এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৮ জুলাই ২০২৩): আল্লাহ'র রাস্তায় খরচ
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৮ জুলাই ২০২৩): আল্লাহ'র রাস্তায় খরচ
ইমাম শিবলী । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
[সাইড নোট: আমি খুতবার একদম মূল ভাষ্যটা সংক্ষেপে লিখে পরের অংশে আজকে এশার নামাজের পর হওয়া 'হালকার' আলোচনাটা লিখবো। সেটা এক ধরণের 'ওয়াসওয়াসা' বা শয়তানের কুমন্ত্রণা সম্পর্কে। এ থেকে বাঁচতে কী করণীয় সে সম্পর্কে একটা হাদিসের আলোকে ইমাম আলোচনা করেছেন - সেটা লিখবো, ইনশাআল্লাহ ।]
ইমাম বললেন, কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের মানুষদের অর্থ-বিত্তের প্রতি 'হুব' বা ভালোবাসার কথা সরাসরি বলেছেন [সূরা আল-ফাজর: সূরা নম্বর ৮৯, আয়াত ২০]। ইমাম বললেন, আর এই ভালোবাসা এতটাই তীব্র যে আমরা টাকা-পয়সা একদমই খরচ করতে চাই না। আমরা কেবল তখনই খরচ করি, যখন টাকার বিনিময়ে আমরা যেটা পাবো, সেটা আমাদের কাছে টাকার চেয়েও দামি - বা অন্য অর্থে টাকার চেয়েও সেটা আমাদের কাছে বেশি পছন্দনীয় কিংবা সেটা আমরা বেশি ভালোবাসি। ইমাম মজা করে বললেন, কোনো স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছে টাকা চাইলে কি সে না দিয়ে থাকতে পারে? কারণ, তার স্বামী তার স্ত্রীকে টাকার চেয়েও বেশি ভালোবাসে! এরপর ইমাম বললেন, আমরা যদি দাবি করি আমরা আল্লাহ আর তার দ্বীনকে সবচেয়ে ভালোবাসি, তাহলে আল্লাহর রাস্তায়, দ্বীনের স্বার্থে আমাদের টাকা-পয়সা খরচ করা উচিত। এরপর ইমাম মসজিদের ওয়াকফ ফান্ডে টাকা দান করার আহ্বান করলেন।
একটা হাদিস বললেন, যেটা আমার এখন ঠিক খেয়াল নাই - কিন্তু সেই হাদিসে সালমান-আল-ফারেসী (রাঃ)-র কথা বললেন। সালমান-আল-ফারেসী পারস্যের লোক ছিলেন। ইমাম বললেন, সালমান-আল-ফারেসী (রাঃ) রাসূল (সাঃ) কে না দেখে, শুধু তাঁর সম্পর্কে জেনে, ইসলামের খোঁজ না পেয়েই, সত্য দ্বীনের খোঁজে, দ্বীন আর আল্লাহ'র রাসূল (সাঃ) কে ভালোবেসে এতটাই ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি ইহুদি বণিকের দাসত্ব মেনে নিয়েছিলেন। শেষমেষ যখন রাসূল (সাঃ) তাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করলেন - তখন বাকি সাহাবারা সবাই তাঁকে নিজেদের বাসায় নিতে চাইলেও, রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, সালমান-আল-ফারেসী তাঁর 'আহলুল বাইত' - বা তার সংসারের/ঘরের লোক - এই বলে নিজের ঘরে জায়গা দিয়েছিলেন। ইমাম এটাই বলতে চাইলেন, আল্লাহর রাস্তায়, আল্লাহকে খুশি করতে কেউ যখন দান-খয়রাত করে, ত্যাগ স্বীকার করে - তখন তাঁর মর্যাদা অনেক বেড়ে যায়।
------
এশার নামাজের পর হালকার বিষয়বস্তু: একধরণের ওয়াসওয়াসা - ইমাম সাফওয়ান ঈদ, মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন
-----
ইমাম বললেন, তাঁকে কেউ একজন এই প্রশ্নটা করেছেন, আর তাই তিনি উত্তরটা আলোচনা করতে চান, যেন সবাই উপকৃত হয়। বললেন, ধরা যাক, কেউ এক ঘন্টা আগে ওযু করেছে। সেটা তার মনে আছে আর এরপর আসরের সময় হয়ে যাওয়ায় সেই ওযুতে সে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে গেলো। কিন্তু দাঁড়ানোর পর তার মনে সন্দেহ হলো (একধরণের ওয়াসওয়াসা) যে, তার কি কোনো কারণে ওযু চলে গিয়েছিলো? গ্যাস বের হয়ে গিয়ে ওযু নষ্ট হয়ে যায় নাই তো? এখন তার করণীয় কি? সে কি নামাজ ভেঙে ফেলবে, নাকি পড়বে?
ইমাম বললেন, একটা সহীহ হাদিস আছে, যেটা খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু পাওয়ারফুল - যেটা আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর আর করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিবে। হাদিসটা হচ্ছে [হাদিস নং ১১, ইমাম আন-নয়াউইর সংকলিত ৪০ হাদিস, লিংক নিচে দিয়ে দিচ্ছি], যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "যা সন্দেহের কারণ, সেটা যা নিশ্চিত সেটার জন্য ছেড়ে দাও [বা বদলিয়ে ফেলো]"। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে যেহেতু ওই ব্যক্তি নিশ্চিত যে তিনি আগে ওযু করেছিলেন, কিন্তু পরে ওযু ভেঙে যাওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত নন, তার সন্দেহ আছে - কাজেই তিনি তার ওযু আছে ধরে নিয়েই নামাজ পড়ে ফেলবেন, নামাজ ভেঙে আবার ওযু করার দরকার নাই।
এরপর ইমাম বললেন, কিন্তু কারো ওযুর সুযোগ থাকলে ওযু করে নিতে পারেন। কিন্তু নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় আর নামাজ ভেঙে ওযু করার দরকার নাই। এরপর যেটা বললেন, সেটা আমার চমৎকার লেগেছে। বললেন, [সম্ভবত আরেকটা হাদিসে আছে]: কোনো মুসলিম কোনো গুনাহ করলে তার মনে হয় তার মাথার উপর একটা পাহাড় ঝুলে আছে, আর অন্য দিকে কোনো মুনাফিক গুনাহ করলে সেটা সে মুখের সামনে থেকে মাছি তাড়ানোর মতো মনে করে - অর্থাৎ পাত্তা দেয় না, আমলে নেয় না বা ভুলে যায়। বললেন, যদিও গ্যাস বের হয়ে গিয়ে ওযু ভেঙে যাওয়া কোনো গুনাহর বিষয় না, তবুও কারো কোনো কারণে যদি ওযু ভেঙে যায় - সেটা মনে রাখতে হবে, মাথায় রেকর্ড করে রাখতে হবে, ভুলে গেলে চলবে না। আরো বললেন, যেহেতু ওযু করা অবস্থায় আমরা একটা আত্মিক পবিত্র অবস্থায় চলে যাই, তখন আমরা খেয়াল রাখি ওযু যেন ভেঙে না যায়, এমনকি ওযু করা অবস্থায় অন্য কেউ গীবত করলেও আমাদের অস্বস্তি লাগে। সে হিসাবে, গুনাহ করে সেটা স্বীকার করে আমরা যেমন তোওবা করে পবিত্র হই, একইভাবে ওযু চলে গেলে সেটা মনে রেখে পরে ওযু করে নিয়ে পবিত্র হতে হবে। আর ওযু করার সময়, আস্তে আস্তে, সময় নিয়ে ওযু করা উচিত, যাতে এমনকি হাত-পা মসেহ করার কথা মনে থাকে - ওযু যে করলাম, সেটা মনে নিশ্চিত থাকে। তাহলেই এই ধরণের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি মিলবে।
হাদিস নং ১১, ইমাম আন-নয়াউইর সংকলিত ৪০ হাদিস, লিংক: https://sunnah.com/nawawi40:11
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন