পর্ব - ৭ । সিরাহ বছর: ৫ । আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত
পর্ব - ৭ । সিরাহ বছর: ৫ । আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত
--------------------------------------------------------------
[সাইডনোট: গত শুক্রবারের খুতবা ইমাম এই সাহাবীর উপরে দিয়েছেন। ইমাম সামি নিজে ফিলিস্তিনের। তাঁর পরিবারের ৩০ জনের বেশি ইতিমধ্যে শহীদ হয়েছেন। ইমাম বলছিলেন এমন সময়ে সান্তনা আর ধৈর্য্য ধরার জন্য আমাদের কুরআন আর রাসূলের (সাঃ) সুন্নাতের দিকে ফিরতে হবে। এরপর তিনি খাব্বাব (রাঃ)'র ঘটনা বর্ণনা করেছেন। খাব্বাব (রাঃ)'র উপর নৃশংস অত্যাচারের নমুনা বলতে গিয়েও থেমে গেছেন, বলছিলেন এই জুমুআতে অনেক বাচ্চারা আছে, তাই তিনি আর বিস্তারিত বলবেন না।]
খাব্বাব (রাঃ) একটু সুস্হ হয়ে রাসূল (সাঃ) কাবার সামনে পেয়ে একদিন তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসেন: "আর কতদিন, ও রাসূলুল্লাহ? আর কতদিন আমাদেরকে এইভাবে অত্যাচারিত হতে হবে? ও রাসূলুল্লাহ, আমাদের প্রতিকার চেয়ে কি আপনি আল্লাহ'র কাছে দোয়া করবেন না?"। উত্তরে রাসূল (সাঃ) তাঁকে বলেন, নিশ্চয়ই তাঁর আগের নবীদের ও তাদের উম্মতের এর থেকেও বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আশ্বাস দিয়ে বলেন, শীগ্রই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে, আর ধৈর্য্য ধরতে বলেন।
রাসূল (সাঃ) নিজেও কুরাইশদের কাছে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। একদিন কাবার নামাজ পড়া অবস্থায় উকবা নামের এক কুরাইশী রাসূল (সাঃ) কে পেছন থেকে গলায় কাপড় দিয়ে ফাঁস পেঁচিয়ে ধরে। রাসূল (সাঃ) প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। খবর পেয়ে আবু বকর (রাঃ) ছুটে এসে ধাক্কা দিয়ে উকবাকে সরিয়ে বলেন: "তুমি কী একজনকে মেরে ফেলবে শুধু মাত্র এই কারণে যে সে বলে 'আল্লাহ আমার রব'?" আবু বকর (রাঃ) কে সম্মানিত করে আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনের আয়াত নাজিল করেন, রাসূল (সাঃ) কে মনে করিয়ে দেন ঠিক এইভাবেই মুসা (আঃ) কে ফিরাউনের হাত থেকে বাঁচাতে তারই সভাসদ থেকে একজন এমনটাই বলেছিলেন: [সূরা গাফির, সূরা নম্বর ৪০, আয়াত ২৮-এর অংশবিশেষ]:
** ফেরাউনের দলের এক মু’মিন ব্যক্তি- যে তার ঈমানকে গোপন রেখেছিল- বলল, তোমরা একজন লোককে শুধু কি এজন্য মেরে ফেলবে যে, সে বলে, আল্লাহ আমার রব। অথচ সে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছে।**
খাব্বাব (রাঃ) একটু সুস্হ হয়ে রাসূল (সাঃ) কাবার সামনে পেয়ে একদিন তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসেন: "আর কতদিন, ও রাসূলুল্লাহ? আর কতদিন আমাদেরকে এইভাবে অত্যাচারিত হতে হবে? ও রাসূলুল্লাহ, আমাদের প্রতিকার চেয়ে কি আপনি আল্লাহ'র কাছে দোয়া করবেন না?"। উত্তরে রাসূল (সাঃ) তাঁকে বলেন, নিশ্চয়ই তাঁর আগের নবীদের ও তাদের উম্মতের এর থেকেও বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আশ্বাস দিয়ে বলেন, শীগ্রই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে, আর ধৈর্য্য ধরতে বলেন।
রাসূল (সাঃ) নিজেও কুরাইশদের কাছে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। একদিন কাবার নামাজ পড়া অবস্থায় উকবা নামের এক কুরাইশী রাসূল (সাঃ) কে পেছন থেকে গলায় কাপড় দিয়ে ফাঁস পেঁচিয়ে ধরে। রাসূল (সাঃ) প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। খবর পেয়ে আবু বকর (রাঃ) ছুটে এসে ধাক্কা দিয়ে উকবাকে সরিয়ে বলেন: "তুমি কী একজনকে মেরে ফেলবে শুধু মাত্র এই কারণে যে সে বলে 'আল্লাহ আমার রব'?" আবু বকর (রাঃ) কে সম্মানিত করে আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনের আয়াত নাজিল করেন, রাসূল (সাঃ) কে মনে করিয়ে দেন ঠিক এইভাবেই মুসা (আঃ) কে ফিরাউনের হাত থেকে বাঁচাতে তারই সভাসদ থেকে একজন এমনটাই বলেছিলেন: [সূরা গাফির, সূরা নম্বর ৪০, আয়াত ২৮-এর অংশবিশেষ]:
** ফেরাউনের দলের এক মু’মিন ব্যক্তি- যে তার ঈমানকে গোপন রেখেছিল- বলল, তোমরা একজন লোককে শুধু কি এজন্য মেরে ফেলবে যে, সে বলে, আল্লাহ আমার রব। অথচ সে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছে।**
এমনসব অত্যাচার, নিপীড়ণের মধ্যেই আল্লাহ তা'য়ালা সূরা আজ-জুমার-এর আয়াত নাজিল করে প্রথম হিজরতের অনুমতি দেন [সূরা আজ-জুমার, সূরা নম্বর ৩৯, আয়াত ১০]:
** বল [হে মুহাম্মদ], হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। এ দুনিয়ায় যারা ভাল কাজ করবে, তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আল্লাহর যমীন প্রশস্ত (এক এলাকায় ‘ইবাদাত-বন্দেগী করা কঠিন হলে অন্যত্র চলে যাও)। আমি ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার অপরিমিতভাবে দিয়ে থাকি। **
** বল [হে মুহাম্মদ], হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। এ দুনিয়ায় যারা ভাল কাজ করবে, তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আল্লাহর যমীন প্রশস্ত (এক এলাকায় ‘ইবাদাত-বন্দেগী করা কঠিন হলে অন্যত্র চলে যাও)। আমি ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার অপরিমিতভাবে দিয়ে থাকি। **
এর পরপরই মুসলিমদের প্রথম দল আবিসিনিয়ায় হিজরত করে। লোহিত সাগরের ওপারে আফ্রিকার আবিসিনিয়া একসময় আজকের দিনের ইয়েমেনের অংশ ছিল। তখন আবিসিনিয়ায় এক খ্রিস্টান রাজার রাজত্ব ছিল। ওই রাজ্যের রাজাদেরকে নাজ্জাসী বলে ডাকা হতো। এই নাজ্জাসী অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ আর সজ্জন হিসাবে পরিচিত ছিলেন। মক্কার কুরাইশদের সাথে সাথে এর আগে তার রাজ্যের লোকজনের ব্যবসা হওয়ার সুবাদে পরিচিতি ছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই হিজরত বিরাট ব্যাপার ছিল। গোত্রভিত্তিক আরব সমাজে নিজের গোত্র ছেড়ে অন্য দেশে, অন্য সমাজ ব্যবস্থায় যাওয়া মানে অনেকটা নির্বাসনে যাওয়া। আর এই হিজরত লুকিয়ে হওয়ায় কেউই নিজেদের সম্বল, সম্পত্তি সাথে নিয়ে যেতে পারেন নাই। বিক্রি করে যে সাথে টাকা নিয়ে যাবেন সেটারও উপায় ছিল না। আর সব ছেড়ে যাওয়া মানে, নিজের সহায়-সম্পত্তি অন্যদের, শত্রুদের ভোগ-দখল হয়ে যাওয়া। এটা একটা বিরাট আত্মত্যাগ ছিল।
বলা হয়, এই প্রথম দলে প্রায় ১৬ জন ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন: উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) ও তাঁর স্ত্রী, রাসূল (সাঃ)'র মেয়ে রুকাইয়া (রাঃ); রাসূল (সাঃ)'র সমবয়সী চাচাতো ভাই, আলী (রাঃ)'র বড়ভাই জাফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ)। আব্দুর-রহমান ইবনে আউফ, জুবায়ের ইবনে আল-আওয়াম, আবু সালামা ও উম্মে সালামা (রাঃ)। এর পরের দলে পরে আরো ৮০ থেকে ১০০ জনের মতো সাহাবী হিজরত করেন। [সাইডনোট: এই দুই দলে হিজরত নিয়ে অবশ্য মতভেদ আছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদরা বলেন, দুই আলাদা আলাদা সময় এঁরা গেছেন। আবার কেউ কেউ বলেন, আলাদা রওনা হলেও, প্রায় একই সময়ে এঁরা আবিসিনিয়ায় পৌঁছান।]
বলা হয়, এই প্রথম দলে প্রায় ১৬ জন ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন: উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) ও তাঁর স্ত্রী, রাসূল (সাঃ)'র মেয়ে রুকাইয়া (রাঃ); রাসূল (সাঃ)'র সমবয়সী চাচাতো ভাই, আলী (রাঃ)'র বড়ভাই জাফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ)। আব্দুর-রহমান ইবনে আউফ, জুবায়ের ইবনে আল-আওয়াম, আবু সালামা ও উম্মে সালামা (রাঃ)। এর পরের দলে পরে আরো ৮০ থেকে ১০০ জনের মতো সাহাবী হিজরত করেন। [সাইডনোট: এই দুই দলে হিজরত নিয়ে অবশ্য মতভেদ আছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদরা বলেন, দুই আলাদা আলাদা সময় এঁরা গেছেন। আবার কেউ কেউ বলেন, আলাদা রওনা হলেও, প্রায় একই সময়ে এঁরা আবিসিনিয়ায় পৌঁছান।]
[সবশেষ: রাসূল (সাঃ)'র ভবিষৎবাণী সত্যি হয়। খাব্বাব (রাঃ) বেঁচে থাকতেই তাঁর মহিলা মনিব উম্ম আনমার-এর পতন দেখতে পান। বলা হয়, উম্ম আনমারের মানসিক সমস্যা হয়ে যায়। মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা হওয়ায় সে নিজেই নিজের মাথা পুড়িয়ে ঝলসিয়ে দেয়। করুণ পরিণতিতে তার মৃত্যু হয়। আর এই খাব্বাব (রাঃ) পরে ইসলামের, কুরআনের শিক্ষক হন। বলা হয় উমর (রাঃ)'র বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব (রাঃ) ও তাঁর স্বামী সাঈদ বিন জায়েদ এই খাব্বাব (রাঃ) কাছ থেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে ইসলাম শিক্ষা নেন, কুরআন পড়া শিখেন। আর পরে উমর (রাঃ)'র ইসলামে কনভার্সন-র কাহিনী তো আমরা সবাই জানি। রাসূল (সাঃ) কে মারতে উদ্দত হয়ে উমর (রাঃ) যখন যাওয়ার পথে শুনতে পান তাঁর নিজের বোনই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছেন, তখন তার বাড়িতে রেগে হানা দেন। আর ওই বাসাতেই কুরআনের আয়াত পড়ে তাঁর পরিবর্তন আসে। সে হিসাবে খাব্বাব (রাঃ) উমর (রাঃ)'র ইসলাম গ্রহণেও ভূমিকা রাখেন।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন