এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৩ অগাস্ট, ২০২৪): আল্লাহ তা'য়ালার সামনে যাওয়ার প্রস্তুতি কী হবে?
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (২৩ অগাস্ট, ২০২৪): আল্লাহ তা'য়ালার সামনে যাওয়ার প্রস্তুতি কী হবে?
ইমাম ফোদে । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, ওয়েস্ট উইন্ডসর টাউনশিপ, নিউ জার্সি
[আপডেট: শামীম আহমেদ ভাই আমাকে মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে জানালেন, ওই আরেক সাহাবীর নাম আম্মার ইবন ইয়াসির। তিনি ইউটুবে ইমাম ফোদের খুতবাটি শুনেছেন! আল্লাহু আকবার! আমিও একটু সার্চ করতেই লিংকটা পেলাম। অনেক ধন্যবাদ ভাই। খুতবার লিংক:
https://www.youtube.com/live/gHNKVDAYybI?si=fN3NB5RvMFD3ZJD6 ]
ইমাম শুরু করলেন মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'য়ালার সামনে দাঁড়ানোর/উপস্থিত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি আজকে খুতবা দিবেন। বললেন, দৈনন্দিন জীবনে, আমাদের কাজে ঊর্ধ্বতনদের সাথে মিটিং থাকলে আমরা প্রস্তুতি ছাড়া যাই না। মানুষে-মানুষে এই সাক্ষাতের জন্য যখন আমরা প্রস্তুতি নেই, তখন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সাথে দেখা হওয়ার জন্যও আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ইমাম বললেন, জীবনে দুইটা জিনিস নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের এই প্রস্তুতি নিয়ে ভয় পেতে হবে না : ১) আহ্সানু-আমালা বা সর্বোৎকৃষ্ট আমল বা কাজ, আর ২) বিশুদ্ধ আকিদা বা তাওহীদ।
এরপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন, 'আহ্সানু-আমাল' আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। খুব সহজে বললে যে কোনো কাজ, যেটা শুধুই আল্লাহ'র সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, সেটাই 'আহ্সানু-আমাল' বা সর্বোৎকৃষ্ট কাজ। আর বিশুদ্ধ আকিদার ব্যাপারে বললেন আল্লাহ'র একত্ববাদে কোনো অংশীদার না রাখা, এক কথায় তাওহীদ ঠিক রাখা, তাতে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ না করা। এরপর ইমাম প্রশ্নের মতো করে বললেন, কারো এই দুই জিনিস ঠিকমতো আছে কিনা সেটা বোঝা যাবে কিভাবে? উত্তরে বললেন, এরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা বা বন্ধু (আউলিয়া) হবে, যারা মৃত্যুকে ভয় পাবে না।
এরপর ইমাম তৎকালীন ইহুদির ব্যাপারে বললেন, তারা দাবি করতো তারা আল্লাহর মনোনীত জাতি [আজও করে], তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাঃ) কে বলতে বলছেন [সূরা আল-জুমুআ, সূরা নম্বর ৬২, আয়াত ৬]: "বলুন, 'ও হে যারা ইহুদি হয়েছো, যদি তোমরা দাবি করো যে তোমরাই আল্লাহ'র আউলিয়া অন্য মানবজাতি হতে, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ' -- ইমাম এর ব্যাখ্যায় বললেন, আল্লাহ'র সত্য আউলিয়ারা মৃত্যুর পর আল্লাহ'র সাথে মিলিত হতে ভয় পাবে না, আর তাই মৃত্যুকেও তারা ভয় পায় না।
এরপর ইমাম দুইজন সাহাবীর উদাহরণ দিলেন। একজন সাহাবী বিলাল (রাঃ), আরেকজন সাহাবীর নাম আমার মনে নাই। ইমাম বললেন, বিলাল (রাঃ)'র স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যু শয্যায় যখন তাঁর পাশে তার স্ত্রী আহাজারি করছিলেন, তখন নাকি বিলাল (রাঃ) বলেছিলেন, তাঁর আনন্দ হচ্ছে কারণ মৃত্যুর পর তিনি রাসূল (সাঃ) আর তাঁর সাহাবীদের সাথে মিলিত হতে পারবেন। ঠিক একই রকম মন্তব্য করেছিলেন ওই আরেক সাহাবী [যার নাম আমার মনে নাই]। সেই সাহাবী নাকি যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও বিলাল (রাঃ)'র মতো ওই অবস্থায়ও আনন্দিত ছিলেন।
ইমাম আমাদের সবাইকে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিতে বললেন। আল্লাহ'র সাথে মিলিত হওয়ার চিন্তা মাথায় রেখে তৈরী হতে বললেন।
[সাইডনোট: এই ব্যাপারে ঘাঁটতে গিয়ে আরেকটা হাদিস পেলাম, যেটা অন্য কোনো এক খুতবায় কোনো এক ইমাম যতটুকু মনে হয় উল্লেখ করেছিলেন। প্রাসঙ্গিক হওয়ায় লিখে রাখছি, রেফারেন্স লিংক দিয়ে দিচ্ছি । একটা হাদিস নাকি আছে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তির আল্লাহর সাথে (মৃত্যুর পর) মিলিত হতে ভালোবাসে, আল্লাহও তার সাথে মিলিত হতে ভালোবাসেন, আর যে তা ঘৃণা করে, আল্লাহও তার সাথে মিলিত হতে ঘৃণা করেন। তখন রাসূল (সাঃ)'র কোনো এক স্ত্রী জিজ্ঞেস করেছিলেন, কিন্তু আমরা তো মৃত্যু ঘৃণা করি। উত্তরে রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছিলেন যে তিনি সেটা বোঝাতে চাননি। কোনো বিশ্বাসী যখন মারা যাচ্ছে, তাকে যখন আল্লাহর সন্তুষ্টি আর সম্মানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার কাছে সামনে যা আসছে তার চেয়ে আর প্রিয় কিছু থাকে না, সে তখন আল্লাহর সাথে মিলিত হতে ভালোবাসে, আর আল্লাহ তা'য়ালাও তার সাথে মিলিত হতে ভালোবাসেন; আর যখন কোনো অবিশ্বাসীর মৃত্যু হয় আর যখন তাকে আল্লাহর শাস্তি আর অসন্তুষ্টির খবর দেয়া হয়, তখন সামনে যা আসছে তার কাছে সেটার চেয়ে অপ্রিয় আর কিছুই থাকে না, সে তখন আল্লাহর সাথে মিলিত হতে ঘৃণা করে, আল্লাহও তার সাথে মিলিত হতে ঘৃণা করেন। ]
https://islamqa.info/en/answers/308653/the-believers-joy-at-meeting-allah
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন