাজ পড়া হয়েছে কিনা। পানি চাইলে সবাই ভাবেন হয়তো তিনি খাবার জন্য চাচ্ছেন, কিন্তু পানি নিয়ে আসলে সবাই বুঝতে পারেন: তাঁর ওযু চলে যাওয়ায় তিনি আসলে ওযুর জন্য পানি চাচ্ছিলেন!

এরপর ইমাম বললেন এইসব কাহিনী থেকে আমরা কী শিখতে পারি? প্রথমতঃ আমাদের জন্য উমর (রাঃ)-র মতো সাহাবীরা আদর্শ। তাঁদের কথা, কাজ, শিক্ষা আমাদের জন্য 'স্ট্যান্ডার্ড' বা মানদণ্ড। কারণ তাঁরা সরাসরি রাসূল (সাঃ) কে মেনে জীবনযাপন করেছেন।  আজকের দিনের কাউকে 'আইডল' মেনে চলার দরকার নাই । আর একটা হাদিস আছে, যেখানে অন্য সাহাবীরা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেসই করে বসেছিলেন যে, তারা তো আবু-বকর (রাঃ) , কিংবা উমর (রাঃ) -র মতো হতে পারবেন না।  তাদের কী হবে? উত্তরে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছিলেন, তারা যাঁদেরকে ভালোবাসেন, তাঁদের সাথেই তারা আখিরাতে বা পরকালে থাকবেন। এই কথা শুনে সাহাবীরা খুব খুশি হয়েছিলেন। কারণ, তারা জানতেন যে তাদের নিজেদের ঈমানে-আমলে সন্দেহ থাকলেও, আল্লাহর রাসূলের (সাঃ)  জন্য তাদের ভালোবাসায় কোনো সন্দেহ নাই। ইমাম বললেন,  আল্লাহর রাসূল (সাঃ), আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ) সহ বাকি সাহাবীরা আমাদের জন্য কী করেছেন, কী আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সম্পর্কে আরো বেশি করে জানার মাধ্যমে আমরা তাঁদেরকে ভালোবাসতে পারি।    

   

  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ