ফরজ নামাজের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দুই নামাজ

ফরজ নামাজের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দুই নামাজ 
শেখ ইউসুফ হুসেইন । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন । ওয়েস্ট উইন্ডসর, নিউ জার্সি


ডিসক্লেইমার: এই লেখা গত শুক্রবারের খুতবার সারমর্ম না। আজকের লেখা ইমামের করা একটা 'খাতারা' বা সংক্ষিপ্ত আলোচনার সারমর্ম। আজকের লেখার ক্রেডিট আমার খালাতো ভাই মুন্না ভাইয়ার। উনার সাথে সকালে ফোনে কথা বলার সময় উনার উৎসাহেই এখন লিখতে বসেছি।

যাইহোক, ইমাম মুসল্লিদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করলেন, বলেন তো ফরজ নামাজের পর বা বাইরে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এমন দুই নামাজ কোন দুইটা? একজন মুসল্লি প্রথমটার সঠিক উত্তর দিলেন। ফজরের ফরজ নামাজের আগে পড়া দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ। ইমাম এর গুরুত্ব বোঝাতে একটা হাদিস বললেন যেটা অনেকটা এইরকম: রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন ফজরের আগে দুই রাকাআত সুন্নত সারা দুনিয়া আর এর মধ্যে যা আছে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটা ঘটনা বললেন একদিন রাসূল (সাঃ) নাকি সকালের সূর্য উঠে যাচ্ছে তাও ফজরের নামাজের জন্য আসছেন না, পরে যখন আসলেন, তখন কোনো এক সাহাবী জিজ্ঞেস করায় তিনি নাকি বলেছিলেন তিনি বাসায় সুন্নত নামাজ আদায় করছিলেন।  ইমাম বলতে চাইলেন, ফজরের প্রায় শেষ সময় হয়ে গেলেও চট করে হলেও সুন্নত নামাজ আদায় করা উচিত। এরপর ইমাম বললেন, কোনো কোনো মাজহাবে নাকি বলা হয়, যদি এমন হয় যে আপনি  একটু দেরিতে মসজিদে পৌঁছে দেখলেন যে ইমাম ফজরের ফরজ নামাজ জামাতে শুরু করে দিয়েছেন, কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন যে প্রথম রাকাতে ইমাম রুকুতে যাওয়ার আগে আপনি নামাজ ধরতে পারবেন, তাহলে জামাতে শরিক না হয়ে, আলাদা হয়ে প্রথমে দুই রাকাত সুন্নত পড়ে নিবেন, তারপর জামাতে যোগ দিবেন, তাও সুন্নত নামাজ ছেড়ে দিবেন না। 

এরপরের গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হচ্ছে এশার পর বেতরের নামাজ [এরা আবার একে উইতির বলে!]। কোনো কোনো মাজহাবে [হানাফী মাজহাব, যেটা আমরা বাংলাদেশী-পাকিস্তানী-ভারতীয় মুসলিমরা বেশিরভাগ সবাই মানি] এই নামাজকে ওয়াজিব বলা হয়, না পড়লে গুনাহ হবে বলে জানি। এই নামাজও কোনোভাবেই ছাড়া উচিত না। ইমাম বললেন, আর এই নামাজ এশার ফরজ নামাজের পর পড়তে হবে ঠিকই কিন্তু  কখন পড়তে হবে সেটা নিয়ে নাকি খোদ উমর (রাঃ) আর আবু বকর (রাঃ)'ই  ভিন্নতা অবলম্বন করতেন। একজন শেষরাতে ফজরের আগে, আরেকজন মিস হয়ে যাবে ভেবে ভয়ে আগেই এশার নামাজের ঠিক পরপরই পড়ে ফেলতেন [কোনজন কোনটা করতেন ইমাম হয়তো বলেছেনও, আমার খেয়াল নাই]।

এরপর ইমাম কারো কোনো প্রশ্ন আছে কিনা জিজ্ঞেস করায় অনেক মুসল্লিই বেশ কিছু প্রশ্ন করলেন। সবশেষে ইমাম আবারো জোর দিয়ে বললেন, ভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন মত থাকলেও মোট কথা হচ্ছে, এই দুই নামাজ "আরে এইসব তো সুন্নত নামাজ, না পড়লেও চলবে" - আমরা যেন কোনোভাবেই এই মনোভাব নিয়ে এদের গুরুত্ব খাটো না করি। 

সবশেষ:  আর সিরাহ সিরিজের পরের পর্ব (পর্ব ১১) লেখার জন্য সব মেটেরিয়াল রেডি আছে, তবে দুই/এক সপ্তাহ হয়তো লাগবে, চেষ্টা থাকবে খুব শীঘ্রই লিখতে, ইনশাআল্লাহ।। আর এর মধ্যে আগের পর্ব গুলো আরেকবার পড়তে চাইলে নিচের লিংকে গিয়ে লেখা গুলো পাবেন।
https://banglasirah.substack.com/archive

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ