এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৭ মে, ২০২৪): উম্মতের মধ্যে যারা কেয়ামতের দিনে দেউলিয়া

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৭ মে, ২০২৪): উম্মতের মধ্যে যারা কেয়ামতের দিনে দেউলিয়া
ইমাম সিরাজ ওয়াহাজ । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
ইমাম সাফওয়ান ঈদ । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি

ডিসক্লেইমার: খুতবা যেই ইমাম দিলেন, ইমাম সিরাজ ওয়াহাজ - তাঁর নামটা অনেকেই জানেন না। কিন্তু উনার ছবি দেখলে আমি নিশ্চিত অনেকেই তাঁকে চিনবেন।  উনার পরিচিতির লিংক নিচে দিয়ে দিচ্ছি। খুতবাতেই উনি বললেন '৭০'র দশকে তিনি কিভাবে ম্যালকম এক্স-'র "নেশন অফ ইসলাম" থেকে বের হয়ে এসে সত্যিকার ইসলামে প্রবেশ করেছেন, কিভাবে তিনি মসজিদের যিনি রেগুলার ইমাম, সেই ইমাম শিবলীর কাছে ঋণী, ইত্যাদি। তবে তিনি খুতবা যেই হাদিসটার উপর দিলেন, সেই হাদিসটার উপর আগেও একদিন এক ইমাম খুতবা দিয়েছিলেন, আমি লিখেছিলাম'ও। আর তাই, আবারো সেটা না লিখে বরং সেটার রেফারেন্স দিয়ে দিচ্ছি। বরং আর তার আগেরদিন ইমাম সাফওয়ান ঈদের একটা "খাতারা" বা আলোচনা নিয়ে লিখবো ইনশাআল্লাহ।  


খুতবার সারমর্ম: একটা সহীহ হাদিসে আছে, রাসূল (সাঃ) নাকি সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেয়ামতের দিন তাঁর উম্মতের মধ্যে দেউলিয়া কারা হবে? তিনি নিজেই এর উত্তরে বলেছিলেন, তারা যারা দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে নামাজ, রোজা, জাকাত সবই করেছে কিন্তু কেয়ামতের দিন তার সব ভালো আমল অন্যকে দিয়ে দেয়া হবে, এমনকি ভালো আমল শেষ হয়ে গেলে, অন্যের খারাপ আমলের গুনাহ'র ভাগীও করা হবে - তার কারণ তারা দুনিয়াতে অন্যের সম্পর্কে বাজে কথা বলতো, বদনাম করতো,  অন্যায় ভাবে তাদের সম্পদ, হ্বক নষ্ট করতো, অন্যের রক্তপাত করতো বা মারতো। ইমাম বললেন, আমরা যেন এই ব্যাপারটা নিয়ে খুবই সাবধান থাকি।

আগের রাতে ইমাম সাফওয়ান ঈদের "খাতারা"
---------------------------------------------------

ইমাম সূরা কাহাফের শেষ আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে বললেন [সূরা কাহাফ, সূরা নম্বর ১৮, আয়াত ১১০, প্রথম অংশ], যার অর্থ অনেকটা এইরকম: আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাঃ) কে বলতে বলছেন: "বলুন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ" --  ইমাম বললেন ইন্টারেষ্টিং ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের রাসূল (সাঃ)'র জীবদ্দশায় তাঁকে প্রায়ই মুশরিকদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে, "আমরা আপনার কথা কেন শুনবো, আপনি তো আমাদেরই একজন", "আল্লাহ কেন ফেরেশতা পাঠালেন না" ইত্যাদি অবজ্ঞামূলক কথাবার্তা। শুধু আমাদের রাসূল (সাঃ)'ই না - একই রকম অভিযোগ আগের নবী-রাসূলদেরকেও করা হয়েছে। আর আল্লাহ তা'য়ালা এই আয়াতে কিনা সেটাই বরং উত্তরে বলতে বলে রাসূল (সাঃ) কে আরো বলতে বলছেন, [সূরা কাহাফ, সূরা নম্বর ১৮, আয়াত ১১০, পরের অংশ], যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "[বলুন] আর আমার কাছে ওহী এসেছে যে তোমাদের রব একজনই, সুতরাং [তোমাদের মধ্যে] যে তার রবের সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা করে, সে যেন অবশ্যই ভালো আমল করে আর তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।"

ইমাম আমাদের রাসূল (সাঃ)'র এই যে অন্য সব মানুষের মতো সাধারণ চলাফেরার আরেকটা উদাহরণ দিলেন: একটা সহীহ হাদিস নাকি আছে, যেখানে এক বেদুইন একদিন রাসূল (সাঃ)'র মসজিদে এসে নাকি সবাইকে দেখে জিজ্ঞেস করেছিল: "তোমাদের মধ্যে কে মুহাম্মদ (সাঃ)?" - আর এই হাদিসটা এতটুকুই। এই ছোট হাদিসটাতে বোঝা যায়, আমাদের রাসূল (সাঃ) পোশাক-আশাকে আর সবার মতোই ছিলেন, সবার মাঝেই বসতেন, তাঁর (সাঃ)'র কোনো আলাদা পোশাক, আসন ছিলো না। ইমাম আরো বললেন, রাসূল (সাঃ) চাইলেই কিন্তু অনেক সম্পদের, চাকচিক্যের মাঝে থাকতে পারতেন। অন্য নবী-রাসূলদের মধ্যে থেকে তার উদাহরণও আছে, যেমন: দাউদ (আঃ) আর সুলাইমান (আঃ) রাজা ছিলেন; আর তাতে কোনো সমস্যাও নাই। কিন্তু আমাদের রাসূল (সাঃ) সাধারণ জীবন-যাপন বেছে নিয়েছিলেন, গরিব অবস্থায়ই সারাজীবন থেকেছেন। 

ইমাম বললেন আর সেটা তিনি করেছেন, কারণ তিনি শেষ জমানার নবী, সময়ের শেষ পর্যন্ত তিনি উদাহরণ হয়ে থাকবেন। দুনিয়ার দুঃখী, গরিবদের কাছে উদাহরণ, ভরসা আর তাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতে তিনি ঐশ্বরিক জ্ঞানেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

[সবশেষ: অনেকটা কাকতালীয়ভাবে, শুক্রবারের অন্যের সম্পর্কে বদনাম, গীবত ইত্যাদি করার কুফল শুনে আসার পরে, ঐদিনই ফেসবুকে বন্ধু শফিউল চৌধুরীর শেয়ার করা প্রয়াত ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের "[অন্যের না বরং] নিজের চিন্তা করি" টাইটেলের একটা ছোট অডিও/ভিডিও পেলাম, সবার অবশ্যই শোনা উচিত: লিংক দিচ্ছি ]

ড. আবুদল্লাহ জাহাঙ্গীর: নিজের চিন্তা করি: https://www.facebook.com/share/v/FQAuV3CuN9vUQaNJ/ 
ইমাম সিরাজ ওয়াহাজ প্রোফাইল: https://en.wikipedia.org/wiki/Siraj_Wahhaj
আগের খুতবার লিংক:  https://banglakhutba.substack.com/p/972    

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ