এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৭ জুন, ২০২৪): জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৭ জুন, ২০২৪): জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত
ইমাম সাফওয়ান ঈদ । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি

ডিসক্লেইমার: ইদানিং আমার আমল খারাপ হয়ে গেছে। আগের মতো খুতবা লেখার সময় বের করতে পারি না। লেখার উৎসাহও হারিয়ে ফেলছি। সত্যি বলতে শুক্রবার জুমআর পর পরই কাজে মিটিং থাকে। ওই চিন্তা মাথায় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনাটাও কঠিন। জুমুআ শেষ করে তাড়াতাড়ি করে ফিরতে ফিরতে প্রায়ই মিটিং এ দেরি হয়ে যায়। আমার জন্য জন্য দোয়া করবেন। মিটিং শেষে পরের জামাতে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যাই হোক,  আজকের খুতবাটা আসলে সারমর্মের সারমর্ম। খুব ছোট ভাবে লিখছি। ইমামের একটা কথা খুব ভালো লেগেছে ঐটা শেয়ার করার জন্যই লিখছি। 

ইমাম খুতবা শুরু করলেন বলে যে চিন্তা করে দেখতে ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের প্রতিটাই "প্রথমে ছেড়ে দিয়ে তারপর পাওয়া যায়" (Subtraction before addition) এমন। ব্যাখ্যা করলেন, কালেমা তে আমরা বলি, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' যার অর্থ 'নেই কোনো ইলাহ, আল্লাহ ছাড়া' - বললেন,  তার মানে প্রথমে অন্য সব ইলাহ বাদ দেয়ার কথা বলে তারপর আল্লাহ 'ইলাহ' এইটা আমরা সাক্ষ্য দেই।  নামাজ পড়ার কথা বললেন, আমরা নামাজ পড়ার জন্য যে সময় বের করি, তা আসলে অন্য কাজ বাদ দিয়ে তারপর নামাজে মনোনিবেশ করি। রোজা রাখি, তাতে খাওয়া, পানি পান করা, গীবত সহ অন্য আর যা ছাড়তে বলা হয়েছে, সেগুলো প্রথমে বাদ দিয়ে তারপর রোজা রাখার চেষ্টা করি। জাকাত দেয়ার সময় নিজের জমানো টাকা থেকে বাদ দিয়ে তারপর সম্পদে বরকত আশা করি, উপার্জনে পবিত্রতা আশা করি। আর এখন যে হাজ্জিরা হ্বজে গেছেন, আজকাল ততটা না হলেও, একসময় তাঁদের জান-মাল সব আল্লাহর রাস্তায় সপে দিয়ে তারপর আল্লাহর সান্নিধ্য, আল্লাহর খুশির উদ্দেশ্যে তাঁরা বের হতেন।

এরপর ইমাম বললেন, আমরা জানি রমাদানের শেষ দশ 'রাত' অসম্ভভব ফজিলতপূর্ণ। কিন্তু সহীহ হাদিস আছে, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ 'দিন' সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ। ইমাম বললেন, আর এই দশ দিনের ব্যাপারে কিন্তু  একটা বড় বিষয় আছে, যেটা আমরা প্রায়ই খেয়াল করি না। ইমাম বললেন, রমাদানের শেষ দশ রাতের জন্য আমাদের অনেক প্রস্তুতি থাকে, অনেক 'ইনস্টিটিউশনাল কালচার' চালু আছে, যেমন তারাবি, ইতেকাফ, কিয়ামুল-লাইল - ইত্যাদি, যেগুলো আমাদের ওই রাত গুলোতে আমল করতে অনেকটা বাধ্যই করে। কিন্তু জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ব্যাপারে সেইরকম কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। কিন্তু আমরা আল্লাহ'র রাসূলের (সাঃ) মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবেই জানতে পারছি যে এই ১০ দিনের আমল আল্লাহ তা'য়ালার কাছে খুবই প্রিয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী সেটা বিশ্বাস করে, স্বেচ্ছায় আমল করবো নাকি কোনো বাধ্যকতা নাই দেখে খুব একটা গুরুত্ব দিবো না, বছরের আর অন্য ১০ দিনের মতোই কাটিয়ে দিবো? 

ইমাম চিন্তা করে দেখতে বললেন, আমাদের নিজেদের জীবনে যখন কেউ বলে যে 'আমি অমুক জিনিষটা ভালোবাসি', 'আমার তমুক জিনিষটা ভালো লাগে' - এইটা আসলে অনেকটা অন্য পক্ষকে নিজের সাথে কিভাবে কানেক্ট বা সংযোগ করা যায়, কাছে আসা যায় - সেটার একটা উপায় বলে দেয়া, কিভাবে ভালোবাসা বাড়ানো যায় তার একটা পথ বলে দেয়া। আর আল্লাহ তা'য়ালা যখন বলছেন এই ১০ দিনের আমল তাঁর কাছে খুবই প্রিয় - তখন আসলে আল্লাহ তাঁর বান্দা-বান্দিকে একটা সুযোগ দিচ্ছেন, তাঁর সান্নিধ্য, ভালোবাসা পাওয়ার উপায়, পথ বলে দিচ্ছেন। 

এখন আমরা যারা হ্বজে যাই নাই, তারা কোনোরকম বাধ্যবাধকতা ছাড়া, আল্লাহকে ভালোবেসে তাঁর বলে দেয়া উপায় বা পথ বেছে নেই কিনা, অন্য কিছু ত্যাগ করে, দৈনন্দিন অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর খুশি পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত আমল করি কিনা  - এইটাই আমাদের ঈমানের পরীক্ষা। আর তাই এই দশ দিনে আমাদের অতিরিক্ত নফল ইবাদত, দান-খয়রাত, দুস্থদের খাওয়ানো, খেয়াল করা, রোজা রাখা, বেশি বেশি জিকির করা, দোয়া করা ইত্যাদি করার নিয়ত করতে হবে। আমল করতে হবে।       

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ