এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১১ এপ্রিল, ২০২৪): মানুষের হ্বক, রমাদান অভ্যাস
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১১ এপ্রিল, ২০২৪): মানুষের হ্বক, রমাদান অভ্যাস
ইমামের নাম জানি না । মসজিদে মুনাওঅর । কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ঢাকা
ইমাম সাফওয়ান ঈদ । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি
[সাইডনোট: ঈদের বন্ধে ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। শুক্রবার সকালে আব্বার সাথে দুই দাদিকে দেখতে বের হলাম। একজন খিলগাঁও, আরেকজন শংকর ধানমন্ডিতে থাকেন। দুইজনকে দেখে বাসায় ফেরার পথে কাঁটাবনের এই মসজিদে প্রথমবারের মতো নামাজ পড়লাম। বেশ সিস্টেমেটিক মসজিদ। ঢুকেই ভালো লাগলো যখন দেখলাম ভলান্টিয়াররা মুসল্লিদের বসার জায়গা দেখিয়ে দিচ্ছেন। এরপর ইমামের আরবি খুতবার আগে মুয়াজ্জিন আজান দেয়ার আগে বললেন দানবাক্স গুলো ডান দিক থেকে বাম দিকে ঠেলে দিতে। এরপর যেটা করলেন, সেটা আমার জন্য নতুন ছিল। গত সপ্তাহে মুসল্লিদের দানের পরিমান কত ছিল সেটা ঘোষণা করলেন। এই স্বচ্ছতাটা, সবাইকে জড়িত করার একটা চেষ্টা ভালো লাগলো। মনে হলো মুসল্লিরাও যেন এরপর দান করার জন্য নড়ে-চড়ে বসলেন। খুতবার খুব বেশি অংশ শুনতে পাই নাই। যতটুকু শুনছি সেটাই লিখছি, আর এরপর এর আগে রমাদান নিয়ে একটা রিফ্লেকশন শেয়ার করবো।
ঐদিন রাতে আবার গুলশান সোসাইটি মসজিদে নামাজ পড়লাম। ঢাকায় এতো সুন্দর, এতো গোছানো আর পরিপাটি মসজিদ যে আছে, না গেলে জানতামই না। কেউ ঢাকায় থাকলে অবশ্যই দেখতে যাবেন। পরে অবশ্য আমরা ভাইরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদের দৈন্যদশা নিয়ে আফসোস করলাম।]
ইমাম বললেন হালাল উপার্জনের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। হারাম উপার্জনের খাবার খেলে সেটা হারাম খাওয়াই হয়। আর হারাম খাওয়া মানুষকে আখিরাতে আল্লাহ তা'য়ালা জাহান্নামের আগুনের জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করবেন। এরপর একটা হাদিস বললেন যেখানে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন, ওই ব্যক্তি নিঃস্ব যার আমল শেষ বিচারের দিনে কোনো কাজে আসবে না কেননা সে মানুষের হ্বক নষ্ট করতো। ইমাম উদাহরণ দিয়ে বললেন, সরাসরি কারো হ্বক নষ্ট করা ছাড়াও, আপনি কাউকে অন্যায়ভাবে কটু কথা বললেন, অপমান করলেন, আর সেও আপনার বিত্ত-ক্ষমতা-অবস্থার ভয়ে উত্তর দিলো না, কিছু করতে পারলো না, কিন্তু শেষ বিচারের দিন সে তার প্রতি করা অন্যায়ের বিচার আল্লাহর কাছে রাখবে। ওই ব্যক্তির আমল অনেক হলেও জান্নাতে যাওয়ার পথে দুনিয়াতে তার অবিচার করা মানুষজন নাকি দাবি ছাড়বে না। আর আল্লাহ তা'য়ালাও সেই অবিচারের মাসুল হিসাবে প্রথমে ওই ব্যক্তির ভালো আমল গুলো অন্যকে দিয়ে দিবেন। একসময় যখন তা শেষে হয়ে যাবে, তখন নিপীড়িত সেই মানুষের গুনাহ গুলো ওই ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া হবে।
ইমাম সাফওয়ান ঈদের রমাদান রিফ্লেকশন: অভ্যাস
-----------------------------------------------------
আরবি রমাদান শব্দ "র-মিম-দাল" এই মূল তিন অক্ষর থেকে এসেছে। যার একটা অর্থ নাকি পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া। ইমাম বললেন আল্লাহ যখন সব মানুষের রূহ তৈরী করেছেন, তখন সবার কাছ থেকেই তিনি যে 'রব' এই সত্যের সাক্ষ্য নিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন তা ভুলে গেছি, কিন্তু মানুষ মাত্রেরই নাকি অন্তরে আল্লাহ'র একত্ববাদের প্রতি একটা বিশ্বাস আছে, যেটা 'ফিতরা'। এরপর যখন আমরা দুনিয়াতে মানুষ হিসাবে এসেছি, এরপর পরিবার, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা থেকে আমরা অনেক কিছুই গ্রহণ করে নিজ নিজ ব্যক্তিত্ব আর অভ্যাস গড়ে নিয়েছি। আমরা অনেক সময়ই আমাদের নিজেদেরকে নিজেদের অভ্যাস দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেই, যেমন আমি 'অমুক', আমি তো আসলে 'তমুক' বৈশিষ্টের মানুষ ইত্যাদি।
ইমাম বললেন, রমাদান আমাদের এই অভ্যাস, আমাদের রুহের বাইরে যে ব্যক্তিত্বের আবরণ আমরা দিয়ে রেখেছি, সেটা পুড়িয়ে 'ছাই' করে দিয়ে ভেতরের তাক্বওয়া বের করে আনার মাস। এরপর বললেন, আমাদের রাসূল (সাঃ)'ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। ইমাম চিন্তা করে দেখতে বললেন, যখন রমাদান মাসে আল্লাহ তা'য়ালা কুরআন নাজিল করলেন, আর ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ) প্রথম 'ইক্বরা' আয়াত নিয়ে রাসূল (সাঃ)'র কাছে আসলেন, তখন রাসূল (সাঃ)'র উত্তর কী ছিল? "আমি তো পড়তে পারি না"। এই বলে রাসূল (সাঃ) তাঁর অভ্যাস কিংবা তাঁর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট বা পরিচয় আসলে তুলে ধরে ছিলেন। এরপর আল্লাহ'র কুদরতে রাসূল (সাঃ) যেন সেই 'পড়তে না পারার" বৈশিষ্ট্য পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে কুরআন তাঁর অন্তরে ধারণ করার তৌফিক পেলেন।
ইমাম বললেন, আমাদেরও গতানুগতিক জীবন থেকে বের হয়ে রমাদান মাসে তাক্বওয়া অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। নিজেদের ভেতরে ঢুকে যেই সত্যের সাক্ষী আমাদের রূহ একদিন দিয়েছে সেটা খুঁজে বের করে আনতে হবে। আর রমাদানে করা অনেক আমল থেকে কিছু আমল যেন বাকি সময় আমরা ধরে রাখি, আমাদের অভ্যাসে পরিণত করি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন