এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৮ ডিসেম্বর, ২০২৩): আল্লাহ তা'য়ালার প্রতিশ্রুতি

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৮ ডিসেম্বর, ২০২৩): আল্লাহ তা'য়ালার প্রতিশ্রুতি
ইমাম শিবলী । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি  

ইমাম বললেন, আমরা যখন কুরআন তেলাওয়াত করি, আমরা শেষে বলি: সাদাকাল্লাহুল আজিম - এই কথার অর্থ কি? এর অর্থ হচ্ছে, "আল্লাহ সর্বশক্তিমান সত্য বলেন"।  আমাদের রাসূল (সাঃ) কে আল্লাহ তা'য়ালা সরাসরি আদেশ করেছেন বলতে [সূরা আলে-ইমরান, সূরা নম্বর ৩, আয়াত ৯৫'র প্রথম অংশ]: "ক্বুল, সাদাকাল্লাহু", যার অর্থ  "বলুন, আল্লাহ সত্য বলেছেন"। ইমাম বলেন, আল্লাহ সত্য, তিনি সত্য আয়াত নাজিল করেন, তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। 

এরপর ইমাম বললেন, নবী-রাসূলদের স্বপ্ন এক প্রকার ওহী। তাঁরা সত্য স্বপ্ন দেখতেন। এরপর একটা উদাহরণ দিয়ে বললেন, রাসূল (সাঃ) যখন হিজরতের পঞ্চম [অথবা ষষ্ঠ, আমার ঠিক খেয়াল নাই ইমাম কোনটা বলেছেন] বছরে, মদিনায় থাকা অবস্থায় স্বপ্নে দেখলেন যে তাঁরা মক্কায় কাবা তাওয়াফ করছেন, মাথা মুন্ডিয়েছেন - তখন অবস্থার বিবেচনায় সেটা প্রায় অবাস্তব ছিল। সেই বছর যখন তাঁরা কাবায় যেতে চাইলেন, কুরাইশরা কোনোভাবেই তাদের ঢুকতে দিবে না। তখন পরে যখন হুদাইবিয়ার সন্ধি হলো, সিন্ধান্ত হলো সে বছর উমরাহ না করে তাঁরা ফিরে যাবেন, সেটা মুসলিমদের জন্য একপ্রকার পরাজয় ছিল। ওমর (রাঃ) তো নাকি রাসূল (সাঃ) কে বলেই বসলেন যে আপনি না স্বপ্নে দেখেছেন আমরা কাবা তাওয়াফ করছি, মাথা মুন্ডিয়েছি, তাহলে? উত্তরে নাকি রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, হে ওমর, আমি তো বলিনি [বা দেখিনি] যে এই বছরেই তা করছি। এরপর আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনের আয়াত নাজিল করেন [সূরা আল-ফাতাহ, সূরা নম্বর ৪৮, আয়াত ২৭] যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য করে দেখিয়েছেন তাঁর রাসূলকে সত্য স্বপ্ন, নিশ্চয়ই তোমরা মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে, ইনশাআল্লাহ [যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন], (তোমাদের কেউ কেউ) মাথা মুন্ডিয়ে, (কেউ কেউ) চুল ছোট করে, নিরাপদে আর কোনো ভয় না পেয়ে। বস্তুত তিনি জানেন যা তোমরা জানো না, আর তোমাদের জন্য বিজয় নির্ধারিত, সন্নিকটে।" -- আর এর পরের বছর সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল, রাসূল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের আগেই মুসলিমদের নিয়ে কাবা তাওয়াফ করেছিলেন, উমরাহ করেছিলেন।

ইমাম এরপর, ওই সূরার পরের দুই আয়াত নিয়ে বললেন [সূরা আল-ফাতাহ, সূরা নম্বর ৪৮, আয়াত ২৮]: "তিনিই আল্লাহ যিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন দিক নির্দেশনা দিয়ে আর সত্য ধর্ম [দ্বীন] দিয়ে, যাতে করে সেটা অন্য সব ধর্মের উপর বিজয়ী হয়, আর তিনিই [তাঁর এই প্রতিশ্রুতির] সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট।" ইমাম বললেন, কাজেই ইসলাম বিজয়ী হবেই। সেটা শুধু ফিলিস্তিনের গাজায় না, বরং সারা দুনিয়াজুড়ে। আল্লাহ'র প্রতিজ্ঞা কখনো ভঙ্গ হয় না। হয়তো আমি, আপনি আমাদের জীবদ্দশায় তা দেখে যাবো না, কিন্তু একদিন তা প্রতিষ্ঠিত হবেই।

এরপর ইমাম পরের আয়াতের [আয়াত ২৯] রেফারেন্স দিয়ে বললেন: আল্লাহ রাসূল (সাঃ) আর তাঁর সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন, যার অর্থ: "মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। আর যারা তাঁর সাথে আছে, তারা কাফিরদের [অবিশ্বাসীদের] বিরুদ্ধে কঠোর কিন্তু নিজেদের মাঝে সহানুভূতিশীল/নরম।" [আয়াতের এর পরের অংশ ইমাম উল্লেখ করেন নাই, তাতে সাহাবাদের আরো বৈশিষ্ট্য বলা আছে, তাঁদের চেহারায় কিভাবে তা ফুটে উঠে]। 

ইমাম সব শেষে বললেন, কেউ যখন আল্লাহ তা'য়ালার সাথে ইবাদতের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে, তাদের চারটা বৈশিষ্ট থাকে। ১. তাঁদের অন্তরে নূর বা আলোতে পরিপূর্ন থাকে। ২) সেই নূর তাদের চেহারায় ফুটে উঠে। লোকজন তাদের দেখলেই বুঝতে পারবে যে তাদের মধ্যে প্রশান্তি আছে। ৩) তাদের রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ করে দিবেন। ইমাম পরিষ্কার/ব্যাখ্যা করলেন, এই রিজিক মানে যে  টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত তা না; হয়তো অর্থ কষ্টে থাকবে কিন্তু এদের উপার্জন, সন্তান-সন্ততিতে আল্লাহ বারাকা দিবেন, সুখ দিবেন। ৪) এরা তাদের চারপাশের মানুষদের কাছে পছন্দনীয় হবে। 

[সবশেষ: ইমামের বলা এই চার বৈশিষ্টের রেফারেন্স খুঁজতে গিয়ে ইউটুবে আরেকটা ভিডিও পেলাম। চারটা চিহ্ন যেটা দিয়ে বোঝা যাবে আল্লাহ আমার-আপনার উপর খুশি আছেন কিনা, তার উপর। শেয়ার করছি: https://youtu.be/KF3BhTGNBiI?si=SY3314pOV966lKBn ]


   

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ