এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩): বিপদে, পরীক্ষায় সান্তনা ইমামের নাম জানি না । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩): বিপদে, পরীক্ষায় সান্তনা
ইমামের নাম জানি না । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি

[ডিসক্লেইমার: আমি খুতবা শুনে যতটুকু মনে করতে পারি, পরে বাসায় এসে ইন্টারনেট ঘেঁটে রেফারেন্স বের করে নিজের মতো করে লিখি। আমার শোনার ভুল হতেই পারে। তারচেয়ে বড় কথা, আমি কুরআনের আয়াতের যে বাংলা লিখি, সেটা ভাবার্থ। সেটাই যে শুদ্ধ অনুবাদ বা সঠিক তা ভেবে নেয়া কখনোই ঠিক হবে না। তাই, নিজেরা যাচাই করে নেয়ার অনুরোধ থাকলো।]

ইমাম পুরা খুতবা জুড়ে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে বললেন গাজায় চলা ঘটনায় আমরা কিভাবে সান্তনা খুঁজতে পারি, কিভাবে আশাবাদী হতে পারি। ইমাম শুরু করলেন বলে যে, আল্লাহ সূরা বাকারায় বলছেন, সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন, [সূরা নম্বর ২, আয়াত ১৫৪]: "যারা আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে তাদের তোমরা মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না"। একই কথা আবারো আল্লাহ বলছেন, সূরা আলে-ইমরান [সূরা নম্বর ৩, আয়াত ১৬৯]: "কখনো মনে করো না যারা আল্লাহর পথে মারা গেছে যে তারা মৃত, বরং তারা তাদের রবের সাথে জীবিত আছে, তাদের রিজিক দেয়া হচ্ছে।" ইমাম বললেন, গাজায় যারাই মারা যাচ্ছেন, তারা কেউই মৃত না বরং তারা শহীদ। 

ইমাম বললেন, সূরা আল-মূলক-এ [সূরা নম্বর ৬৭, আয়াত ১- ২], আল্লাহ বলছেন: "বড় বরকতময় তিনি, যার হাতে 'মুলুক' [বিশ্ব-ভ্রমাণ্ডের কর্তৃত্ব] এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন তোমাদের মধ্যে আমলে কে উত্তম। তিনিই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল"। ইমাম খেয়াল করতে বললেন, আল্লাহ তায়ালা "মৃত্যু" সৃষ্টি করেছেন - এই ব্যাপারটাকে জোর দিয়ে বললেন, আমাদের ঈমান, বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করার জন্যই আল্লাহ তা করেছেন। এরপর ইমাম সূরা আল-আনকাবুতের রেফারেন্স দিয়ে বললেন [সূরা নম্বর ২৯, আয়াত ২], আল্লাহ বলছেন: "মানুষ কি মনে করছে যে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে শুধু এই কারণে যে তারা বলে 'আমরা ঈমান এনেছি' আর তাদের কোনো পরীক্ষা করা হবে না?"  ইমাম বললেন সূরা বাকারায় আল্লাহ এই পরীক্ষার ব্যাপারে আরো বলছেন [সূরা নম্বর ২, আয়াত ১৫৫]: "নিশ্চয়ই আমরা পরীক্ষা করবো একটু ভয় এবং ক্ষুধা আর সম্পত্তি, জীবন আর ফসলাদির ক্ষতি দিয়ে আর সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের"। 

ইমাম বললেন এরপরও যখন তিনি গাজাসহ অন্যান্য জায়গায় মুসলিমদের আর সাধারণ মানুষদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন দেখেন কিন্তু কিছুই করতে পারেন না তখন যখন খুব অসহায় লাগে, তখন তিনি কুরআনের আয়াতে সান্তনা খুঁজে পান। আল্লাহ সূরা ইব্রাহীমে বলেছেন [সূরা নম্বর ১৪, আয়াত ৪২]: "কখনো মনে করো না আল্লাহ জালিমদের [যারা সীমালঙ্ঘন করছে] আমলের [কৃতকর্মের] ব্যাপারে গাফিল [উদাসীন/লক্ষ্য করছেন না]। তিনি শুধুই তাদের অবকাশ দিচ্ছেন সেই দিন পর্যন্ত যেদিন [ভয়ে] তাদের চোখ স্থির হয়ে যাবে।" ইমাম সূরা আশ-শুয়ারা'র রেফারেন্স দিয়ে বললেন [সূরা ২৬, আয়াত ২২৭], আল্লাহ বলছেন: "এবং যারা জুলুম করছে, খুব জলদিই তারা জানতে পারবে যে তারা কোথায় প্রত্যাবর্তন করছে"। ইমাম বললেন, তারা যদি এখনই এই জুলুম বন্ধ করে তওবা না করে, তাহলে শেষ মুহূর্তে ফিরাউনের মতো মাফ চেয়ে, আল্লাহকে স্বীকার করে লাভ হবে না।  ফিরাউনের শেষ কথা কুরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, এতো প্রমাণ দেখার পরও বিশ্বাস না করে, জুলুম বন্ধ না করে যখন মুসা (আঃ) আর তার সঙ্গীদের তাড়া করে পানিতে লোকজন নিয়ে ফিরাউন নামলো, তখন পানিতে ডুবে যাওয়ার ঠিক আগে সে বলে [সূরা ইউনুস, সূরা নম্বর ১০, আয়াত ৯০]: "আমি বিশ্বাস [ঈমান আনলাম] করি সেই সত্তা ছাড়া আর কোনো ইলাহ [মাবুদ] নাই যাকে বনি-ইসরাইলিরা বিশ্বাস করে, আর আমি মুসলিমদের [আত্মসমর্পনকারীদের] অন্তর্ভুক্ত"।

সবশেষে ইমাম বললেন, জালিমদের রুখতে আমাদের শুধু সাহস না বরং জ্ঞান আর বুদ্ধি আরো বাড়াতে হবে। আর মুসলিম নেতা, কিংবা নন-মুসলিম নেতাদের উপর ভরসা না করে আমরা শুধুই আল্লাহ'র উপর ভরসা করবো। 

[সবশেষ: কয়েকদিন আগে সূরা মায়েদা'র [সূরা ৫, আয়াত ৫১] একটা আয়াত পড়ছিলাম। এই আয়াতটার ব্যাপারে অনেকে একটু অস্বস্তিতে পড়েন, আমিও যার ব্যতিক্রম না। যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা সরাসরি বলছেন: "ও যারা বিশ্বাস করেছো, ইহুদি আর খ্রিস্টানদের তোমরা 'আউলিয়া' হিসাবে নিও না, তারা তো একে অপরের "আউলিয়া'। যারা তাদের 'আউলিয়া' হিসাবে নেয় তারা তাদেরই একজন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের সত্য পথ দেখান না।" আর এই 'আউলিয়া' শব্দের অর্থ নিয়েই যত মতভেদ। 'আউলিয়া' মানে পরম বন্ধু, আবার রক্ষকও হতে পারে। পরম ক্ষমাশীল আল্লাহ তা'য়ালা কী করে মুসলিমদের তারই বান্দাদের আরেকজনকে পরম বন্ধু, "আউলিয়া" বানাতে না করতে পারেন?! গাজায় নির্বিচারে চলা হত্যাযজ্ঞে এই আয়াতের অর্থ মনে হয় এর থেকে ভালো করে আর বুঝতে পারতাম না। ] 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ