এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৩ জানুয়ারি, ২০২৫): মুরাকা'বা-মুহা'সাবা-মুজাহাদা, আত্মিক উন্নয়ন
এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (৩ জানুয়ারি, ২০২৫): মুরাকা'বা-মুহা'সাবা-মুজাহাদা, আত্মিক উন্নয়ন
ইমামের নাম জানি না । ইসলামিক সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল জার্সি, নিউ ব্রান্সউইক টাউনশিপ, নিউ জার্সি
[ইংরেজি নতুন বছর আর আরবি রজব মাস চলা উপলক্ষে গত দুই জুমুআ'তেই ইমামরা আত্মিক-আধ্যাতিক উন্নয়নের জন্য কী কী করা যায় সেই বিষয়ে মূলত আলোচনা করেছেন। আমি খুব সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করছি।]
ইমাম শুরু করলেন আরবি রজব মাসে আমাদের রাসূল (সাঃ)'র করা একটা দোয়া দিয়ে: শব্দের উচ্চারণ অর্থে যা অনেকটা এইরকম:
আল্লাহ হুম্মা - ও আল্লাহ
বারিক লানা - বরকত দাও আমাদেরকে
ফি - মধ্যে
ফি - মধ্যে
রাজাবা - রজব [মাসে]
ওয়া - এবং
শাবানা - শাবান [মাসে]
ওয়া - এবং
ওয়া - এবং
বাল্লিগনা - প্রবেশ করাও আমাদেরকে
রামাদান - রমজান [মাসে]
ইমাম বললেন, এখন রজব মাস চলছে, এরপর শাবান মাস আর তারপরেই রমজান মাস শুরু। আমরা অবশ্যই চাইবো এখন রজব মাসে আগের মাস থেকে [ইবাদত, আমলে] ভালো থাকতে, শাবান মাসে রজব মাস থেকে ভালো থাকতে আর রমজানের শুরুতে পুরো প্রস্তুতি নিয়ে প্রবেশ করতে যেন আমরা সর্বোচ্চ উপকার/সওয়াব নিতে পারি। ইমাম আরো বললেন, শাবান মাসে আমাদের রাসূল (সাঃ) বেশি বেশি রোজা রাখতেন।
এরপর ইমাম বললেন, কিন্তু কিভাবে ইবাদত-আমলে ভালো করবো সেটার পথ আলেমরা বলে গেছেন। আরবি 'মিম' অক্ষরের উচ্চারণে শুরু হয় এইরকম তিনটা শব্দে খুব সহজে সেগুলো মনে রাখা সম্ভব: মুরা'কাবা - মুহা'সাবা - মুজা'হাদা। এরপর ইমাম এই তিনটা শব্দের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলেন:
* মুরাকা'বা - [আরবি র-ক'-বা মূলের 'রাকিব' শব্দের অর্থ দেখা, সুপারভাইস করা, চোখে চোখে রাখা ইত্যাদি। শুরুতে 'মু' যুক্ত করে 'মুরাকাবা' শব্দ বিশেষ্য/Noun অর্থাৎ, আল্লাহ দেখছেন - এই অবস্থায় থাকা বোঝায়]। 'আল্লাহ সব দেখছেন' এই মনোভাব থাকাকে 'মুরাকাবা' বলে। ইমাম উদাহরণ দিলেন, উমর (রাঃ)'র খেলাফত কালে [উমর (রাঃ) তাঁর শাসনামনে ছদ্ববেশে ঘুরে ঘুরে জনগণের অবস্থা দেখতেন আর ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতেন] তিনি একবার এক ভেড়ার/মেষ পালের রাখালের দেখা পেলেন। গিয়ে বললেন তোমার ভেড়ার পাল থেকে একটা ভেড়া আমাকে বিক্রি করে দাও। সে ছদ্ববেশে থাকা উমর (রাঃ) কে চিনতে পারে নাই। উত্তরে সেই রাখাল বলেছিলেন এইগুলোর মালিক তো আমি না, আমি শুধুই মেষপালক। উমর (রাঃ) এরপর নাকি বলেছিলেন, তাহলে একটা দিয়ে দাও আর মালিককে গিয়ে বলো নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে। তখন সেই মেষপালক শুধু নাকি বলেছিলেন: "আর আল্লাহ কোথায়?" অর্থাৎ, আমি আল্লাহকে কী বলবো? গরিব রাখালের আল্লাহর প্রতি "মুরাকাবা" আর বিশ্বাস দেখে উমর (রাঃ) নাকি খুশিতে কেঁদে ফেলেছিলেন। ইমাম বললেন, আমাদেরকেও 'মুরাকাবা' -র চর্চা করতে হবে। অন্যের সাথে ব্যবহারে, কাজে আর বিশেষ করে একা থাকা অবস্থায় এই 'আল্লাহ সব দেখছেন' বা 'মুরাকাবা' চর্চা করতে পারলেই আত্মিক-আধ্যাতিক উন্নতি করা সম্ভব।
ইমাম বললেন, এখন রজব মাস চলছে, এরপর শাবান মাস আর তারপরেই রমজান মাস শুরু। আমরা অবশ্যই চাইবো এখন রজব মাসে আগের মাস থেকে [ইবাদত, আমলে] ভালো থাকতে, শাবান মাসে রজব মাস থেকে ভালো থাকতে আর রমজানের শুরুতে পুরো প্রস্তুতি নিয়ে প্রবেশ করতে যেন আমরা সর্বোচ্চ উপকার/সওয়াব নিতে পারি। ইমাম আরো বললেন, শাবান মাসে আমাদের রাসূল (সাঃ) বেশি বেশি রোজা রাখতেন।
এরপর ইমাম বললেন, কিন্তু কিভাবে ইবাদত-আমলে ভালো করবো সেটার পথ আলেমরা বলে গেছেন। আরবি 'মিম' অক্ষরের উচ্চারণে শুরু হয় এইরকম তিনটা শব্দে খুব সহজে সেগুলো মনে রাখা সম্ভব: মুরা'কাবা - মুহা'সাবা - মুজা'হাদা। এরপর ইমাম এই তিনটা শব্দের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলেন:
* মুরাকা'বা - [আরবি র-ক'-বা মূলের 'রাকিব' শব্দের অর্থ দেখা, সুপারভাইস করা, চোখে চোখে রাখা ইত্যাদি। শুরুতে 'মু' যুক্ত করে 'মুরাকাবা' শব্দ বিশেষ্য/Noun অর্থাৎ, আল্লাহ দেখছেন - এই অবস্থায় থাকা বোঝায়]। 'আল্লাহ সব দেখছেন' এই মনোভাব থাকাকে 'মুরাকাবা' বলে। ইমাম উদাহরণ দিলেন, উমর (রাঃ)'র খেলাফত কালে [উমর (রাঃ) তাঁর শাসনামনে ছদ্ববেশে ঘুরে ঘুরে জনগণের অবস্থা দেখতেন আর ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতেন] তিনি একবার এক ভেড়ার/মেষ পালের রাখালের দেখা পেলেন। গিয়ে বললেন তোমার ভেড়ার পাল থেকে একটা ভেড়া আমাকে বিক্রি করে দাও। সে ছদ্ববেশে থাকা উমর (রাঃ) কে চিনতে পারে নাই। উত্তরে সেই রাখাল বলেছিলেন এইগুলোর মালিক তো আমি না, আমি শুধুই মেষপালক। উমর (রাঃ) এরপর নাকি বলেছিলেন, তাহলে একটা দিয়ে দাও আর মালিককে গিয়ে বলো নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে। তখন সেই মেষপালক শুধু নাকি বলেছিলেন: "আর আল্লাহ কোথায়?" অর্থাৎ, আমি আল্লাহকে কী বলবো? গরিব রাখালের আল্লাহর প্রতি "মুরাকাবা" আর বিশ্বাস দেখে উমর (রাঃ) নাকি খুশিতে কেঁদে ফেলেছিলেন। ইমাম বললেন, আমাদেরকেও 'মুরাকাবা' -র চর্চা করতে হবে। অন্যের সাথে ব্যবহারে, কাজে আর বিশেষ করে একা থাকা অবস্থায় এই 'আল্লাহ সব দেখছেন' বা 'মুরাকাবা' চর্চা করতে পারলেই আত্মিক-আধ্যাতিক উন্নতি করা সম্ভব।
* মুহা'সাবা -[আরবি হা'-সিন-বা মূলের 'হি'সাব' শব্দের অর্থ আমরা সবাই জানি, মুহা'সাবা মানে হিসাব রাখা] - ইমাম বললেন, নিজের কাজের হিসাব নিজের সাথেই করা হচ্ছে 'মুহা'সাবা' । এরপর এক সাহাবীর গল্প বললেন [আমার নাম মনে নাই]। সেই সাহাবীর নাকি বদনাম করার দুর্বলতা ছিল এবং তিনি সেটা উপলব্ধি করেছিলেন। এরপর ঠিক করেছিলেন, এরপর বদনাম করলেই নিজের সাথে হিসাব রাখার অংশ হিসাবে নিজের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করবেন: একটা করে রোজা রাখবেন। কিন্তু দেখলেন সেটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। করা যাচ্ছে না। এরপর ঠিক করলেন, এরপর কারো বদনাম করলেই রোজা রাখার পরিবর্তে এক 'দিরহাম' মুদ্রা দান করবেন। কিছুদিন পর দেখলেন, এটাতে কাজ হয়েছে। দুনিয়ার 'মোহ', দিরহামের খরচ কমাতেই তিনি একসময় বদনাম করা ছাড়লেন। ইমাম বললেন, নিজের 'নাফস' কে এইভাবে হিসাবে রাখতে পারলে আমরাও বাজে অভ্যাস ছাড়তে পারবো।
* মুজা'হাদা [ আরবি জি'-হা-দ মূলের 'জিহাদ' শব্দের অর্থও আমরা সবাই জানি, আর মুজা'হাদা হচ্ছে বিশেষ্য বা Noun, মানে হচ্ছে সংগ্রাম করা] - ইমাম বললেন নিজের আত্মিক, আধ্যাতিক উন্নয়নের চেষ্টায় সংগ্রাম করতে হবে। 'আল্লাহ সব মাফ করে দিবেন', 'আল্লাহ আমাকে সংশোধন করবেন' - বলে শুধু আশা করে বসে থাকলে হবে না। নিজের পরিবর্তনে সত্যিকারের চেষ্টা করতে হবে, কাজ করতে হবে।
এরপর ইমাম উপস্থিত সবাইকে বললেন, জুমুআতে আসার উদ্দেশ্য শুধু নামাজ পড়া হলে চলবে না। খুতবা থেকে নিজেদের 'ট্রান্সফরমেশন' বা পরিবর্তনের জন্য কী করা যায়, সেটা জেনে, সেটার উপর চিন্তা/রিফ্লেকশন করে কাজ করতে হবে। আর নাহলে জুমুআর খুতবা বা নামাজ শুধুই রুটিন কাজ হয়ে যাবে। এরপর ইমাম উপস্থিত সবাইকে একটা চ্যালেঞ্জ দিলেন। আবার বললেন, এই চ্যালেঞ্জ দুর্বল চিত্তের, নিজের সমালোচনা নিতে পারে না - এমন কারো জন্য না। বললেন, নিজের খুব কাছের, যাকে আমরা বিশ্বাস করি, যে আমাদেরকে খুব ভালো করে চিনে-জানে, এমন কেউ -- সেটা মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, কিংবা কাজিন, বন্ধুও হতে পারে -- গিয়ে জিজ্ঞেস করতে: "চিন্তা করে বলো আমার কোন কোন জিনিস পরিবর্তন করা দরকার?" এরপর সেই লিস্টের জিনিসগুলোর উপর সিন্সিয়ারিলি কাজ করা, সেগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে হবে।
[তার আগের সপ্তাহের খুতবার মূল সারমর্ম]: নতুন বছরের 'রিসোলিউশন' শুধু ওজন কমাবো, ক্যারিয়ারে উন্নতি করবো - এইরকম আত্মকেন্দ্রিক হলে চলবে না বরং হওয়া উচিত অন্যের কষ্ট কমাবো, অন্যের সাথে সম্পর্ক ভালো করবো, অন্যকে সাহায্য করবো, ইত্যাদি। নিজের উন্নয়ন অবশ্যই দোষের কিছু না। তবে তার সাথে অন্যের ভালোটাও চিন্তা করতে হবে। আর রিসোলিউশন হিসাবে এই পাঁচ বিষয় থাকা উচিত, সহজে মনে রাখার জন্য ইমাম বললেন ইংরেজি 'FRESH' ফ্রেশ শব্দ মনে রাখতে যার প্রতি অক্ষর একেকটা জিনিস বোঝায়: F - ফাইন্যান্স: নিজের আর্থিক দিক চিন্তা করা, অতিরিক্ত বাড়তি খরচ না করে জমানো, দান-সদকায় দেয়া। R - রিলেশনশিপ: নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কী করা যায়, সেটা টার্গেটে রাখা। E - এডুকেশন: যেকোনো বিষয়ে পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জন করা। S - স্পিরিচুয়ালিটি: নিজের আধ্যাতিক উন্নয়ন কিভাবে করা যায়, ঈমান-ইবাদত-আমল কিভাবে ভালো করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবা। আর H - হেলথ: শুধু শারীরিক না, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখা।
[তার আগের সপ্তাহের খুতবার মূল সারমর্ম]: নতুন বছরের 'রিসোলিউশন' শুধু ওজন কমাবো, ক্যারিয়ারে উন্নতি করবো - এইরকম আত্মকেন্দ্রিক হলে চলবে না বরং হওয়া উচিত অন্যের কষ্ট কমাবো, অন্যের সাথে সম্পর্ক ভালো করবো, অন্যকে সাহায্য করবো, ইত্যাদি। নিজের উন্নয়ন অবশ্যই দোষের কিছু না। তবে তার সাথে অন্যের ভালোটাও চিন্তা করতে হবে। আর রিসোলিউশন হিসাবে এই পাঁচ বিষয় থাকা উচিত, সহজে মনে রাখার জন্য ইমাম বললেন ইংরেজি 'FRESH' ফ্রেশ শব্দ মনে রাখতে যার প্রতি অক্ষর একেকটা জিনিস বোঝায়: F - ফাইন্যান্স: নিজের আর্থিক দিক চিন্তা করা, অতিরিক্ত বাড়তি খরচ না করে জমানো, দান-সদকায় দেয়া। R - রিলেশনশিপ: নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কী করা যায়, সেটা টার্গেটে রাখা। E - এডুকেশন: যেকোনো বিষয়ে পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জন করা। S - স্পিরিচুয়ালিটি: নিজের আধ্যাতিক উন্নয়ন কিভাবে করা যায়, ঈমান-ইবাদত-আমল কিভাবে ভালো করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবা। আর H - হেলথ: শুধু শারীরিক না, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখা।
[সবশেষ: একবার ভাবছিলাম একটা গুগল ফর্ম খুলে আমার নিজের কী কী পরিবর্তন করা দরকার সেটা 'অ্যানোনিমাসলি' সবার কাছ থেকে জোগাড় করবো। পরে ভাবলাম নাহ, আমার আত্মা এখনো এতো বড় হয় নাই, এতো সমালোচনা নিতে পারবো না। আপাতত সেফ সাইডেই থাকি। আর আরেকটা বিষয়: সিরাহ সিরিজের তৃতীয় পর্ব মোটামুটি রেডি, দুই-একদিনের মধ্যেই পোস্ট করবো ইনশাআল্লাহ! ]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন