এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৮ নভেম্বর, ২০২২): লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ -র তাৎপর্য
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৮ নভেম্বর, ২০২২): লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ -র তাৎপর্য
মাসজিদ-আল-জামিয়া, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া।
ইমাম বললেন আজকের খুতবার আলোচনা হবে শুধুমাত্র "লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ" অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোনো 'ইলাহ' বা উপাস্য নাই [আরবির শব্দের অর্থে, লা - নাই, ইলাহা - উপাস্য, ইল্লা - ব্যাতিত, আল্লাহ - আল্লাহ] - এই কালেমার উপর। পবিত্র কুরআনে নাকি প্রায় ৩৭ বার এই কালেমা বা এর কাছাকাছি অর্থের আয়াতের উদ্ধৃতি আছে। ইমাম চিন্তা করে দেখতে বললেন যে এই এক 'কালেমা'-ই আসলে বিশ্ব-ভ্রমাণ্ড সব কিছু সৃষ্টির কারণ। আল্লাহ তা'য়ালা যুগে যুগে যত নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, সবার এই এক কালেমা 'কমন' ছিল। যেমন, নূহ (আঃ) -র উম্মতের জন্য নাকি ছিল: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নূহ রাসূলুল্লাহ"; একই ভাবে ইব্রাহিম (আঃ), ঈসা (আঃ), মুসা (আঃ) -এর জন্যও নাকি ছিল "লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ, <রাসূলের নাম>, রাসূলুল্লাহ"। আর সব শেষে, আমাদের রাসূল (সাঃ)-এর সময় এসে সেটা হয়েছে, "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুররাসূলুল্লাহ", যার অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল।
ইমাম একটা রেফারেন্স দিয়ে বললেন, সহীহ হাদিস আছে, রাসূল (সাঃ ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি দিনে অন্তত ১০০ বার "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহ্দাহু, লা-শারীকালাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হ্বামদু, ওয়া হুহা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর", এটা সিন্সিয়ারিলি পড়বে -- যার অর্থ অনেকটা এইরকম: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নাই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নাই, সব মূলক/রাজত্ব তাঁর, এবং সব হ্বামদ ( অর্থাৎ ধন্যবাদ ও প্রশংসা) তাঁর, এবং তিনি সব কিছুর উপর কর্তৃত্বশীল -- সে যেন ১০ জন দাস কে আল্লাহর জন্য মুক্ত করার সওয়াব পাবে, তার আমলনামায় ১০০ নেকি লেখা হবে, আর ১০০ গুনাহ মুছে দেয়া হবে, আর সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে রক্ষা পাবে। এমন ব্যক্তি থেকে শুধুমাত্র সেই উপরে থাকবে যে তার থেকেও বেশিবার এটা পড়বে"। ইমাম বললেন, এটা এতো তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কারণ আসলে এর প্রথমে থাকা ওই 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।
এরপর ইমাম স্মরণ করিয়ে দিলেন, ইউনুস (আ:) তিমি মাছের পেটের ভেতর থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন যে দোয়া করে: "লা-ইলাহা-ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনাজওয়ালিমিন" - এই দোয়াতেও প্রথম অংশে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অংশ আছে। ইমাম বললেন, ইউনুস (আঃ)-র উম্মত অবাধ্য ছিল। তাদের উপর বিরক্ত হয়েই ইউনুস (আঃ) তাদের ছেড়ে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা করেছিলেন আল্লাহ'র অনুমতি আসার আগে। এটা ইউনুস (আঃ)-এর ভুল ছিল। তাঁকে যখন তিমি মাছ গিলে ফেলে, তখন মাছের পেটের ভেতর ঘোর অন্ধকারে থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন, ইস্তেগফার করেন আর বার বার ওই দোয়া করতে থাকেন - যার অর্থ: "(হে আল্লাহ!) তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সব মহিমা তোমারই, আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত"। আর এই দোয়ার পরে যখন তিনি মুক্তি পান, যখন তাঁকে দেখে তার অবাধ্য উম্মতরাও তাদের ভুল বুঝতে পারে। আল্লাহ'র নির্ঘাত শাস্তি, ধ্বংস থেকে তারা মুক্তি পায়। তারাও "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে ইস্তেগফার করার কারণেই মুক্তি পায়, মাফ পায়।
ইমাম বললেন, আমরা এই দোয়াটা বেশি বেশি পড়ার আমল করতে পারি। মনোযোগ দিয়ে, অর্থ বুঝে, ইখলাসের সাথে এটা পড়ে আমরাও এর ফজিলত পেতে পারি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন