এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৩ মার্চ ২০২৩): ইসলাম, ঈমান আর ইহসান

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৩ মার্চ ২০২৩): ইসলাম, ঈমান আর ইহসান 
ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি 

ইমাম খুতবা শুরু করলেন বলে যে, কুরআনের সূরা আলে-ইমরানে আছে [সূরা নম্বর ৩, আয়াত ১৯] আল্লাহ  তা'য়ালা বলছেন: ইন্না-দ্দিনা ই'ন্দাল্লাহহিল ইসলাম, অর্থাৎ: নিশ্চয়ই আল্লাহ'র কাছে (একমাত্র গ্রহণযোগ্য) দ্বীন (বা জীবন ব্যবস্থা) হচ্ছে ইসলাম। ইমাম জিগ্গেস করলেন, আমরা কী জানি ইসলাম আসলে কী? ইসলাম সম্পর্কে যা জানি বা শিখেছি, সেটা আমরা কোত্থেকে জেনেছি বা শিখেছি? ইমাম আরো জিজ্ঞেস করলেন, ইসলাম প্রবর্তন করেছেন কে, আমাদের রাসূল (সাঃ)? এরপর তিনি খুতবাতে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ও আলোচনা করলেন। 

ইমাম খুব সংক্ষেপে রাসূল (সাঃ) -র প্রথম ওহী প্রাপ্তি,  আবু বকর (রাঃ), ওমর (রাঃ) আর আলী (রাঃ) -র ইসলাম গ্রহণ করার গল্প বললেন। তারপর বললেন তাঁরা যখন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তখন কোনোরকম শর্ত দিয়ে না, বরং সম্পূর্ণ ভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আজকের দিনে আমরা নিজেদের মুসলিম দাবি করি, কিন্তু অন্যান্য কাজ বাদ থাকুক, শুধু  ইসলামের চর্চার ক্ষেত্রেই যে আমরা কতকিছু নতুন তৈরী করেছি - আমরা তা জানিও না। কাউকে এইসব করতে দেখে প্রশ্ন করলে একটা সাধারণ উত্তর পাওয়া যায়, সেটা হচ্ছে আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদিকে আমরা এইসব পালন করতে দেখেছি, কাজেই আমরাও তাই-ই পালন করছি। ইমাম বললেন, আজকের যুগে এসে আপনি যেভাবে ইচ্ছা, যেকোনো মতবাদের অনুসারী হয়ে তথাকথিত "ইসলাম" পালন করতে পারেন, এমনকি নামাজ না পড়ে, কিংবা ওযু না করে, গোসল ফরজ হওয়ার পরেও গোসল না করে নামাজ আদায় করতে পারেন - কেউ কিছু বলতে পারবে না, ইমাম আবারো মনে রাখতে বললেন, কিন্তু মৃত্যুর পর আল্লাহ'র কাছে কিন্তু একমাত্র দ্বীন হিসাবে সত্যিকার ইসলামই কেবল গ্রহণযোগ্য হবে। 

এরপর ইমাম বললেন, ইসলাম দুনিয়ার শুরু থেকে, আদম (আঃ) থেকেই ছিল, যদিও  ইব্রাহিম (আঃ) আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা প্রবর্তন করেন। তাঁর পর অনান্য সব নবী-রাসূলরাই এই একই মেসেজ দিয়ে গেছেন, আর আমাদের রাসূল (সাঃ) সেটা নতুন করে প্রবর্তন করেন নাই, বরং সবাইকে সেটা কিভাবে সেটা ঠিকভাবে পালন করতে হবে, সেটা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। এরপর ইমাম একটা সহীহ হাদিস বললেন, যেখানে জিব্রাইল (আঃ) নিজে সরাসরি মানুষের রূপ ধরে এসে রাসূল (সাঃ) কে ইসলাম-ঈমান- ইহসান আর কিয়ামত সম্পর্কে, এর আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন,  রাসূল (সাঃ) সেইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, আর পরে রাসূল (সাঃ) নিজেই ওমর (রাঃ) কে এই লোকের পরিচয় জিজ্ঞেস করে আবার নিজেই উত্তরে বলেছেন, এটা জিব্রাইল (আঃ)- ছিলেন যিনি এসেছিলেন সবাইকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে [যেটা ইমাম আন-নয়াউই'র ৪০ হাদিস সংকলনের দ্বিতীয় হাদিস, লিংক নিচে দিয়ে দিচ্ছি]।    

সবশেষে ইমাম বললেন, আমাদের বয়স যার যতই হোক না কেন, আমাদের সব সময়ই ইসলাম শেখার চেষ্টা করতে হবে, বেশি বেশি পড়তে হবে। মনে রাখতে হবে যে আমাদের রাসূল (সাঃ) নিজেও ৪০ বছর বয়সেই প্রথম ওহী পেয়েছেন। আর আল্লাহ তা'য়ালার কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রথম ওহী, যার শুরুই ছিল "ইকরা" বা পড়ো! (সূরা আল-আলাক, সূরা নম্বর ৯৬, আয়াত ১-৫)। 

[সাইড নোট:  ইমাম আন-নয়াউই'র ৪০ হাদিস সংকলনের লিংক (ইংরেজি, বাংলা দুটোই আছে) দিলাম: https://sunnah.com/nawawi40। যেই হাদিসের কথা উপরে বলেছি, খুব কম কথায় সেই হাদিসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন: ইসলাম হচ্ছে, আল্লাহর একত্ববাদে আর রাসূল (সাঃ) যে আল্লাহর রাসূল- সেটা ঘোষণা দেয়া, নামাজ পড়া, জাকাত দেয়া, রোজা রাখা আর শারীরিক আর আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলে হজ করা। ঈমান হচ্ছে,  আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবগুলোয়, তাঁর নবী-রাসূলে, কিয়ামতে আর ক্বদর বা ভাগ্যে (সেটা ভালো হোক, আর মন্দ হোক) বিশ্বাস রাখা। ইহসান হচ্ছে, আল্লাহকে এমনভাবে ইবাদত করা যেন আমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছি, আর সেটা না পারলে, নূন্যতম পক্ষে, আল্লাহ আমাকে পাচ্ছেন। এরপর সেই হাদিসে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলা আছে।  খুব ইন্টারেষ্টিং, সেটা নিজেরাই নাহয় দেখে নিবেন। এই হাদিসের আলোচনায় শুনছিলাম, অনেকে বলেন ইসলাম হচ্ছে ভিত্তি, ঈমান তার পরের স্তর আর সবচেয়ে উপরের স্তর হচ্ছে ইহসান। আমাদের সবারই ইহসান পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।]

  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ