এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৫ মে ২০২৩): আত্মসন্মান, সমষ্টিগত মর্যাদা
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১২ মে ২০২৩): আত্মসন্মান, সমষ্টিগত মর্যাদা
ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
ইমাম বললেন আমরা অনেক সময়ই না-বুঝে, নিজের অজান্তেই নিজেদের চাকরি-বাকরি আর অফিসের বসের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। যেন আমাদের রিজিক তাদের উপর নির্ভর করে, কী ভাবে চাকরিতে উন্নতি করা যায়, কিভাবে বসকে খুশি করা যায় - সেটাই খালি চিন্তা করতে থাকি। অন্যদিকে দেখা যায়, চাকরি থেকে পাওয়া হেলথ ইন্সুরেন্স ভালো হলে অসুখ-বিসুখ নিয়েও ভয় পাই না, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকি। ইমাম বললেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের সময় যখন আসবে, তখন এসবের কিছুই তা থামাতে পারবে না, তখন সবই গৌণ হয়ে পড়বে, এই দুনিয়া ছেড়ে আমাদের চলে যেতে হবে। মুসলিম হিসাবে আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমাদের রিজিক, স্বাস্থ্য এসব কিছুই আল্লাহ তা'য়ালার কাছ থেকে আসে, আমাদের চাকরি, হেলথ ইন্সুরেন্স এইগুলো মাধ্যম মাত্র। ইমাম আরো বলছিলেন, আমাদের আরো বিশ্বাস করতে হবে আমাদের যেকোনো অর্জনই আল্লাহ তা'য়ালার অশেষ নেয়ামত, কখনো যেন আমরা "আমি নিজে করেছি" এইরকম ভেবে না বসি। [এই প্রসঙ্গে অন্য এক ইমামের একটা মন্তব্য শেয়ার করছি: ইমাম বলছিলেন, একটা সহীহ হাদিস আছে, যেখানে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন উনি উনার উম্মতের জন্য বড় শিরকের আশংকা করেন না, কিন্তু ছোট শিরকের আশংকা করেন - আর তা হচ্ছে 'রিয়া'। এই রিয়া হচ্ছে লোক দেখানো বা 'আমিত্ব']
এরপর ইমাম সূরা কাহাফের [সূরা নম্বর ১৮, আয়াত ৩২-৪৪] রেফারেন্স দিলেন, যেখানে দুইজন লোকের কথোপকথন বর্ণনা করা আছে, যেখানে একজনের দুইটি বাগান ছিল, আর সে অহংকার করে অন্যজনকে বলছিলো সে মনে করে তার এই বাগান কোনোদিনও নষ্ট হবে না। তখন অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন করেছিল, "কেন তুমি বললে না 'মাশাআল্লাহু, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'?" - অর্থাৎ, আল্লাহ যা চান (তাই-ই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া আর (কারো) কোনো শক্তি নেই"। পরে শাস্তিস্বরূপ ওই ব্যক্তির বাগান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
ইমাম বললেন আমাদের নিজেদের মর্যাদা বা আত্মসম্মান তখনই আসবে যখন আমরা অন্যের উপর নির্ভর না করে আল্লাহ তা'য়ালার উপর নির্ভর করবো। আর শুধু জমানোর চিন্তা না করে অন্যকে দান করবো। এছাড়াও বললেন, আমাদের চিন্তা করে দেখতে হবে আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল বা গুনাহর কাজ কোনটা। সেটা একেকজনের একেক রকম হবে: কারো হয়তো ঘুষ খাওয়া, কারো হয়তো হারাম চাকরি বা ব্যবসা, কারো জন্য লোক ঠকানো, কারো হয়তো উপার্জনে না, কিন্তু অন্যের সাথে ব্যবহারে কিংবা নিজের কোনো বদ-অভ্যাসের কারণে হচ্ছে। আল্লাহ তা'য়ালার সাথে একান্তে প্রতিজ্ঞা করে আমাদের চেষ্টা করতে হবে তা থেকে বের হয়ে আসতে।আর আমরা যখন এইভাবে প্রত্যেকে এককভাবে আত্মিক উন্নতি করবো, তখন এক পর্যায়ে আমাদের সমষ্টিগত উন্নতি হবে, মর্যাদা বাড়বে।
[সাইডনোট: জুমুআর খুতবাতে দেরি করে পৌঁছেছি। খুতবার মূল অংশ শুনলেও অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে। আর তাই আজকের লেখায় জুমুআর খুতবার মূল অংশ ছাড়াও ভেবেছিলাম কিছুদিন আগে শেখ ইয়াসির ক্বাদী'র একটা লেকচারে শোনা উমাইর (রাঃ) আর সাফওয়ান (রাঃ)- মুশরিক থেকে মুসলিম হওয়ার গল্প, আর এ থেকে শিক্ষণীয় কী - সেটা সংক্ষেপে লিখবো। খুব ইন্টারেষ্টিং ঘটনা, আর তাদের ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনা বা কনভার্সন স্টোরির মতো ঘটনা কিন্তু আজকের দিনেও দেখা যায়! তবে এখন আর লিখতে ইচ্ছা করছে না, খুব শিগগিরই লিখবো ইনশাল্লাহ।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন