এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২১ অক্টোবর , ২০২২): সন্মান
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২১ অক্টোবর , ২০২২): সন্মান
মাসজিদ-আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া।
[সাইড নোট: শুরুতেই সাইড নোট লিখে দিচ্ছি, এই শুক্রবার মসজিদে পৌঁছাতে দেরি করে ফেলেছি। পার্কিং না পাওয়ায় অনেকক্ষন ঘুরে যখন মসজিদে ঢুকলাম, ততক্ষনে খুতবার ১০-১৫ মিনিট শেষ। গিয়ে যতটুকু শুনলাম সেটা লিখছি। তবে আগেই বলে নেই, ইমাম কিছু হাদিসের রেফারেন্স দিলেন, যেগুলো মনে নাই, আর শুনেও একটু অবাক হয়েছি। কাজের তাড়া থাকায় নামাজ শেষে উনাকে রেফারেন্স গুলো আবার জিজ্ঞেস করি নাই। সবাই নিজেরা রেফারেন্স খুঁজে যাচাই করে নিবেন, প্লিজ]
ইমাম বললেন আমরা যেন আমাদের ইসলামের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এঁদের সাথে ভালোভাবে ব্যবহার করি। কথা বলার সময় যেন উঁচু স্বরে কথা না বলি। এটা করে আমরা শুধু তাঁদের সন্মান করছি না, আদতে আমাদের রাসূল (সাঃ) কে সন্মান করছি। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, রাসূল (সাঃ) যে শিক্ষা তাঁর সাহাবীদেরকে দিয়ে গেছেন, তাঁদের কাছ থেকে তাদের প্রজন্ম, তার পরের প্রজন্ম এইভাবে হয়ে এখন আমাদের ইসলামের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এঁদের কাছে তা এসেছে। কাজেই এই শিক্ষকদের সন্মান করতে হবে।
মা-বাবাকে সন্মান করার কথা তো কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা সরাসরিই বলে দিয়েছেন। তাদের কেউ বার্ধক্যে পৌঁছালে তাদের সাথে ঠিকমতো ব্যবহার করতে বলেছেন, এমনকি সামান্য 'উফ' বলতেও নিষেধ করেছেন। কাজেই, তাদের সাথে উঁচু স্বরে, রাগ করে কথা বলার তো প্রশ্নই আসে না। ইমাম বললেন, আফসোস, আজকে অনেক সন্তানই তার মাতা-পিতার সাথে শুধু উঁচু স্বরেই না, গালিগালাজ করেও কথা বলে। আমাদের সন্তানদের তাই ছোট বয়স থেকেই আদব-কায়দা শিখাতে হবে।
এরপর বাসায় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, সন্মান দিতে হবে - এই ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা কি সেটা ইমাম আলোচনা করলেন। ইমাম একটা গল্প বললেন যেইখানে এক সাহাবী এসে রাসূল (সাঃ) কে সেজদা করতে চাইলেন। রাসূল (সাঃ) সেটা করতে নিষেধ করে নাকি বলেছিলেন, আল্লাহ তা'য়ালা ছাড়া কাউকে সেজদা করা যাবে না, কিন্তু যদি যেত তবে তিনি স্ত্রীদেরকে তাদের স্বামীদেরকে সেজদা করতে বলতেন! ইমাম বোনদেরকে সম্বোধন করে সরাসরি বললেন, তারা যেন তাদের স্বামীদেরকে সন্মান করে, মেনে চলে। এরপর ইমাম আরেকটা গল্প বললেন যেটা অনেকটা এইরকম: এক মহিলা বাকি সব মহিলাদের পক্ষ থেকে এসে রাসূল (সাঃ) কে নাকি জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি তো আল্লাহ'র রাসূল, আমরা সবাই কি আদম (আঃ) থেকে সৃষ্টি হয় নাই, আপনি কি নারী-পুরুষ উভয়েরই জন্য প্রেরিত রাসূল নন? উত্তরে হ্যাঁ বলায় ওই মহিলা তারপর প্রশ্ন করলেন, তাহলে শুধু পুরুষরাই কেন আপনার সাথে সবসময় থাকবে? তারাই কেন শুধু 'জিহাদ' সহ অন্যান্য কাজে আপনার সাথে যেতে পারবে আর আমরা এই সুযোগ আর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবো? উত্তরে নাকি রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, মহিলাদের জন্য ঘর, সন্তান-সন্ততি সামলানো 'জিহাদ' -এর সমান। এরপর ইমাম বললেন, আমরা যদি ইসলামের নির্দেশনা মেনে আমাদের পরিবার গড়ে তুলি তাহলে আমাদের সন্তানরা আমাদেরকে সন্মান করে চলবে, পরিবারে বেহেশতের সুখ পাওয়া যাবে।
এরপর ইমাম স্মামীদের উদেশ্য করে বললেন, তার মানে এই না যে স্মামীরা তাদের স্ত্রীদের সাথে উঁচু স্মরে, সন্মান না করে কথা বলতে পারবে। কুরআনের রেফারেন্স দিয়ে ইমাম বললেন লুকমান (আঃ) তাঁর ছেলেকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার সময় উপদেশ হিসাবে বলেছিলেন এই দুনিয়াতে যেন দম্ভ ভরে না চলেন আর কারো সাথে কথা বলার সময় যেন নিচু স্বরে কথা বলেন, কারণ গাধার স্বরই সবচেয়ে বিশ্রী। ইমাম বললেন এই উপদেশ সবার জন্যই প্রযোজ্য। স্বামী তার স্ত্রীর সাথে, ভাই তার ভাইয়ের সাথে, যে কেউ অন্য কারো সাথে নিজেকে জাহির করার জন্য যেন উঁচু স্বরে কথা না বলে। একটা গাধার পিঠে যেমন বইয়ের বোঝা থাকলেও তার মাথায় কিছু থাকে না, তেমনি উচ্চ স্বরে কথা বলা মানুষেরও আসলে মাথায় কিছু থাকে না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন