এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২ সেপ্টেম্বর, ২০২২): নিদর্শন, চিন্তা, প্রতিফলন
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২ সেপ্টেম্বর, ২০২২): নিদর্শন, চিন্তা, প্রতিফলন
মসজিদ-আল-জামিয়া, পেনসিলভানিয়া।
ইমামের পুরা খুতবার এক কথায় সারমর্ম ছিল অনেকটা এইরকম: ভাই ও বোনেরা, কুরআন খুলে পড়ুন, আয়াত গুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করুন, আপনার অন্তর খুলে যাবে। ইমাম কুরআনের বিভিন্ন আয়াত, যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বিভিন্ন উপমা বা নির্দর্শনের কথা বলে চিন্তা করতে কিংবা চোখ খুলে দেখতে বলেছেন, সেগুলো উল্লেখ করলেন, আর প্রতিবারই উপরের ওই একই উপদেশ বার বার স্মরণ করিয়ে দিলেন।
ইমাম বললেন কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন (সূরা আল-আনফাল ৮, আয়াত ২) সত্যিকার ঈমানদার বা বিশ্বাসী তারা যাদের সামনে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হলে তারা ভয় পায়, আর যখন তাদের কাছে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, তাদের ঈমান বা বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এবং তারা আল্লাহর উপর ভরসা করে। ইমাম বললেন, আমাদের কুরআন পড়তে হবে, অর্থ বুঝতে হবে আর চিন্তা করতে হবে, তবেই আমরা সেটা অর্জন করতে পারবো।
ইমাম কুরআনের আয়াত (সূরা আন-নাহল, ১৬: আয়াত ৭৯) বললেন যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা প্রশ্ন করছেন, তারা কী পাখিগুলোকে দেখে না, তারা কিভাবে আকাশে নিয়ন্ত্রিত হয়? আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদেরকে আকাশে ভাসিয়ে রাখে না, এতে বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন আছে। ইমাম এর ব্যাখ্যায় বললেন, ডিম ফুটে একটা পাখির বাচ্চা বের হবার কিছুদিন পরই উড়তে শিখে যায়, কে পাখিকে এই ডানা মেলে উড়তে শিখালো? [সাইড নোট: এই আয়াত নিয়ে ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম, এক ধরণের পাখি আছে, যারা সাগরের উপর দিয়ে হাজার মাইল উড়ে গিয়ে পরে ঘুরে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে পারে! এই পথ চিনে ফিরে আসা তারা শিখলো কিভাবে? রেফারেন্স: https://youtu.be/ubwCI1DRyb0 ]
কুরআনের আরেক আয়াত (সূরা আলে-ইমরান, ৩: আয়াত ১৯০) তেলাওয়াত করলেন, যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন, আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের পরিবর্তনে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। অন্য আরেক আয়াত (সূরা আন-নাহল, ১৬: আয়াত ৬৫) তেলাওয়াত করলেন, যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন, তিনি আসমানসমূহ থেকে বৃষ্টি ঝরিয়ে মৃত জমিনকে আবার জীবিত করে তুলেন, নিশ্চই যারা শুনে, তাদের জন্য এতে নিদর্শন আছে। আবার আরেকটা আয়াত তেলাওয়াত (সূরা ফুসসিলাত, ৪১: আয়াত ৫৩) যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন, আমি মহাবিশ্বে আর তাদের নিজেদের মধ্যেই নিদর্শন দেখাবো, যতক্ষণ না তাদের কাছে এটা পরিষ্কার হবে যে এই কুরআন সত্য। ইমাম এইসব আয়াত নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করতে বললেন, বললেন ভেবে দেখতে যে, একজন জন্মান্ধ কিংবা একজন মানুষ যখন চোখ বন্ধ করে হাত দিয়ে খাবার খায়, সে কিন্তু মুখ বাদ দিয়ে নাক দিয়ে খাবার ঢুকিয়ে দেয় না। আবার একটা বাচ্চা যখন জন্মায়, কারো শিখিয়ে দেয়া লাগে না, সেই বাচ্চা কিন্তু ঠিকই মায়ের দুধ খেতে জানে। এই জ্ঞান সে কোত্থেকে পায়?
সবশেষে ইমাম উপদেশ দিলেন, এই যে আল্লাহ তা'য়ালা - যার ক্ষমতা অসীম, তিনি চাইলে সবকিছুই সম্ভব। কারো সন্তান নেই, কারো জীবনে অস্থিরতা আছে বা অন্য কোনো সমস্যায় হতাশাগ্রস্থ - বিশ্বাসীদের জন্য এগুলো সবই পরীক্ষা। একাগ্র চিত্তে, আল্লাহর নিদর্শন গুলো চিন্তা করে, তাঁর অসীম ক্ষমতা স্বীকার করে নিয়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে, তিনি চাইলে সব দোয়া কবুল করে আমাদের সব সমস্যা দূর করতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন