গত তিন শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২, ৯, ১৬ অগাস্ট, ২০২৪):
গত তিন শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২, ৯, ১৬ অগাস্ট, ২০২৪):
ডিসক্লেইমার: গত তিন শুক্রবারের খুতবার সারমর্ম লেখার চেষ্টা করবো। খুব সংক্ষিপ্ত হবে, সারমর্মের সারমর্ম হবে আসলে। সবকিছু মনেও নাই। কোনো কিছুতে খুব মনোযোগ দেয়াও আসলে ইদানিং সম্ভব না। যাই হোক, লিখছি। আর বরাবরের মতো নিজেরা যাচাই করে নেয়ার অনুরোধ থাকলো।
২ অগাস্ট, ২০২৪: দুনিয়ার কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়
ইমাম নেসার চৌধুরী । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ইমাম সূরা কাহাফের আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে বললেন [সূরা কাহাফ, সূরা নম্বর ১৮, আয়াত ৯৮], আল্লাহ তা'য়ালা এইখানে জুলকারনাইনের (আঃ) ঘটনা বলছেন। ইয়াজুজ আর মা'জুজ এর হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য দুই পাহাড়ের মাঝে যখন এলাকাবাসির অনুরোধে, তাদের সাহায্যে জুলকারনাইন (আঃ) একটা দেয়াল বানিয়ে দেন, এর পরপরই তিনি তাদের কী বলেন সেটা খুব ইন্টারেষ্টিং। জুলকারনাইন (আঃ) বলেন [সূরা কাহাফ, সূরা নম্বর ১৮, আয়াত ৯৮], যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "তিনি বলেন: এটা আমার রবের পক্ষ হতে একটা অনুগ্রহ, আর যখন আমার রবের প্রতিশ্রুতি আসবে, তখন তিনি এটাকে চূর্ন-বিচূর্ণ করে মাটিতে মিশিয়ে দিবেন। আমার রবের প্রতিশ্রুতি সত্য।"
ইমাম ব্যাখ্যা করলেন, এই দুনিয়াতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। সবকিছুই একদিন শেষ হবে। বললেন, এমনকি এই মসজিদে যে তিনি খুতবা দিচ্ছেন, সেটাও একদিন থাকবে না। কাজেই আমাদের যেকোনো কাজেই দুনিয়াতে তার ক্ষণস্থায়ীতা আর আখিরাতে সেটার ফল চিন্তা করতে হবে। জুলকারনাইন (আঃ)'র মতো তাই কোনোকিছু বানিয়ে শেষ করেই তিনি যেমন এই সত্য উপলব্ধি করেছেন, আমাদেরকেও সেটা করতে হবে, কোনো কিছুর সাথে খুব বেশি সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।
৯ অগাস্ট, ২০২৪: মৃত্যুর ঠিক পরপর কী হবে
ইমামের নাম জানি না । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ইমাম বললেন, হাদিসে নাকি আছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার সাথে কবর পর্যন্ত তিন জিনিস যাবে: তার পরিবার, সম্পদ আর তার আমল। আর কবরস্থ হওয়ার পর দুই জিনিস: পরিবার আর সম্পদ ফিরে যাবে, থাকবে শুধু তার আমল। এরপর ইমাম মৃত্যুর পর রূহ বা আত্মা কিভাবে ফেরেশতারা শরীর থেকে বের করে নিবেন, ভালো মানুষেরটা কত সহজে হবে, আর খারাপ মানুষেরটা কত কঠিন হবে, কিভাবে তা উর্ধাকাশে উঠানো হবে, মানুষের চরিত্রভেদে কিভাবে ফেরেশতারা তাকে সম্বোধন করবেন, আর এরপর জান্নাত-জাহান্নাম দেখিয়ে নিয়ে আবার সেই রূহকে কবরে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে, এরপর দুই ফেরেশতার সওয়াল-জওয়াব শেষে আমলের ভিত্তিতে কবরকে হয় প্রশস্ত করে জান্নাতের টুকরা করা হবে, নতুবা জাহান্নামের আজাবে পরিণত করা হবে কেয়ামত পর্যন্ত - ইত্যাদি ব্যাখ্যা করলেন।
[সাইডনোট: খুতবার রেফারেন্স খুঁজতে গিয়ে পরে আমি এই আর্টিকেলটা পেয়েছি, যেটা অনেকটাই সেদিনের খুতবাটাকে কভার করে, আর এই বিষয়ে ড. ওমর সুলাইমানের একটা লেকচার আছে, দুইটার লিংক দিয়ে দিচ্ছি]
আর্টিকেল: https://onepathnetwork.com/what-happens-when-you-die-in-islam-2/
ড. সুলাইমানের লেকচার: https://youtu.be/oBI24qlEvn8?si=qhq2Une9QloNSa_R
১৬ অগাস্ট ২০২৪: বন্ধুত্ব, সম্পর্ক আর জীবনের প্রস্তুতি
ইমামের নাম জানি না । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ইমাম শুরু করলেন এই বলে যে: বন্ধুত্ব আমাদেরকে জীবনকে যেমন সাহায্য করে, আবার অনেক সময় এই বন্ধুত্বই সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। এই বন্ধুত্ব ভাইয়ে-ভাইয়ে, বোনে-বোনে, প্রতিবেশীর সাথে প্রতিবেশীর, সহপাঠীর সাথে সহপাঠীর ইত্যাদি নানা ভাবে হতে পারে। মুসলিমদের সাথে, অমুসলিমদের সাথে হতে পারে। ইমাম খেয়াল করিয়ে দিলেন, মুসলিম হিসাবে আমাদের দায়িত্ব বেশি, সাবধানতাও বেশি অবলম্বন করতে হবে। আমরা মুসলিম হিসাবে চাইলেই বাসার ভেতর একরকম আর বাইরে বন্ধুদের সাথে, বিশেষ করে অমুসলিম বন্ধুদের সাথে আরেকরকম ব্যবহার করতে পারি না। আরো মনে করিয়ে দিলেন, মুসলিম হিসাবে আমরা একে ওপরের সাথে বন্ধুর চেয়েও বেশি: কুরআনে আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন [সূরা হুজুরাত, সূরা নম্বর ৪৯, আয়াত ১০]: "প্রকৃতপক্ষে মু'মিনরা একে ওপরের ভাই, অতএব তোমরা দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও, আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে করে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা সম্ভব হয়।"
এরপর ইমাম পরিবেশ কিভাবে আমাদের বন্ধুত্ব, সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে সেটা বললেন। মজা করে বললেন, এক এলাকায় হয়তো পরিচিত-অপরিচিত কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলা খুব স্বাভাবিক, আবার একটু দূরে অন্য এলাকায় কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলতে গেলে তারা উল্টো মনে মনে ভাববে: "এর নিশ্চয়ই অন্য কোনো ফন্দি আছে, এতো ভালো ব্যবহার করছে কেন??"
এরপর ইমাম হঠাৎ করেই যেন প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বললেন, আমাদের সমাজে ছোট মেয়েরা বরং এখন তাদের জীবন কিভাবে গড়তে হবে সেটা জানে, কিন্তু ছেলেরা যেন দিশেহারা। তারা গেম আর কম্পিউটারে আসক্ত। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে, দায়িত্ব নিতে হলে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে সেটা তারা জানে না। আমাদের সমাজও তাদের খুব কঠিন উদাহরণ তৈরী করে যেন বেঁধে রেখেছে। পড়াশুনা শেষে চাকরি-বাড়ি-গাড়ি নিয়ে প্রতিষ্টিত না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করা যাবে না, পরিবার শুরু করা যাবে না - ইত্যাদি নানা বাধা দিয়ে তাদের আটকে রেখেছে। মেয়েদেরকেও বিয়ের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষী করে তুলছে। ইমাম বললেন, সহীহ হাদিস আছে, যেখানে রাসূল (সাঃ) উপদেশ দিয়েছেন, আর অর্থ অনেকটা এইরকম:"ও তরুণ, তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ রাখে, সে যেন বিয়ে করে, কারণ সেটা তার দৃষ্টি সংযত আর চরিত্র ঠিক রাখতে সাহায্য করবে, আর যে পারবে না সে যেন বেশি বেশি রোজা রাখে, কারণ সেটা তার জন্য ঢাল হিসাবে কাজ করবে।"
ইমাম আমাদের তরুণ-তরুণীদের ভবিষতের ব্যাপারে আরো মনোযোগী হতে উপদেশ দিলেন। অভিভাবক হিসাবে ছোটবেলা থেকেই তাদের সাথে কথা বলে তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে বললেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন