এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩): বেহেশতের চাবি
এই শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩): বাবা-মা'র জন্য নূহ (আঃ)-এর শেখানো দোয়া
ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, সাউথ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি।
এই শুক্রবার মসজিদে জুমু'আর নামাজের পর দুইজন মানুষের জানাজা পড়ানো হলো। একজন পুরুষ, আরেকজন নারী। দুইজনই কাঠের কফিনে বন্দি, কাবার গিলাফের মতো কালো কাপড়ে সোনালী আর সাদা এম্ব্রোয়ডারী করা সম্ভবত কোনো আয়াত কিংবা দোয়া লেখা কাপড়ে সেই কফিন দু'টো ঢেকে রাখা। মূল দরজা না, মসজিদের পাশের আরেকটা দরজায় চাকা লাগানো আলাদা দুটো ট্রলিতে দুটো কফিন রাখা ছিল। আমি সেই দরজা দিয়েই ঢুকেছি। কফিন গুলোকে পাশ কাটিয়ে আবার পাশের জুতার শেলফে জুতাও রাখলাম। দেরি করে ফেলায় তাড়াহুড়ো করে আসছি, কিন্তু কফিন দু'টো দেখে অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছিলো। মনে হলো, আমাদের এতো ব্যস্ততা, তাড়াহুড়ো, সব কিছুই যেন কত অর্থহীন।
ইমাম যেন অনেকটা কফিন দু'টোকে দেখিয়েই বললেন, আমরা অনেক সময় উপলব্ধি করি না যে কুরআনে অনেক দোয়া আছে, এর মধ্যে নূহ (আঃ) -এর একটা দোয়া আছে, যেটা বাবা-মা'র জন্য। ইমাম বললেন, আমরা যেন আমাদের সন্তানদের কোনোভাবেই এই দোয়া শিখিয়ে না দিয়ে মারা না যাই। তিনিও তাঁর সন্তানদের এই দোয়া শিখানোর চেষ্টা করবেন। সূরা নূহ (সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ২৮) -এ আল্লাহ তা'য়ালা নূহ (আঃ) তাঁর কাছে কী দোয়া করেছিলেন সেটা বলছেন : "রাব্বিগ ফিরলি, ওয়ালী ওয়ালিদাইয়া...": যার অর্থ অনেকটা এই রকম: "ও আমার রব, আমাকে মাফ করুন, ও আমার মা-বাবাকে, ও যারাই আমার ঘরে প্রবেশ করে মু'মিন হিসাবে, ও অন্য সব মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারীকে এবং জালেমদের ধ্বংস ছাড়া অন্য কিছুতে বাড়াবেন না"। এরপর ইমাম বললেন, একটা হাদিসে নাকি আছে যে, কারো মৃত মা-বাবা, যারা বেঁচে থাকতে হ্বজ করতে পারে নাই, তাঁদের জন্য সন্তানরা (নিজেরা হ্বজ করার পর) হ্বজ করতে পারে। ইমাম আরো বললেন, কারো মা-বাবা মারা গেলে সন্তানরা তাঁদের জন্য অতিরিক্ত নামাজ পড়তে পারে, দোয়া করতে পারে। ইমাম বললেন, আমরা নিজেদের জন্য ২ রাকাত নামাজ পড়ার পাশাপাশি, বাবা-মা'র জন্যও ২ রাকাত নামাজ আমরা পড়তে পারি।
এরপর জুমুআর নামাজ পড়ার পর, খুব সংক্ষেপে জানাজার নামাজ পড়ার নিয়ম বললেন। বললেন, ৪ তাকবীরে জানাজার এই নামাজে কোনো আজান, কিংবা একামত নাই, রুকু-সিজদা নাই - দাঁড়িয়েই পড়তে হয়। প্রথম তাকবীর (দুই হাত কান পর্যন্ত তুলে, নাভির উপর দুই হাত নামাজের মতো করে বাঁধতে হবে )- এর পর (সানা আর) সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। [ইমাম বলেন নাই, কিন্তু আমি পরে দেখলাম, এর পরের তাকবীর গুলোতে আর হাত কান পর্যন্ত তুলতে হবে না, বাধাই থাকবে]। এর পর দ্বিতীয় তাকবীরের পর দুরুদ শরীফ পড়তে হবে (যেটা আমরা আত্তাহিয়াতু পড়ার পর পড়ি: আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'য়ালা মুহাম্মদ...)। এর পর তৃতীয় তাকবীরের পর জানাজার দোয়া পড়তে হবে। এরপর চতুর্থ তাকবীরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে হবে। একটা বিশেষ দোয়া আছে, কিন্তু যে যার মতো মনে মনে দোয়া করতে পারে। তারপর ডান আর বামে সালাম ফেরানোর পর বাঁধা হাত ছেড়ে দিতে হবে।
আমরা সবাই পড়লাম, শেষে করার পর ইমাম স্মরণ করিয়ে দিলেন, দাফনে যাওয়ার সময় যেন সবাই ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলেন। [এই দেশে, ফিউনারেল প্রসেশনের গাড়ি গুলো ফ্ল্যাগ বা ট্যাগ লাগিয়ে লাইন ধরে, কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনে, শুধু হ্যাজার্ড লাইট আর মাঝে মাঝে হর্ণ বাজিয়ে লাইন ধরে চলতে থাকে। চৌরাস্তায় বাকিরা সন্মান দেখিয়ে যদিও থেমে যায়, পুলিশও কিছু বলে না, কিন্তু দুর্ঘটনা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে]। তারপর মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন কফিন নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লো, আর বাকি আমরা সবাই আবার জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
[সাইড নোট: জানাজার দোয়াটার, যেটা তৃতীয় তাকবীরের পর পড়া হয়, সেটার অর্থ খুব সুন্দর। আগে একবার সেটা নিয়ে লিখেছিলাম। সেটার লিংক দিয়ে দিচ্ছি: https://banglakhutba.substack.com/p/22-06-05 ]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন