এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২): আল্লাহ তা'য়ালা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২): আল্লাহ তা'য়ালা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক
উইলো গ্রোভ মসজিদ, পেনসিলভানিয়া।
ইমাম একটা আয়াতের (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ২৬) তেলাওয়াত করে খুতবা শুরু করলেন যেখানে আল্লাহ সুবহানুওয়া তা'য়ালা তাঁর রাসূল (সাঃ) কে বলতে বলছেন, হে আল্লাহ, (বিশ্ব-ভ্রম্মাণ্ড, দুনিয়া-আখিরাত সহ) সকল মুলুকের মালিক, আপনার যাকে ইচ্ছা আপনি ক্ষমতা/রাজ্য দেন, যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা নিয়ে নেন, আর যাকে ইচ্ছা সন্মান দেন; আর যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সব কল্যাণ। নিশ্চই আপনি সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। পরে খুতবাতে এই এক আয়াতের উপর আলোচনা করলেন। জীবনে ভালো-মন্দ, বিভিন্ন পরীক্ষা আর এগুলো দিয়ে আল্লাহ তা'য়ালা কী করে আমাদেরকে আখিরাতের জন্য তৈরী করছেন - সেটার উপর রিফ্লেক্ট করলেন।
ইমাম বললেন, আমরা ক্ষমতা বা রাজ্য পাওয়া বলতে আমাদের চারপাশের সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক, ভূমির মালিকানা ইত্যাদির ভিত্তিতে ক্ষমতাবান হওয়া বুঝি। রাসূল (সাঃ) দিক থেকে চিন্তা করতে বললেন, তাঁর উপর যখন কুরআন নাজিল হয়, ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব পড়ে - তখন তাঁর আপাত দৃষ্টিতে এই "ক্ষমতা" পাবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। পারিপার্শিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে তিনি বেঁচে থাকবেন, মুসলিমরা টিকে থাকবে, ইসলামের প্রচার হবে - সেটাই কেউ ভাবে নাই। কিন্তু আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছা অনুযায়ী ইসলাম কয়েক বছরের মধ্যেই আরবের মক্কা-মদিনায় প্রতিষ্টিত হয়ে সারা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লো। রাসূল (সাঃ)-র সন্মান, প্রশংসা, তাঁর নাম উল্লেখ হতেই থাকবে।
ইমাম বললেন যা কিছু ভালো তা আল্লাহ'র তরফ থেকে আসে। আর যা কিছু আমরা মন্দ বলে ভাবি, তাও আল্লাহ'র কাছ থেকে আসে। মু'মিন হিসাবে আমাদের বিশ্বাস ভালো-মন্দ দুইই এক প্রকার পরীক্ষা। ইমাম ব্যাখ্যা করলেন, "পরীক্ষা" বললেই আমরা চিন্তা করি কোনো কর্তৃপক্ষ যে কিনা যাচাই করছে আমরা নূন্যতম মানদণ্ড পার করতে পারি কিনা। আমরা ভাবি, পারলে 'পাশ' আর না পারলে 'ফেল' - এই দুইয়ের বাইরে আসলে কিছু নাই। কিন্তু ইমাম বললেন তাঁর মতে আল্লাহ'র পরীক্ষা একটু ভিন্ন। আল্লাহ অনেকটা একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের মতো, যিনি কিনা পরীক্ষা নেন যাতে করে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা বিষয়টা ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারে, পরবর্তীতে কাজে লাগাতে পারে। ইমামের মতে, আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের পরকাল বা আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করতেই বিভিন্ন পরীক্ষা নেন। অনেক সময় আমরা দুনিয়াতে যা চাই - সেটা দিয়ে, কখনোবা যা চাইনা - সেটা দিয়ে, আবার কখনো যা চাচ্ছি - তা কখনোই না দিয়ে, কিংবা দেরি করে দিয়ে আমাদেরকে আসলে তিনি পরীক্ষা নিচ্ছেন, প্রস্তুত করছেন। ইমাম ভেবে দেখতে বললেন, কখনো খুব 'খারাপ' সময় পার করে এসেছে এমন লোকজনকে দেখে, কিংবা আমরা নিজেরাই নিজেদের আগের খারাপ সময়ের কথা চিন্তা করলে ভেবে অবাক হয়ে যাই, ভাবি যে কি করে পারলাম সেই সময় পার করে আসতে? একটু চিন্তা করে দেখলে আমরা হয়তো এখন বুঝতে পারবো, সেই খারাপ সময় আমাদেরকে আসলে কিভাবে বর্তমানের জন্য তৈরী করেছে।
ইমাম বললেন, ভালো কিংবা আমাদের কাছে যা 'মন্দ' - আমরা না বুঝলেও, দুটোতেই আমাদের জন্য কল্যাণ আছে। এরপর ইমাম উদাহরণ দিয়ে বললেন, কোনো বাচ্চা জন্মালে কেউ হয়তো নতুন বাবা-মা হওয়ায় খুব খুশি, কেউবা বড় ভাই-বোন হওয়ায় খুশি ইত্যাদি, কিন্তু একটা বাচ্চা মানুষ করতে অনেক কষ্ট, অনেক ত্যাগ, অনেক ধৈর্য প্রয়োজন। আর তার উল্টোটাতো আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেই দিয়েছেন (সূরা ইনশিরাহ ৯৪, আয়াত ৫-৬): নিশ্চই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।
ইমাম বললেন, আল্লাহ তা'য়ালা সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি সবকিছুই জানেন। তাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন নেই। কুরআনের আয়াতে (সূরা আল আন'আম ৬, আয়াত ৫৯) আল্লাহ বলেই দিয়েছেন তিনি জলে-স্থলের সবকিছুর ব্যাপারে জানেন। গাছের একটা পাতাও তাঁর অজ্ঞাতসারে পড়ে না। অন্ধকার মাটির নিচে ভেজা কিংবা শুকনা বীজের অবস্থাও তিনি পরিষ্কারভাবে লিখে রেখেছেন। ইমাম বললেন, কিন্তু আমরা মানুষরা মনে করি, আমরাই আমাদের উপর ক্ষমতাবান। যদিও আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের নিজেদের 'ইচ্ছাশক্তি' দিয়ে রেখেছেন, কিন্তু ইমাম মনে রাখতে বললেন আল্লাহ তা'য়ালাই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। ইমাম ভেবে দেখতে বললেন, আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় যেই হৃদপিণ্ডের স্পন্দন - সেটার উপর কি আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?
সবশেষে ইমাম একটা হাদিস বললেন। বললেন এই হাদিস আরবিতে মুখস্ত করতে না পারলেও এর অর্থ মনে গেঁথে নিতে। আরো বললেন, এই হাদিস যেকোনো মুসলিমের "খারাপ" সময়ের জন্য একটা ভ্যাকসিন হিসাবে কাজ করবে। বুখারীর সহীহ হাদিস এটা। রাসূল (সাঃ) বলেছেন যা অনেকটা এই রকম: কোনো অবসাদ, রোগ, মন খারাপ, দুঃখ, ব্যথা কিংবা কষ্ট নাই যেটা একজন মুসলিমের উপর পড়ে, এমনকি সেটা একটা কাঁটার খোঁচাও যদি হয় - যার জন্য আল্লাহ তা'য়ালা তার কিছু গুনাহ মাফ করেন না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন