এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১০ মার্চ ২০২৩): রমাদান বা রোজা ২০২৩
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১০ মার্চ ২০২৩): রমাদান বা রোজা ২০২৩
ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
ইমাম সূরা বাকারার (সূরা নম্বর ২, আয়াত ১৮৫) আয়াত তেলাওয়াত করে খুতবা শুরু করলেন। যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন, যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "রমাদান হচ্ছে সেই মাস যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানবজাতির পথ প্রদর্শক (বা গাইডেন্স) হিসাবে, এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ যা সঠিক পথ দেখায়, এবং ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী হিসাবে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত (বা সাক্ষী) থাকবে, তারা যেন এইমাসে রোজা রাখে। তবে তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ কিংবা ভ্রমণ করছে, তারা যেন পরে তার দিনগুলো পূরণ করে নেয়। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কষ্টকর করতে চান না। আর এসব কিছু যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো, আর তোমাদেরকে সঠিক পথ বা হেদায়াত দেয়ার জন্য আল্লাহ'র "তাকবীর" বা মহিমা ঘোষণা করতে পারো, যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।" - পরে পুরো খুতবা জুড়ে এই একটা আয়াতের উপর রিফ্লেক্ট বা আলোচনা করলেন।
ইমাম বললেন, কুরআনের অন্যান্য আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, শুধু কুরআন না, তার আগে ইব্রাহিম (আঃ), মুসা (আঃ) এবং ঈসা (আঃ) -র কাছে যে কিতাব এসেছে, তাও এই রমাদান মাসে নাজিল হয়েছে। ইমাম লক্ষ্য করতে বললেন যে কুরআনের বেলায় আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন তা পুরো মানবজাতির জন্য গাইডেন্স বা পথ প্রদর্শক হিসাবে নাজিল হয়েছে। তার পর পরই বলছেন এইমাসের যারা সাক্ষী থাকবে - তারা যেন রোজা রাখে। কাজেই রমাদান মাস, আর এইমাসে রাখা সিয়াম বা রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মহিমাময়: রোজা ছাড়া কুরআন, আর কুরআন ছাড়া রোজা চিন্তা করা যাবে না।
এরপর ইমাম বললেন, কাদের জন্য রোজা না রাখলেও চলবে - সেই আলোচনায় তিনি যাবেন না কিন্তু খেয়াল করতে বললেন তার পরের অংশ, যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন তিনি আমাদের জন্য সহজ করতে চান, কষ্ট বা কঠিনতা চান না। ইমাম বললেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজা মাসে রোজার অজুহাত দেই, অনেক দায়িত্ব বা কর্তব্য পালন করি না, এমনকি হাসিছাড়া মলিন মুখে অনেক সময় গম্ভীর হয়ে বলি "আমি রোজা", যেন খুব কষ্ট হচ্ছে। এটা করা যাবে না। বাকি সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবে চালিয়ে নিতে হবে।
ইমাম বললেন, এর পরের অংশে আল্লাহ তা'য়ালা বলছেন এই রোজা তিনি আমাদেরকে যে হেদায়াত দিয়েছেন, মুসলিম করেছেন - এর জন্য তাকবীর বা তাঁর মহিমা ঘোষণার জন্য, শুকরিয়ার জন্য করতে হবে। ইমাম বললেন, এই আল্লাহর তাকবীর শুধু রোজার সময়ই না - বাকি সব ইবাদতের সময় আমাদের করতে হবে। এই প্রসঙ্গে বললেন, আমরা অনেকেই নামাজের সালাম শেষ করেই উঠে পড়ি, আজকেও জুমুআর নামাজের সালাম ফেরানোর সাথে সাথেই অনেকে হুড়োহুড়ি করে চলে যেতে চাবে, কিন্তু তার পরিবর্তে আমাদের উচিত একটু সময় নিয়ে আল্লাহর তাকবীর করা। যেমন, ৩৩ বার সুহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ আল্লাহু আকবার বলে দুরুদ পড়ে, সম্ভব হলে ৩ ক্বুল সূরা পড়ে দোয়া করতে হবে। এই যে একটু বেশি সময় নিয়ে, যেকোনো ইবাদতের পর আল্লাহ'র তাকবীরে থাকা - এটার ফজিলত অনেক। আমাদের এটা আমল করার চেষ্টা করতে হবে। ইমাম আরো বললেন, এমনকি এই ব্যাপারটা রোজার বেলাও দেখা যায়, যখন রমাদানের রোজা শেষ করার পরেও আমাদের রাসূল পরের মাসে ৬ রোজা রাখার সুন্নত আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন।
আর একটা জুমুআ, আর তার পরেই আমরা সবাই রমাদান বা রমজান মাসে ঢুকবো। আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে যেন এই রমাদান দেখার, সাক্ষী থাকার সুযোগ দেন, এই জামায়াত, এই মসজিদকে যেন রহমত, বরকত দেন এই দোয়া করলেন।
পুনশ্চ: লিখতে ভুলে গেছি। ইমাম আরো বলেছেন, কুরআন রমাদান মাসে নাজিল হওয়া মানে আল্লাহ তা'য়ালা লাওহে মাহফুজে তা একবারে নাজিল করেছেন। পরে ২৩ বছর ধরে ধীরে ধীরে জিব্রাইল (আঃ) -র মাধ্যমে রাসূল (সাঃ) -এর কাছে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে, তা ভেঙে ভেঙে এসেছে। কাজেই, এই রমাদানেই যে কুরআন খতম দিতে হবে, ২ দিনে কিংবা এক রাতে পড়ে শেষ করতে হবে - এমন কোনো কথা নেই। ব্যাপারটা কঠিন না করে সহজভাবে নিতে বললেন, বরং, সারাবছর জুড়ে কুরআন যেন আমাদের সঙ্গী হয় - সে দিকটায় খেয়াল রাখতে উপদেশ দিলেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন