এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩): আল্লাহর সাথে থাকা

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩): আল্লাহর সাথে থাকা 
ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি 

এই শুক্রবারের খুতবার মূল বিষয় ছিল: "আল্লাহ সাথে থাকা"  - আল্লাহ'র এই সাথে থাকার ধারণা, কুরআনে এই উক্তির ব্যবহার ও তার কনটেক্সট, এর মানে কী, কি করলে কারো সাথে আল্লাহ থাকবেন - এই ব্যাপারে কুরআনের রেফারেন্স দিয়ে আলোচনা । 

ইমাম কুরআনের দুইটা ঘটনার উদাহরণ দিয়ে "মা'আ" বা আল্লাহ'র সাথে থাকার উদাহরণ দিলেন। প্রথম ঘটনা যখন মুসা (আঃ) তার কাওমের লোকজন নিয়ে লোহিত সাগরের পাড়ে দাঁড়ালেন। পেছনে থেকে ফিরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী আক্রমণ করছে, এমন অবস্থায় মুসা (আঃ)'র সাথীরা বলাবলি শুরু করলো যে তারা ধরা পড়ে গেছেন, বাঁচার আর উপায় নাই। তখন মুসা (আঃ)'র আত্মবিস্বাসী উত্তর কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা নাজিল করেছেন, আর অর্থ অনেকটা এইরকম (সূরা আশ-শুয়ারা, সূরা নম্বর ২৬, আয়াত ৬২): "কক্ষনোই না, নিশ্চয়ই আমার রব আমার সাথেই আছেন, তিনি শীঘ্রই আমাকে পথ দেখবেন"।

দ্বিতীয় ঘটনা: যখন রাসূল (সাঃ) তাঁর সঙ্গী আর বিশ্বস্ত বন্ধু আবু বকর (রাঃ) কে নিয়ে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় কুরাইশদের হাত থেকে বাঁচতে পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন, কিন্তু কুরাইশরা ঠিকই বুঝে গেলো আর তাঁদের খুঁজতে পাহাড়ে উঠলো; তখন আবু বকর (রাঃ) রাসূল (সাঃ) কে আশংকা নিয়ে বলছিলেন, তারা শুধু একটু নিচের দিকে তাকালেই আমাদের দেখে ফেলবে। তখন রাসূল (সাঃ) আবু বকর (রাঃ) কে যে উত্তরটা দিয়েছিলেন, আল্লাহ তা'য়ালা সেটা কুরআনে নাজিল করে সংরক্ষণ করেছেন (সূরা তাওবা, সূরা নম্বর ৯, আয়াত ৪০'র অংশবিশেষ), যার অর্থ: : "চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন"। 

ইমাম বললেন, আলেমরা এই "আল্লাহ সাথে থাকার" সুবিধা ৩ ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: ১) শত্রুর সাথে মোকাবিলায় বিজয়, ২) ভয়-ভীতি-আশংকা থেকে সুরক্ষা আর ৩) সঠিক পথ প্রদর্শন। ইমাম বললেন, মুসা (আঃ) আর আমাদের রাসূল (সাঃ)'র উত্তরের পটভূমি চিন্তা করলেই এই তিনটা বিষয় খেয়াল করা যায়। 

এরপর ইমাম বললেন, আল্লাহর সাথে থাকাটা দুইভাবে চিন্তা করা যায়। প্রথমটা হচ্ছে তিনি সাথে আছেন এই অর্থে যে তিনি সবকিছু জানেন, শোনেন এবং দেখেন। আল্লাহ তা'য়ালার কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়। আল্লাহ তা'য়ালা নিজেই কুরআনে এই ব্যাপারে বলেছেন (সূরা মুজাদিলা, সূরা নম্বর ৫৮, আয়াত ৭), যার অর্থ: "আপনি কি দেখেননি যে আল্লাহ আসমান ও জমিনের সব বিষয় সম্পর্কে অবগত? কোনো তিন ব্যক্তির মধ্যে গোপন কোনো আলোচনা নাই যেখানে আল্লাহ তাদের চতুর্থ হিসাবে থাকেন না, আর না পাঁচ জনের মধ্যে যেখানে তিনি ষষ্ঠ, না তার কম বা বেশি, তিনি তাদের সাথেই আছেন যেখানেই তারা থাকুক না কেন। তারপর বিচারের দিন আল্লাহ তাদের অবহিত করবেন তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে জানেন"। আর আরেকটা সাথে থাকা হচ্ছে সাহায্যকারী, অভয়প্রদানকারী আর পথ প্রদর্শনকারী হিসাবে সরাসরি কারো সাথে থাকা। 

এরপর ইমাম বললেন, আমাদের সাথে আল্লাহ'র এই দ্বিতীয় প্রকার 'সাথে থাকার' জন্য আমাদের কী করতে হবে। ইমাম বললেন, সেটাও আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলে দিয়েছেন। সেটা মূলত তিন ভাবে: ১) সবর বা ধৈর্য্য ধারণ করার মাধ্যমে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন (সূরা বাকারা, সূরা নম্বর ২, আয়াত ১৫৩'র অংশবিশেষ), "ইন্নাল্লাহা মা'আ সোয়াবেরিন" যার আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। [সাইডনোট: পুরা আয়াতটার অর্থ আরো সুন্দর : হে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা (আল্লাহ'র কাছে) সাহায্য চাও ধৈর্য আর সালাতের মাধ্যমে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন]।২) মুত্তাকী হিসাবে বা আল্লাহকে ভয় করে চলে কথা-কাজ-ব্যবহার করার মাধম্যে। আর ৩) মুহসিন হিসাবে বা 'ইহসান'-র সাথে জীবনযাপন করে। আর 'ইহসান' হচ্ছে ঈমানের পরের স্তর যেখানে আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করতে হয় যেন আমরা  আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছি, আর সেটা চিন্তা করা সম্ভব না হলে, অন্তত আল্লাহ আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন - এমনভাবে তা'র ইবাদত করতে হবে। 

সবশেষে, ইমাম আমরা যেন এই ৩ ধরনের আমল ঠিকভাবে করে এমনভাবে চলতে পারি যেন আল্লাহ আমাদের সাথে থাকেন - এই দোয়া করলেন।                

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ