এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৬ জানুয়ারি, ২০২৮): উপলব্ধি না করা চার নিয়ামত ইমাম ফোদে । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৬ জানুয়ারি, ২০২৮): উপলব্ধি না করা চার নিয়ামত
ইমাম ফোদে । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি
ইমাম খুতবা শুরু করলেন এই বলে যে আল্লাহ তা'য়ালার দেয়া চারটা নেয়ামতের কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। আমাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মানুষ আছে, যারা এই চারটা নেয়ামতের কথা উপলব্ধি করে শোকরানা আদায় করে। এরপর পুরা খুতবা এই চারটা নেয়ামতের কথা এক এক করে ব্যাখ্যা করলেন।
১. আমাদের জন্ম বা সৃষ্টির নেয়ামত: ইমাম বললেন, আমাদেরকে যে আল্লাহ তা'য়ালা সৃষ্টি করেছেন, এইটা বিরাট একটা নিয়ামত। তিনি চাইলে আমাদের 'কিছুই না' নামক অন্ধকারে রেখে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, এই দুনিয়ার আলোয় জন্ম দিয়েছেন। আর এই প্রথম নেয়ামত-এর পরেই আমরা বাকি অন্য সব নেয়ামত পাচ্ছি। কাজেই, আমাদেরকে সৃষ্টি করার জন্য আল্লাহ তা'য়ালার শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
২. হেদায়াত কিংবা পথ প্রদর্শনের নেয়ামত: ইমাম বললেন, আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সৃষ্টি করেই ছেড়ে দেননি। তিনি যুগে যুগে নবী-রাসূল আর ওহী পাঠিয়ে আমাদের পথ দেখিয়েছেন, গাইড করেছেন। এই হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালা। ইমাম কুরআনের রেফারেন্স দিয়ে বললেন, আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী রাসূল (সাঃ) কে বলেছেন, [সূরা আল-কাসাস, সূরা নম্বর ২৮, আয়াত ৫৬], যার অর্থ অনেকটা এই রকম: তুমি নিশ্চয়ই যাকে ভালোবাসো তাকে হেদায়াত (পথ প্রদর্শন) করতে পারো না, বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান, আর তিনি খুব জানেন কারা সৎপথ প্রাপ্ত"। কাজেই এই যে আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের মুসলিম করেছেন, হেদায়াত দিয়েছেন - এর জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
৩. রিজিক বা অন্নের নেয়ামত: এরপর ইমাম বললেন, আল্লাহ তা'য়ালা এই পৃথিবীর জীব-জন্তু সহ মানুষের রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন।আমাদের জন্মের পর যখন আমরা নিজেদের জন্য কিছু করার জন্য অপারগ ছিলাম, তখন থেকে শুরু করে, বড় হওয়ার পর আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা, বেঁচে থাকার জন্য আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করাও আল্লাহ'র নেয়ামত। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে, পথ প্রদর্শন করেই শুধু ছেড়ে দেন নাই, বেঁচে থাকার সব উপকরণও এই পৃথিবীতে দিয়ে দিয়েছেন।
৪. স্বাস্থ্যের নেয়ামত: ইমাম বললেন, সুস্বাস্হ্য যে কত বড় নেয়ামত, অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা উপলব্ধি করি না। আর এই শরীর-মনের সুস্বাস্থ্যও আল্লাহ তা'য়ালা দিয়েছেন। ইমাম বললেন, কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, তাহলে ঔষধ-পথ্য, ডাক্তারের কাজ কি? [সম্ভবত কোনো আলেম উত্তর দিয়েছেন]: রোগীর রোগ হওয়া ডাক্তারের রিজিকের উপায়। নিশ্চয়ই ডাক্তারের চিকিৎসা, ঔষধ সুস্থ হওয়ার মাধ্যম কিন্তু পেছনে থেকে আল্লাহ তা'য়ালাই সুস্থতা দিচ্ছেন। তাঁর অনুমতি না থাকলে সব ডাক্তাররা মিলিত হয়েও চেষ্টা করে কাউকে সুস্থ করতে পারবেন না।
এরপর ইমাম একটা সহীহ হাদিস বললেন, যেখানে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ঘুম থেকে উঠবে নিজের আবাসের নিরাপত্তায়, সুস্থ দেহে আর ঐদিনের খাবারের নিশ্চয়তায়, সে যেন সারা পৃথিবী হাতে পেলো। ইমাম বললেন খেয়াল করতে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) এক সপ্তাহ, মাস কিংবা বছর না, শুধুমাত্র ঐদিনের খাবারের নিশ্চয়তায় যে সুস্হ দেহে, নিরাপত্তায় জেগে উঠলো - তার কথা বলেছেন। কাজেই, আমাদের মধ্যে যারা এই নেয়ামতগুলোর অধিকারী, তাদের নেয়ামত গুলো উপলব্ধি করে অবশ্যই খেয়াল করে আল্লাহ তা'য়ালার কাছে শোকরানা আদায় করা উচিত।
[সাইডনোট: খুতবায় ইমাম আলাদা করে গাজাবাসীর কথা বলেন নাই। কিন্তু ইমামের খুতবা শোনার পর আমার গাজার মানুষদের কথা মনে হয়েছে। তাদের এই বেসিক নেয়ামতগুলোর কোনোটাই নাই: বাসা নাই, জীবনের নিরাপত্তা নাই, সুস্বাস্হ্যের নিশ্চয়তা নাই, এক দিনের খাবারের ব্যবস্থাও হয়তো নাই। আগে হয়তো নামেমাত্র ছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটাই এখন আর নাই। দুনিয়ার অন্য যেকোনো কিছুর বিনিময়ে তারা সেগুলো পেতে এখন রাজি হবে। তাদের দেখে রাসূল (সাঃ)'র ওই হাদিস উপলব্ধি করার জন্য আর কিছু কি লাগে? কিন্তু আমাদের যাদের সবকিছু আছে, আমরা হয়তো এর মূল্য বুঝেও বুঝতে চাই না, আরো বেশি পাওয়ার চেষ্টায় থাকি সারাক্ষন।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন