এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (৭ অক্টোবর , ২০২২): আস্তাগফিরুল্লাহ ও অন্যান্য জিকির
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (৭ অক্টোবর , ২০২২): আস্তাগফিরুল্লাহ ও অন্যান্য জিকির
মাসজিদ-আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া।
ইমাম খুতবা শুরু করলেন সূরা আয-যুমার একটা আয়াত (সূরা ৩৯, আয়াত ৫৩) তেলাওয়াত করে যেটা ইমামের মতে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অসম্ভব আশা জাগানিয়া একটা আয়াত। আর অর্থ অনেকটা এই রকম: আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর রাসূলকে (সাঃ) তাঁর হয়ে বলতে বলছেন: বলুন, ও আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছো (অবিচার করেছো), আল্লাহ'র দয়া হতে হতাশ হয়ো না, আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ইমাম বললেন, এর পরের আয়াতেই (সূরা আয-যুমার ৩৯, আয়াত ৫৪) আল্লাহ তা'য়ালা এই গুনাহ বা পাপ মাফের উপায় বলে দিচ্ছেন, তোমরা (মাফ চেয়ে) তোমাদের রবের মুখাপেক্ষী হও এবং আত্মসমর্পণ করো শাস্তি আসার আগেই, (কারণ) এরপর তোমাদেরকে আর সাহায্য করা হবে না!
ইমাম বললেন, একটা সহীহ হাদিস আছে, যেখানে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী, আর তিনি রাসূল (সাঃ) নিজে দিনে কমপক্ষে ১০০ বার (মতান্তরে ৭০ বার) ইস্তেগফার বা মাফ চান। ইমাম বললেন আমাদেরও তাই যত বেশি সম্ভব ইস্তেগফার চাওয়া উচিত। ইমাম বললেন, আমরা যেন আমাদের করা আগের কোনো পাপের কথা চিন্তা করে ভেবে না বসি যে আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের মাফ করবেন না, আমাদের দোয়া কবুল করবেন না। আল্লাহ তা'য়ালা চাইলে সব গুনাহ, পাপ মাফ করতে পারেন, দোয়া কবুল করতে পারেন - আমাদের কাজ শুধু মাফ চেয়ে গুনাহ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করা, নিয়ত করা আর সেই ভুল না করার।
এই প্রসঙ্গে ইমাম একটা গল্প বললেন। মদ হারাম হওয়ার পর নাকি এক সাহাবী তা ছাড়তে পারছিলেন না। অন্য সাহাবীরা প্রায়ই সেই মদ্যপ সাহাবীকে রাসূল (সাঃ)-এর কাছে নিয়ে আসতেন। রাসূল (সাঃ) শরিয়া মোতাবেক তাকে শাস্তি দিতেন। কিন্তু তাও সেই সাহাবী বার বার একই ভুল করতেন। কোনো একবার অন্য এক সাহাবী নাকি বিরক্ত হয়ে বলেই বসলেন যে সেই সাহাবীর উপর আল্লাহর 'লানত' বা অভিশাপ পড়ুক। এটা শুনে রাসূল (সাঃ) নাকি এইভাবে বলতে না করেছিলেন। বলেছিলেন তিনি জানেন যে ওই মদ্যপ সাহাবী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন। ইমাম বললেন, আমরা যদি কাউকে জানি যে কিনা ভুল করছে, তার প্রতি তাই অভিশাপ বা গালি না দিয়ে আমাদের উচিত তার জন্য দোয়া করা। ইমাম বললেন, আমরা প্রত্যেকেই গুনাহগার। আমাদের সব গুনাহ আল্লাহ প্রকাশ করে দিলে লোকে হয়তো আমাদেরকে আর সালামও দিবে না।
ইমাম আমাদের রাসূল (সাঃ) আর ইস্তেগফারের শক্তি বোঝাতে বললেন, আগের অনেক নবী আল্লাহ প্রেরণ করেছেন, যেমন নূহ (আঃ), আদ আর সামুদ সম্প্রদায়ের নবী , যাদের উম্মাহকে তাদের নবীর অবাধ্যতা করায় নবীদের উপস্থিতিতেই আল্লাহ তা'য়ালা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের রাসূল (সাঃ) -র প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন যে রাসূল (সাঃ) বেঁচে থাকতে তাঁর উম্মাহর ধ্বংস হবে না, আর যতদিন তাঁর উম্মাহর কেউ মাফ চাবে, অর্থাৎ ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করবেন না।
এরপর ইমাম ইস্তেগফারের বিভিন্ন উপায় বা দোয়া বললেন। এর মধ্যে একটা আবু বকর (রাঃ) নামাজে কিভাবে দোয়া করতে হবে প্রশ্ন করায় রাসূল (সাঃ) তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ইস্তেগফারের দোয়া আছে সেটা বললেন। আর সব শেষে "সাইয়েদুল ইস্তেগফার" অর্থ সহ বলে দিলেন। সেটার ফজিলত বললেন।
ইমাম সবশেষে সাবধান করে বললেন, আমাদের অনেকেই নামাজ শেষে "আস্তাগফিরুল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "সুবহানাল্লাহ", "আল্লাহু আকবার" - ইত্যাদি জিকির করি। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন মনোযোগ সহকারে, কি বলছি সেটার অর্থ বুঝে এই জিকির গুলা করি। নামাজ যেভাবে "খুশু" সহকারে বা আল্লাহ আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন ভেবে মনোযোগ সহকারে পড়তে হয়, নামাজ শেষে এই জিকির গুলাও যেন আমরা "খুশু" নিয়ে করি। তা যেন শুধু হাতে গোনা সংখ্যা না হয়। ইমাম বললেন আমাদের রাসূল (সাঃ) নিঃশব্দে এই জিকির করার সময়ও মনে মনে না, বরং ঠোঁট, জিহ্বা নাড়িয়ে করতেন। নামাজ শেষে এই অল্প সময়ের মনোযোগ দিয়ে ঠিকভাবে করা ইস্তেগফার, জিকির হয়তো আমাদের আখিরাত পাল্টে দিবে।
[সাইড নোট: 'সাইয়েদুল ইস্তেগফার' নিয়ে ইমাম আজকেও বলেছেন, আগের একটা খুতবায়ও বলেছিলেন। তাই, আজকের লেখায় সেটা আর লিখলাম না। আগের ওই খুতবার লিংক নিচে দিয়ে। দিচ্ছি : https://banglakhutba.substack.com/p/22-08-05 ]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন