এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১২ জানুয়ারী, ২০২৪): রজব মাস ও একটা হাদিস ইমাম শিবলী । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১২ জানুয়ারী, ২০২৪): রজব মাস ও একটা হাদিস
ইমাম শিবলী । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি 

ইমাম বললেন আল্লাহ তা'য়ালা যেমন বছরের কোনো কোনো দিন কিংবা রাতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, একই ভাবে বছরের কোনো কোনো মাসকেও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ করেছেন, ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামী ক্যালেন্ডারে বছরের চার মাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর রজব মাস সেই চার মাসের প্রথমটা যেটার মধ্যে দিয়ে আমরা এখন যাচ্ছি [সেই শুক্রবার, কিংবা তার পরেরদিন থেকে রজব মাস শুরু হয়েছে]। এর পরের মাস গুলো হলো: শা'বান, রামাদান, শাওয়াল। আর সেই হিসাবে আর মাত্র ৬০ দিন পরেই রোজার মাস, রামাদান শুরু হতে যাচ্ছে। 

ইমাম বললেন, সূরা আত-তাওবা [সূরা নম্বর ৯, আয়াত ৩৬]- এ আল্লাহ তা'য়ালা বছরের চারমাস যে পবিত্র, সেটা বলেছেন [এর বেশি ইমাম আর বললেন না!]। ইমাম এই পবিত্রমাসে বেশি বেশি ইবাদত করার মাধ্যম্যে, নিজেদের আত্ম-উপলব্ধি করার মাধ্যমে আল্লাহ'র সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে উপদেশ দিলেন, আল্লাহ'র তাকওয়া [আল্লাহ'র ভীতি, কিংবা আল্লাহ আমাদের দেখতে পাচ্ছেন এই বিশ্বাস] বাড়াতে বললেন। 

এরপর ইমাম বললেন, আল্লাহর তাকওয়া সম্পর্কে একটা সহীহ হাদিস আছে। সাহাবী আবু আব্বাস আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এই হাদিসটা বর্ণনা করেন। তিনি বয়সে ছোট ছিলেন, সম্পর্কে রাসূল (সাঃ )'র চাচাতো ভাই। এই হাদিসে তিনি একবার উটে চড়ে রাসূল (সাঃ)'র পেছনে বসে যাচ্ছিলেন, রাসূল (সাঃ) তখন তাঁকে বেশ কিছু উপদেশ দেন। এই উপদেশগুলোই পরে ইমাম নাওয়ায়ির ৪০ হাদিসের ১৯ নম্বর হাদিস হিসাবে সংকলিত হয়। ইমাম বললেন, এই হাদিসটা কী তিনি সেটা আজকে আর বলবেন না। একটু লম্বা হাদিস, তিনি আমাদেরকে সেটা পরে দেখে নিতে বললেন।  

[সাইডনোট: ইমাম যেহেতু বলেন নাই, আমিও সারমর্মে সেই উল্লেখ করা সেই আয়াত আর হাদিসটা আর লিখলাম না। নিচে রেফারেন্স দিয়ে দিচ্ছি, দেখে নিবেন প্লিজ। সেইদিন কাজের এক কলিগকে নিয়ে জুমুয়াতে গেছি। পৌঁছাতে দেরি হলেও একসাথে যাওয়ায় ভালো লেগেছে। আর ফিরে এসে ঐদিন স্কুলের বন্ধু মানিকের শেয়ার করা একটা দোয়া পেলাম। আমাদের রাসূল (সাঃ) নাকি রজব মাসে বেশি বেশি করে এই দোয়াটা করতেন। সেটা এইখানে লিখে দিচ্ছি: শব্দের অর্থে লিখছি যাতে মুখস্ত করতে কিংবা বুঝতে সুবিধা হয়:

"আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা, ওয়া শা'বানা ওয়া বাল্লিগনা রমাদান"  - অর্থ: হে আল্লাহ আমাদের বরকত দাও রজব মাসে, এবং শাবান মাসে  আর আমাদের রমাদানে [হায়াতে বাঁচিয়ে] পৌছাও।

আল্লাহুম্মা - ও আল্লাহ
বারিক - বারাকাত [বা বরকত, সমৃদ্ধি]
লা না - দাও আমাদেরকে
ফি - মধ্যে
রজব - রজব মাসে
ওয়া - এবং
শা'বানা - শাবান মাসে
ওয়া - এবং
বাল্লিগ না - পৌছাও আমাদের
রামাদান - রোজা বা রমাদান মাসে

লিংক:
সূরা আত-তাওবা, সূরা নম্বর ৯, আয়াত ৩৬: https://quran.com/9/36
ইমাম নাওয়ায়ির ৪০ হাদিসের ১৯ নম্বর হাদিস: https://sunnah.com/nawawi40:19

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ