আমার হজ্জ্ব-এর অভিজ্ঞতা - ২

আমার হজ্জ্ব-এর অভিজ্ঞতা - ২

শুরুতেই বলে নেই, আমার হজ্জ্ব-এর অভিজ্ঞতা - ১ -এ বন্ধু ইকবাল কমেন্ট করে আরো কিছু পয়েন্ট যোগ করতে বলেছে। সেও এই বছরের হাজ্বী, কাজেই লিখে দিচ্ছি: হাতঘড়ি, ইহরাম ছেড়ে বাকি সময় হাঁটার জন্য একজোড়া স্নিকার বা কেডস জুতা, তাওয়াফ বা সা'ই গগনার জন্য তসবি বা যে কোনো ধরণের কাউন্টার। আর আরেকটা ব্যাপার, আর্লিংটনের সজীব খেয়াল করিয়ে দিয়েছে: চুলের ট্রিমার কিংবা রেজর দিয়ে ইহরাম থাকা অবস্থায় নিজেই  নিজের মাথার চুল কামানো নাকি ঠিক না, অন্য কারো কাছে তা কামিয়ে নেয়া উচিত - এই ব্যাপারটা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন মত আছে। কারো কারো মতে অন্য কারো কাছে মাথার চুল কামানোর সুযোগ না থাকলে নিজেই নিজের মাথার চুল কামানো যায়। যাই হোক, এইগুলো মাসলা-মাসায়েল বা ফিক্ক'র বিষয়, তাও ভাবলাম ব্যাপারটা বলে রাখা ভালো।  

আজকের লেখায় আমি স্থান-ভিত্তিক কিছু টিপস লিখবো ঠিক করেছি। প্রথমে মক্কা, তারপর মিনা, আরাফা, আর সবশেষে মুজদালিফা। তাছাড়াও হজ্জের বাইরে তাইফ আর মদিনায় বেড়ানোর কিছু অভিজ্ঞতা আছে, ঐগুলোর ছবি পোস্ট করে কমেন্টে তার ইতিহাস, কিংবা তাৎপর্য লিখে দিচ্ছি। 

--- মক্কা---

মক্কায় থাকাকালীন হারাম শরীফে প্রতি ওয়াক্তে জামাতে নামাজ পড়ার অনেক গুন বেশি সওয়াব। কাজেই হজ্জে যাওয়ার আগে আপনার হোটেল যেন হারাম থেকে হাঁটার দুরুত্বে হয়, সেটা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট অবশ্য একদম কাছেই একটা হোটেলে আমাদের রেখেছিলেন। প্রতি ওয়াক্তে বেশ ভিড় হয়, কাজেই জামাতের অন্তত ১ ঘন্টা আগে রওনা হলে হারামের ভেতর একতলা কিংবা দোতলায় কাবাকে সামনে রেখে নামাজ পড়ার জায়গা পাওয়া যাবে। একটু দেরি করলে আর সেই সুযোগ পাওয়া যায় না। তখন পুলিশ দোতলা কিংবা তিনতলায় না দিয়ে, সোজা একদম ছাদে পাঠিয়ে দেয়। উপরে উঠতে এস্কেলেটর ব্যবহার না করে "Prayer Entry" সাইনবোর্ড দেখে রাম্প দিয়ে দোতলায় উঠলে ভালো জায়গা পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, হজ্জের আগে কাবার চারপাশে (যাকে মাতাফ বলে) শুধু ইহরাম পড়ে আছেন, উমরাহ করবেন শুধু সেইসব হাজ্জীদেরকে ঢুকতে দেয়। বাকিদের দুইতলা বা তিনতলা কিংবা ছাদে তাওয়াফ করার সুযোগ আছে। 

কাবার হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) কোণ বরাবর উল্টো দিকে সবুজ টিউবলাইট লাগানো আছে - যেটা তাওয়াফ শুরু এবং শেষ নির্দেশ করে। এই জায়গায় এসে সবাই দাঁড়িয়ে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদ বরাবর চুমু দেয়ার ভঙ্গি করা ছাড়াও অনেকে দোয়া করে - বেশ ভিড় হয়। পেছন থেকে লোকজন ধাক্কা দেয়। আবার যাদের তাওয়াফের ৭ চক্কর শেষ, তাদের অনেকেই এই জায়গায় এসে আড়াআড়ি ভাবে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাতেও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। আপনার ৭ চক্কর তাওয়াফ শেষে এই জায়গায় আড়াআড়ি ভাবে না গিয়ে আরেকটু সামনে গিয়ে কোনাকুনি ভাবে বের হতে চেষ্টা করবেন, না হয় সাড়ে ৭ চক্করই দিলেন, সমস্যা তো নাই - কিন্তু বিশ্বাস করুন তাতে অনেক সহজে আপনি মাতাফ থেকে বের হতে পারবেন।  

তাওয়াফের ৭ চক্কর গণনার জন্য আমি শুরুতে ইলেক্ট্রিক কাউন্টার নিয়েছিলাম। যেটা ধাক্কাধাক্কিতে হাতের চাপ লেগে উল্টো ভুল কাউন্ট করে ফেলে। কাজেই ম্যানুয়াল তসবি নিতে পারেন, অথবা আমি "হজ্জের সওগাত" নামের আমার হজ্জের রুমমেট, সিলেটের দরগার ভাইস-প্রিন্সিপাল জনাব মুহাম্মদ আসাদ উদ্দিন সাহেবের নিজের লেখা একটা ছোট বই গিফট পেয়েছিলাম (ছবি দিয়ে দিচ্ছি) - সেখানে প্রতি চক্করে কী দোয়া করতে হবে সেটা লেখা আছে। এই দোয়া গুলো কোনোটাই আসলে "করতেই হবে" - এমন না। শুধু দোয়ার আইডিয়া দেয়ার জন্য দেয়া আছে। আমি এই সাত চক্করের বই হাতে নিয়ে ওই দোয়া গুলোই কাউন্টার হিসাবে কাজে লাগিয়েছি। প্রথমে বইয়ে লেখা দোয়া বাংলায় পড়ে নিয়ে, বাকি সময় আমার মতো করে দোয়া করেছি।

তাওয়াফ করার ভালো সময় হচ্ছে জোহরের পর, আর না হয় এশার নামাজের পর। তখন তুলনামূলক ভাবে একটু কম ভিড় থাকে। আরেকটা জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। অনেক বয়ষ্ক বা অসুস্থ হাজ্জি হুইলচেয়ারে করে তাওয়াফ আর সা'ই করে থাকে। এদের যারা ঠেলে, তাদের অনেকেই খুব অবিবেচক। পেছন থেকে এসে আপনার পায়ে ধাক্কা দিয়ে জখম করে উল্টো আপনাকেই দোষারোপ করবে।  

হারামের বাইরে চারপাশে অনেক টয়লেট আছে। সেগুলো কয়েকতলা আন্ডারগ্রাউন্ড টয়লেট। প্রথম লেভেলে না গিয়ে আরো নিচের লেভেলে গেলে আপনি ভিড় কম পাবেন, টয়লেট গুলোও তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে। তবে মনে করে টয়লেট পেপার আর সাবানের ছোট ছোট টুকরা সাথে নিতে ভুলবেন না। 

---- মিনা ----

মিনার তাঁবুতে, (পরে আরাফার তাঁবুতেও) চেষ্টা করবেন এসি'র বাতাস সরাসরি লাগছে, এমন জায়গা বেছে নিতে। কারণ দুপুরের গরমে,  আর সবাই যখন তাঁবুতে থাকে, তখন তাঁবুর ভেতর অন্য জায়গায় গুলো অনেক গরম হয়ে থাকে। আর ভুলেও তাঁবুর ঢোকার জায়গার আশেপাশে আপনার জায়গা বেছে নিবেন না। কারণ, লোকজন অনবরত তাঁবুতে ঢুকবে আর বের হবে। আপনি হয়তো ঘুমিয়ে আছে, তখন আপনার শরীরে, মাথায়, হাতে পাড়া দিয়েও লোকজন বের হয়ে যাবে। আর স্যান্ডেল তাঁবুর সামনে খুলে রেখে চলে আসবেন না। অন্য কেউ "ভুলে" সেটা নিয়ে চলে যেতে পারে। আপনার স্যান্ডেল সবসময় পলিথিনে ভরে সাথে নিয়ে তাঁবুতে ঢুকবেন। 

মিনাতে অবশ্যই অবশ্যই নিজের তাঁবুর নম্বর মোবাইলে ছবি তুলে রাখবেন, গুগল ম্যাপস-এ গিয়ে লোকেশন পিন বসিয়ে রাখবেন। এই তাঁবুতেই আপনি বেশ কয়েকদিন থাকবেন। জামারাতে পাথর মেরে, মিনার তাঁবুতেই ফিরে আসতে হবে। আর মিনার শত শত তাঁবু দেখতে সব একরকম। তাই, একবার পথ হারালে খুঁজে বের করা খুব কঠিন। আর সব সময় আইডি গলায় ঝুলিয়ে তাঁবু থেকে বের হবেন। কতজন যে তা না করে পথ হারিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁবু খুঁজে বেড়ায় - তার হিসাব নাই। 

মিনা থেকে জামারায় পাথর মারতে যাওয়ার জন্য হেঁটে না গিয়ে ওদের নতুন হওয়া মনোরেল চড়তে পারেন। এই ট্রেনে চড়তে কোনো টাকা লাগে না। ট্রেনে উঠতে একটু ভিড় ঠেলে যাওয়া লাগে, কিন্তু তাতে একবার উঠে গেলে আপনার ৪-৫ কিলোমিটার আর হেঁটে যাওয়া লাগবে না। 

--- আরাফা'র ময়দান  ---

আরাফাতে সারাদিন একটাই কাজ - দোয়া করতে হয়। এইদিন অনেকে আরাফার পাহাড়ে উঠার চেষ্টা করে। কিন্তু আরাফার পুরা প্রান্তরই দোয়া কবুলের জায়গা। কাজেই নিজের তাঁবুর আশেপাশেই দাঁড়িয়ে দোয়া করতে পারেন। আরাফার ময়দানে এখন অনেক নিম গাছ আছে (সত্যি-মিথ্যা জানি না, জনশ্রুতি আছে যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাকি এইগুলো সৌদি সরকারকে গিফট করেছিলেন), সেগুলির ছায়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া করতে পারেন। অবশ্যই সাথে ছাতা রাখবেন। এইদিন আপনার খুব একটা বিশ্রাম হবে না। কাজেই তার আগেরদিন মিনাতে যতটুকু সম্ভব ঘুমিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা উচিত। একটা সাইড নোট: আরাফার রোদের তাপে আর গরমে আমার সত্যি সত্যি মনে হয়েছে: এই গরমই সহ্য হচ্ছে না, আর কেয়ামতের দিন যখন আল্লাহ'র ছায়া ছাড়া আর কিছু থাকবে না - সেদিন আমরা কী করে তা সহ্য করবো?!

আরাফার টয়লেটের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ থাকে। কাজেই ঐদিন যেন কোনোভাবেই কারো পেট খারাপ না হয়, যতটুকু সম্ভব টয়লেটে কম যাওয়া লাগে, সেভাবে প্রস্তুতি নেয়া উচিত। অনেকে কম কম খেয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। 

--- মুজদালিফা ---

আরাফা থেকে সন্ধ্যায় যখন মুজদালিফায় রওনা হতে হয় - তখন যদি সম্ভব হয়, হেঁটে যাওয়াই ভালো। কারণ, অনেক বাসের ভিড়ে প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম হয়। সব হাজ্জী যেহেতু একই গন্তব্যে যাচ্ছেন, কাজেই আন্দাজ করতেই পারছেন কী অবস্থা হয়। অল্প জায়গা যেতেই ঘন্টার পর ঘন্টা লেগে যেতে পারে। আমি এটা জানতাম না। না জেনে বাসে উঠেছিলাম। সিটের তুলনায় বেশি মানুষ থাকায়, সারাপথ দাঁড়িয়ে থেকে প্রায় ৫ ঘন্টা লাগিয়ে মুজদালিফায় ফজরের আজানের একটু আগে পৌঁছেছিলাম। নিয়ম যেখানে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন, আমি সহ অনেকেই সেই রাত বলতে গেলে বাসে কাটিয়েছি। আমার সব এনার্জি সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো। 

--- জামারায় পাথর মারা ---

১০ জিলহজ মুজদালিফা থেকে ভোরে বড় জামারায় পাথর মারার উদ্দেশ্যে হেঁটে রওনা হতে হয়। সব হাজ্জিরাই যেহেতু একই উদ্দেশ্যে বের হন, এইদিন প্রচন্ড ভিড় হয়। কাজেই ভোর হওয়া মাত্র বের হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ দেরি হলে, ভিড়ের কারণে খুব ধীর গতিতে যেতে যেতে যখন মাথার উপর রোদ উঠে যায়, তখন অবস্থা অসহনীয় হয়ে পড়ে। আর জামারায় পাথর মারার জন্য দেয়ালের কাছাকাছি এসেই পাথর না মেরে, একটু সামনে গিয়ে তারপর পাথর মারার জায়গা খুঁজে নিলে সুবিধা হয় - তখন ভিড়ের চাপ একটু কম হয়। পাথর মেরে এরপর সবাই মক্কায় "তাওয়াফ-আল-ইফাদা" করতে যায়। এইসময় কোনো ট্যাক্সি কিংবা বাস পাওয়া যায় না - পুরো ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটেই যেতে হয়। কাজেই আগে থেকেই মনে মনে তৈরী হয়ে নেয়াটা খুবই জরুরি। এর আগে কুরবানী হয়ে যাওয়ার পর মাথার চুল কামিয়ে (মহিলারা একটু কেটে) ইহরাম ছেড়ে সাধারণ কাপড় পড়ে নিতে হয়। মক্কায় ফিরে তখন পুলিশ সবাইকেই কাবার চারপাশে 'মাতাফে' তাওয়াফ করতে দেয়। 

আমি রাত ১ টার দিকে এই তাওয়াফ-আল-ইফাদা করেছিলাম। সেইদিন কাবা ছুঁতেও পেরেছি! সেই রাতের তাওয়াফ টা যে কত ইমোশনাল ছিল - তা লিখে বুঝাতে পারবো না। মিনা-আরাফা-মুজদালিফার কষ্টের পরে আল্লাহ যেন এই তাওয়াফ রেখেছেনই হাজ্জীদের সান্তনা দেয়ার জন্য। তখন মনে হয়েছিল, বাকি সব কষ্ট সার্থক হয়েছে! 

--- আবারো মিনা --- 

মূল হজ্জের পর, ১১-১২ জিলহজ তারিখ আবারো মিনায় তাঁবুতে থাকতে হয়। এটা সুন্নত। যদিও তখন অনেকেই তখন মক্কায় হোটেলে থাকেন। এই দুইদিন প্রতিদিন জোহরের পর (মাগরিবের আগে) তিন জামারাতেই ৭ টা করে মোট ২১ টা পাথর মারতে হয়। কাজেই প্রথম দিন মিনা থেকে জামারা, পরে আবার জামারা থেকে মিনায় তাঁবুতে ফিৱে আসতে হয়। এই দুই সময়ই মনোরেলে চড়বেন, হেঁটে যাওয়ার কোনো দরকার নাই। পরের দিন মনোরেলে করে মিনা থেকে জামারা তে গেলেও, এরপর জামারা থেকে মক্কায় যাওয়ার সময় ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটেই যেতে হয়।  কিন্তু এই দুই দিন  সত্যি বলতে মিনায় থাকতে থাকতে একসময় মনে হয় সময় যেন আর কাটছে না। কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য ইসলামী বই, কুরআন ইত্যাদি সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত। আর নাহয় দেখবেন হজ্জের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে, ইহরাম খুলে সাধারণ কাপড় পরে ফেলে আপনি অন্য হাজ্জীদের সাথে কারণ ছাড়াই দেশের রাজনীতি, কিংবা ফালতু কোনো টপিক নিয়ে আলাপ করে সময় নষ্ট করছেন। 

সবশেষ কিছু টিপস: নানান ধরণের মানুষ আপনার হজ্জের সঙ্গী হবেন। সবার সাথে চলতে গিয়ে অন্যদের সবকিছু আপনার পছন্দ হবে না। হজ্জে গিয়েও দেখবেন অনেকে ঝগড়া করছে, অনেক অসম্মানজনক মন্তব্য করছে, এমনসব আচরণ, কান্ডকারখানা করছেন যা দেখে হয়তো আপনি অবাক হয়ে যাবেন - কিন্তু এইসবকিছু মেনে, শরীরের চামড়া মোটা করে, অনেক ধৈর্য ধরে আপনাকে চলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আপনি নিজেই যেন দলের সেই "অসহ্য ব্যক্তি" না হয়ে যান। হজ্জের অন্য কষ্টের চেয়ে এই চ্যালেঞ্জটা মোটেও কম কষ্টের না!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ