পর্ব - ১৭ । সিরাহ বছর ১১ । আল-ইসরা ওয়া-আল মিরাজ-এর অলৌকিক ঘটনা
পর্ব - ১৭ । সিরাহ বছর ১১ । আল-ইসরা ওয়া-আল মিরাজ-এর অলৌকিক ঘটনা
[ভূমিকা: এই পর্বটা কিভাবে লিখবো সেটা নিয়ে আমি আসলে অনেকদিন থেকে ভাবছি। আমার লেখার মূল সোর্স যে দুই বই: ডা. মেরাজ মহিউদ্দিনের "রেভেলেশন: স্টোরি অফ দ্যা প্রফেট (সাঃ)", আর ড. ইয়াসির ক্বাদীর "দ্যা সীরাহ অফ দ্যা প্রফেট (সাঃ)" - এই দুই বইয়ে এই ঘটনা নিয়ে আরো বিস্তারিত লেখা আছে। কিন্তু আমার পক্ষে এক পর্বে পুরাটা কোনোভাবেই লেখা সম্ভব না। এর একটা কারণ ড. ইয়াসির ক্বাদী তাঁর বইয়ে তো বলেই দিয়েছেন: এই ইসরা-মেরাজের ঘটনার যত বর্ণনা সাহাবীদের কাছ থেকে পাওয়া যায়, সেটা নাকি রাসূল (সাঃ) বাকি মক্কার জীবনের সব ঘটনার বর্ণনা একসাথে করলেও তার থেকে বেশি হবে। যাই হোক, আমি তাও সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করছি। আগেই ডিসক্লাইমার দিয়ে দিচ্ছি: দুই বই থেকে এই ঘটনার উপর কুরআনের যেইসব আয়াত নিয়ে আলোচনা আছে, সেগুলো নিয়েই আমি মূলত লেখার চেষ্টা করবো, লেখা একটু লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর কারো যদি আরো বিস্তারিত ভাবে জানার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আমি নিচে ইউটুবের লিংক দিয়ে দিচ্ছি: ড. ইয়াসির ক্বাদীর রাসূল (সাঃ)'র সিরাহ সিরিজের দুই পর্বের দুইটা ভিডিও দেখে নিতে পারেন।]
রাসূল (সাঃ) দুঃখের লম্বা বছর - ১০ তম বছরের পর, ১১ তম বছরে এই অলৌকিক 'আল-ইসরা' বা রাতের যাত্রা, ও 'আল-মিরাজ' উর্ধাকাশে গমনের ঘটনা ঘটে। একটু মনে করিয়ে দেই, দশম বছরে রাসূল (সাঃ) তাঁর পিতৃতুল্য চাচা, মক্কায় তাঁকে সুরক্ষা দেয়া কুরাইশ নেতা - আবু তালিব মারা যান। রাসূল (সাঃ)'র স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) মারা যান - যিনি প্রথম ব্যক্তি যে কিনা রাসূল (সাঃ)'র ওহী প্রাপ্তি বিশ্বাস করে মুসলিম হয়েছিলেন। দুইজনকে হারিয়ে রাসূল (সাঃ) যখন তাইফ শহরে সমর্থনের জন্য যান, সেখানে তাঁকে অবজ্ঞা করা হয়, পাথর মেরে রক্তাক্ত করে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। নিরুপায় হয়ে রাসূল (সাঃ) তাঁর রবের কাছেই তাঁর অসহায়ত্বের আত্মসপর্মন করে সাহায্যের দোয়া করেন [এই ব্যাপারে আগের পর্বের লেখাগুলো পড়ার অনুরোধ থাকলো]। বলা হয়, আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল (সাঃ)'র এই দোয়া কবুল করে তাঁকে যেন 'কষ্টের সাথেই স্বস্তি'- র পুরস্কার হিসাবেই ইসরা-মিরাজের মাধ্যমে তাঁর নিজের কাছে নিয়ে যান। আর কুরআনে তো আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন [সূরা আল-ইনশিরা, সূরা নম্বর ৯৪, আয়াত ৫-৬]:
** কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে **
** কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে **
খুব সংক্ষেপে আল ইসরা ওয়া আল মিরাজের ঘটনাটা এই রকম: মক্কায় রাসূল (সাঃ) রাতে ঘুমিয়েছিলেন। ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ) এসে তাঁকে জাগিয়ে দেন। তারপর 'বোরাক' নামের এক ঘোড়া-সদৃশ বাহনে চড়ে মক্কা থেকে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরে যান। রাতের এই যাত্রাই "আল-ইসরা" নামে পরিচিত। জেরুজালেমে পৌঁছে তিনি মসজিদ আল-আকসা তে বাকি নবী-রাসূলদেরকে নিয়ে ইমামতি করে নামাজ পড়েন। তারপর জিব্রাইল (আঃ) দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর (সাঃ)'র হৃদপিন্ড জমজমের পানিতে ধুয়ে [প্রথমবার নবুয়তের আগে, ছোটবেলায় যখন তিনি মা হালিমার কাছে মরুতে বেড়ে উঠছিলেন] পবিত্র করেন। এরপর জিব্রাইল (আঃ) তাঁকে নিয়ে উর্ধাকাশে এক এক করে সাত আসমান পাড়ি দেন। এর আগে বিভিন্ন রূপে আসলেও, এই সময় জিরবাঈল (আঃ) তার প্রকৃত আকৃতিতে রাসূল (সাঃ)'র সামনে আসেন। তাঁকে নিয়ে জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হয়। আর প্রতি আসমানে তিনি (সাঃ) আগের একেকজন নবীর সাথে দেখা করেন, প্রথমে আদম (আঃ), এরপর ক্রমানুসারে: ইয়াহিয়া (আঃ) ও ঈসা (আঃ) -- ইউসুফ (আঃ) -- ইদ্রিস (আঃ) -- হারুন (আঃ) -- মুসা (আঃ) এবং সবশেষে ইব্রাহিম (আঃ)'র সাথে দেখা করেন, পরিচিত হন। এরপর জিব্রাইল (আঃ) আরো উপরে "সিদরাতুল মুনতাহা"তে পৌঁছান। এই স্তরের পর আল্লাহ তা'য়ালার আর কোনো সৃষ্টি উপরে যেতে পারে না। এরপর আল্লাহ তা'য়ালা শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ) কে অনুমতি দিলে, জিব্রাইল (আঃ) ছাড়া তিনি একাই আরো উপরে যান। আর আল্লাহ তা'য়ালার সাথে এই সাক্ষাতেই [পর্দার আড়াল থেকে, রাসূল (সাঃ) আল্লাহকে সরাসরি দেখেন নাই ] রাসূল (সাঃ)'র উম্মতের জন্য প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। আল্লাহ তা'য়ালা এই প্রথমবারের মতো [জিব্রাইল (আঃ)'র মাধ্যমে না দিয়ে] সরাসরি রাসূল (সাঃ) কুরআনের দুইটা আয়াত উপহার দেন [সেটা নিয়ে একটু পরে নিচে লিখছি]। এরপর ফিরে আসার সময় মুসা (আঃ)'র পরামর্শে রাসূল (সাঃ) কয়েকদফা আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে ফরজ নামাজ কমানোর অনুরোধ করেন, পরে ৫ ওয়াক্ত ধার্য হলে, মুসা (আঃ) এর পরও সেটা কমানোর পরামর্শ দিলে রাসূল (সাঃ) বিব্রতবোধ করে আর অনুরোধ করতে যান নাই। এরপর রাসূল (সাঃ) আসমান থেকে নেমে আসেন, জেরুজালেমে তাঁর বেঁধে রাখা 'বোরাকে' চড়ে ওই রাতেই আবার জেরুজালেম থেকে মক্কায় ফিরে আসেন।
পরেরদিন যখন তিনি (সাঃ) প্রথমে তাঁর কাছের মানুষদের এই অভিজ্ঞতার কথা বলেন, প্রথমে তাঁর চাচাতো বোন উম্ম-হানি বাঁধা দেন। বলেন, এই ঘটনার বর্ণনা তাঁর অনুসারী সাহাবীদের কাছেই অবিশ্বাস্য হবে আর তাঁর কুরাইশ শত্রুরা তো আগেই তাঁর নবুয়্যত নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতো, এইটা শুনলে তো আরো বেশি করে করা শুরু করবে। খেয়াল করতে হবে, তখনো কিন্তু এই ঘটনার উপর কুরআনের কোনো আয়াত নাজিল হয় নাই। অন্যসব কিছু বাদে, শুধু এই দাবি যে রাসূল (সাঃ) এক রাতেই মক্কা থেকে জেরুজালেম - যেটা প্রায় ৮০০ মাইল দূরে, সেখানে চলে গেলেন, তারপর 'মিরাজে' ঊর্ধ্বাকাশে গেলেন, ফিরে এসে আবার ওই রাতেই জেরুজালেম থেকে মক্কা ফিরে এলেন - সেটা কি করে সম্ভব হবে?! উনি স্বপ্ন দেখেন নাই তো?! রাসূল (সাঃ) যখন নিশ্চিত করলেন এইটা স্বপ্ন ছিল না আর তাঁর দায়িত্ব এই ঘটনা বর্ণনা করা - তখন আর কেউ বাধা দিলো না।
পরে যখন তিনি সবাইকে ডেকে এই ঘটনা বললেন, তখন যা আশংকা ছিল তাই হলো, কুরাইশরা হাসি-ঠাট্টা করা শুরু করলো। কুরাইশদের মধ্যে কেউ একজন যে কিনা আগে জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ দেখে এসেছে, সে রাসূল (সাঃ) কে পরীক্ষা করার জন্য আল-আকসা মসজিদ বর্ণনা করতে বললো। কারণ, তারা জানতো রাসূল (সাঃ) কোনোদিন জেরুজালেমে যান নাই। রাসূল (সাঃ) বর্ণনা করা শুরু করলে সে আরো খুটে খুটে প্রশ্ন করা শুরু করলো। রাসূল (সাঃ) নাকি ইতস্তত করলেন যে তিনি তো রাতে এতোভালো করে খেয়াল করেন নাই, তিনি উত্তর দিতে পারবেন না। ঠিক তখনি নাকি তাঁর চোখের সামনে পুরা আল-আকসা মসজিদ ভেসে উঠে, আর তিনি সব কিছুর ঠিক ঠিক বর্ণনা করলেন। সেই কুরাইশী স্বীকার করলো যে তাঁর (সাঃ) বর্ণনা ঠিক আছে।
রাসূল (সাঃ) যখন এই ঘটনা বর্ণনা করছিলেন তখন আবু বকর (রাঃ) সামনে ছিলেন না। আবু বকর (রাঃ) কে পথে পেয়ে যখন এক কুরাইশী তাচ্ছিল্য করে বললো, জানো নাকি তোমার মুহাম্মদ কী বলছে, কী দাবি করছে? শুনে আবু বকর (রাঃ) তাঁর সেই বিখ্যাত উত্তর দিয়েছিলেন যা অনেকটা এই রকম: "যদি তিনি [মুহম্মদ (সাঃ)] এই কথা বলে থাকেন, তাহলে তিনি সত্য বলছেন, আমি বিশ্বাস করি। আর করবোই না কেন? তারচেয়েও অলৌকিক ঘটনায় তো আমরা বিশ্বাস করি, যেখানে বিশ্ব-ভ্রম্মান্ডের মালিক আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর ফেরেশতা দিয়ে রাসূল (সাঃ)'র কাছে প্রায়ই ওহী পাঠান।" -- আবু বকর (রাঃ)'র এই উত্তর যখন পরে রাসূল (সাঃ) জানতে পারেন, তখন তিনি তাঁকে "আস-সিদ্দিক" বা বিশ্বাসী উপাধি দেন। এরপর থেকেই আবু বকর পরিচিতি পান: আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাঃ) হিসাবে।
আর এই সফরে আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল (সাঃ) কে সরাসরি যেই দুইটা আয়াত দেন, সেটা সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত [সূরা নম্বর ২, আয়াত ২৮৫ - ২৮৬], যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা মু'মিনদের সম্পর্কে বলেছেন, তাঁদের দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন:
** রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। [তাঁরা বলেন] আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্তাবর্তনস্থল। আল্লাহ্ কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা [গুরু দায়িত্ব] চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’ **
আর এই সফরে আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল (সাঃ) কে সরাসরি যেই দুইটা আয়াত দেন, সেটা সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত [সূরা নম্বর ২, আয়াত ২৮৫ - ২৮৬], যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা মু'মিনদের সম্পর্কে বলেছেন, তাঁদের দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন:
** রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। [তাঁরা বলেন] আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্তাবর্তনস্থল। আল্লাহ্ কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা [গুরু দায়িত্ব] চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’ **
কুরআনে এরপরে আল্লাহ তা'য়ালা এই আল ইসরা-ওয়াল মিরাজ নিয়ে আয়াত নাজিল করেন [সূরা আল-ইসরা , সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ১]:
** পবিত্র মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ত্ৰমণ করালেন, আল-মসজিদুল হারাম থেকে আল-মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমরা দিয়েছি বরকত, যেন আমরা তাকে আমাদের নিদর্শন দেখাতে পারি; তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। **
আর এই পুরো সফরে রাসূল (সাঃ) যা দেখেছেন, জিব্রাইল (আঃ) কে তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে আর "সিদরাতুল মুনতাহা"তে রাসূল (সাঃ) যা দেখেছেন, তা যে দৃষ্টিভ্রম বা স্বপ্ন ছিল না, আর তিনি যে মনগড়া কথা বলেন না সেটা আল্লাহ তা'য়ালা অন্য আয়াতে নিশ্চিত করেন। সূরা আন-নজমের শুরুর আয়াত গুলোতে আল্লাহ বলছেন [সূরা আন-নাজম, সূরা নম্বর ৫৩, আয়াত ১ - ১৮]:
** শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী [রাসূল (সাঃ)] বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়। আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবলই ওহী, যা তাঁর উপর ওহী রূপে প্রেরণ করা হয়। তাঁকে শিক্ষা দান করেছেন প্রচন্ড শক্তিশালী [জিব্রাইল (আঃ)]। সৌন্দর্যপূর্ণ সত্তা, যা তারপরে [নিজ আকৃতিতে] স্থির হয়েছেন। আর তিনি ছিলেন উর্ধ দিগন্তে। তারপর তিনি [জিব্রাইল (আঃ)] তাঁর কাছাকাছি হলেন, অতঃপর খুব কাছাকাছি। ফলে তাঁদের মধ্যে [জিব্রাইল (আঃ) আর রাসূল (সাঃ)] মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান থাকলো, বা তারও কম। তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর যা ওহী করার তা ওহী করলেন। তিনি যা দেখেছেন তাঁর অন্তর সেটা মিথ্যা বলেনি। তিনি যা দেখেছেন তোমরা কি সে সম্পর্কে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে? আর অবশ্যই তিনি [রাসূল (সাঃ)] তাঁকে [জিবরাঈল (আঃ)] আরেকবার দেখেছিলেন। সিদরাতুল মুনতাহা [বা প্রান্তবর্তী কুল গাছ] এর কাছে। যার কাছে জান্নাতুল মা'ওয়া অবস্থিত। যখন সিদরাত [কুল গাছটি] কে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল। তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি। অবশ্যই তিনি তার রবের মহান নিদর্শনাবলীর কিছু দেখেছিলেন।**
আর এইসব বর্ণনা শুনে কাফির-মুশরিকরা যে অবিশ্বাস করবে, হাসি-তামাশা করবে সেটা আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল (সাঃ) কে জানিয়ে দিয়ে আস্বস্ত করেছেন অন্য আয়াতে। আর এদের শাস্তি হচ্ছে যে তারা হেদায়াত প্রাপ্ত হবে না [সূরা আল-ইসরা, সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ৪৭ - ৪৮] :
** পবিত্র মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ত্ৰমণ করালেন, আল-মসজিদুল হারাম থেকে আল-মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমরা দিয়েছি বরকত, যেন আমরা তাকে আমাদের নিদর্শন দেখাতে পারি; তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। **
আর এই পুরো সফরে রাসূল (সাঃ) যা দেখেছেন, জিব্রাইল (আঃ) কে তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে আর "সিদরাতুল মুনতাহা"তে রাসূল (সাঃ) যা দেখেছেন, তা যে দৃষ্টিভ্রম বা স্বপ্ন ছিল না, আর তিনি যে মনগড়া কথা বলেন না সেটা আল্লাহ তা'য়ালা অন্য আয়াতে নিশ্চিত করেন। সূরা আন-নজমের শুরুর আয়াত গুলোতে আল্লাহ বলছেন [সূরা আন-নাজম, সূরা নম্বর ৫৩, আয়াত ১ - ১৮]:
** শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী [রাসূল (সাঃ)] বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়। আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবলই ওহী, যা তাঁর উপর ওহী রূপে প্রেরণ করা হয়। তাঁকে শিক্ষা দান করেছেন প্রচন্ড শক্তিশালী [জিব্রাইল (আঃ)]। সৌন্দর্যপূর্ণ সত্তা, যা তারপরে [নিজ আকৃতিতে] স্থির হয়েছেন। আর তিনি ছিলেন উর্ধ দিগন্তে। তারপর তিনি [জিব্রাইল (আঃ)] তাঁর কাছাকাছি হলেন, অতঃপর খুব কাছাকাছি। ফলে তাঁদের মধ্যে [জিব্রাইল (আঃ) আর রাসূল (সাঃ)] মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান থাকলো, বা তারও কম। তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর যা ওহী করার তা ওহী করলেন। তিনি যা দেখেছেন তাঁর অন্তর সেটা মিথ্যা বলেনি। তিনি যা দেখেছেন তোমরা কি সে সম্পর্কে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে? আর অবশ্যই তিনি [রাসূল (সাঃ)] তাঁকে [জিবরাঈল (আঃ)] আরেকবার দেখেছিলেন। সিদরাতুল মুনতাহা [বা প্রান্তবর্তী কুল গাছ] এর কাছে। যার কাছে জান্নাতুল মা'ওয়া অবস্থিত। যখন সিদরাত [কুল গাছটি] কে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল। তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি। অবশ্যই তিনি তার রবের মহান নিদর্শনাবলীর কিছু দেখেছিলেন।**
আর এইসব বর্ণনা শুনে কাফির-মুশরিকরা যে অবিশ্বাস করবে, হাসি-তামাশা করবে সেটা আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল (সাঃ) কে জানিয়ে দিয়ে আস্বস্ত করেছেন অন্য আয়াতে। আর এদের শাস্তি হচ্ছে যে তারা হেদায়াত প্রাপ্ত হবে না [সূরা আল-ইসরা, সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ৪৭ - ৪৮] :
** যখন তারা কান পেতে আপনার কথা শুনে তখন তারা কেন কান পেতে শুনে তা আমরা ভালো করেই জানি এবং এটাও জানি, গোপনে আলোচনাকালে যালিমরা বলে, ‘তোমরা তো এক জাদুগ্রস্থ ব্যক্তির অনুসরণ করছ'। দেখুন, তারা আপনার উপর কি উপমা দেয়! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সুতরাং তারা পথ পাবে না।**
আর এই শাস্তির কথা শুনেও যে তারা বিচলিত হয় না, বরং আরো বেশি অবিশ্বাসী হয়, সেটাও আল্লাহ বলেছেন অন্য আরেক আয়াতে [সূরা আল-ইসরা, সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ৬০]:
** আর স্মরণ করুন, যখন আমরা আপনাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয় আপনার রব মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর আমরা যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি [মিরাজের মাধ্যমে] তা মানুষদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ এবং কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত গাছটিও [পরীক্ষাস্বরূপ] নির্ধারণ করেছি [যে কারা তা বিশ্বাস ক’রে নেককার হয় আর কারা তা অবিশ্বাস ক’রে পাপী হয়]। আর আমরা তাদেরকে ভয় দেখাই, কিন্তু এটা তাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে। **
আর এই শাস্তির কথা শুনেও যে তারা বিচলিত হয় না, বরং আরো বেশি অবিশ্বাসী হয়, সেটাও আল্লাহ বলেছেন অন্য আরেক আয়াতে [সূরা আল-ইসরা, সূরা নম্বর ১৭, আয়াত ৬০]:
** আর স্মরণ করুন, যখন আমরা আপনাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয় আপনার রব মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর আমরা যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি [মিরাজের মাধ্যমে] তা মানুষদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ এবং কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত গাছটিও [পরীক্ষাস্বরূপ] নির্ধারণ করেছি [যে কারা তা বিশ্বাস ক’রে নেককার হয় আর কারা তা অবিশ্বাস ক’রে পাপী হয়]। আর আমরা তাদেরকে ভয় দেখাই, কিন্তু এটা তাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে। **
সবশেষ: আজকের পর্ব পর্যন্ত কুরআনের মোট আয়াতের ৪.৭৩% কভার হয়েছে। আগের সব লেখা/পর্ব গুলো এক জায়গায় পেতে ভিসিট করতে পারেন: https://banglasirah.substack.com/publish/posts/published
ড. ইয়াসির ক্বাদীর রাসূল (সাঃ)'র সিরাহ সিরিজের আল-ইসরা ওয়াল মিরাজের দুই পর্ব:
পর্ব ১: https://youtu.be/v0kNlh0N9bE?si=hmo5gqZCWUFC0Vs0
পর্ব ১: https://youtu.be/v0kNlh0N9bE?si=hmo5gqZCWUFC0Vs0
পর্ব ২: https://youtu.be/T5uhfYFAJzM?si=a2WjvU6MTYEiNGFN
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন