এই শুক্রবারের খুতবার সারমর্ম (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬): রামাদান/রমজান মাসে আমাদের করণীয়

এই শুক্রবারের খুতবার সারমর্ম (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬): রামাদান/রমজান মাসে আমাদের করণীয়
শেখ ইউসুফ বাকির । মুসলিম সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন । ওয়েস্ট উইন্ডসর, নিউ জার্সি

ইমাম বললেন শাবান মাস প্রায় শেষ, রমাদান'র আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আমাদের মধ্যে অনেকেই খুবই উৎসাহী, উদ্দীপনা নিয়ে সেটার অপেক্ষা করছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে আবার অনেকেই আছি যারা রমাদান নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আমরা একদিকে যেমন জানি এই মাসে প্রতি রাতে আল্লাহ তা'য়ালা অনেককে জাহান্নামের আগুন থেকে মাফ করবেন, আর আমরা সেই দলে থাকতে চাই, আবার অন্যদিকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এতো এতো ঝামেলা যে আমরা ভয় পাচ্ছি কীভাবে এই মাসে ঠিক ভাবে আমল করবো? করতে পারবো তো?! 

ইমাম বললেন, তিনি একটা সহীহ হাদিস বলবেন যেটা আমাদের এই অবস্থায় সাহায্য করতে পারবে। তার আগে তিনি তাঁর জীবনে দুইটা ঘটনা শেয়ার করলেন। প্রথম ঘটনা হচ্ছে এইরকম: তিনি নাকি একবার নামাজে অনেক চেষ্টা করেও মনোযোগ আনতে পারছেন না। নামাজে এই 'খুশু' না আসার ব্যাপারটা তিনি তাঁর শিক্ষককে বললেন। তাঁর শিক্ষক নাকি উত্তর দিয়েছেন: হয়তো এই নামাজই তোমার সবচেয়ে ভালো নামাজ। কারণ আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর বান্দার আমলের ফলাফলে তাকে বিচার করেন না, বরং সেই আমলে তার প্রচেষ্টার কারণে তাকে প্রতিদান দেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দার অবস্থা ভালো করেই জানেন। যেহেতু তিনি বার বার চেষ্টা করে নামাজে মনোযোগ আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, কাজেই হয়তো এই নামাজই তার শ্রেষ্ঠ নামাজ।

দ্বিতীয় ঘটনা এই রকম: ইমাম কোনো এক রোজায় তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে বারবার বাধা পাচ্ছেন। ইমামের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মেয়ে বারবার কান্না করে তাঁকে মনোযোগ দিতে দিচ্ছে না। তিনি বারবার উঠে গিয়ে তাঁর মেয়েকে সাহায্য করছেন। পরে তিনি আফসোস করলে তাঁর শিক্ষক নাকি বলেছেন: তোমার এই মেয়ের দেখাশোনা করাই তোমার তাহাজ্জুদ ছিল। 

এই দুই ঘটনা বলে ইমাম বলতে চাইলেন, আমাদের সবারই সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের একেক জনের সামর্থ্যও একেক রকম। এই রোজায় আমি চাইলেই অন্যের মতো অনেক ভালো ইবাদত- আমল করতে পারবো না। আল্লাহ আমাদের অবস্থা জানেন। আমাদের নিজেদের তৌফিক অনুযায়ী আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। নিজেদের সাথে পরিষ্কার থেকে, সৎ থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে যেন এই রোজাই আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রোজা হয়। এরপর না পারলেও আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টার অবশ্যই প্রতিদান দিবেন। 

এরপর ইমাম রাসূল (সাঃ)'র একটা সহীহ হাদিস বললেন, সেইটা অনেকটা এইরকম, রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন: “যা তোমার উপকারে আসে তার প্রতি যত্নবান হও, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং হাল ছেড়ে দিও না। যদি তোমার ওপর কোনো কিছু আপতিত হয়, তবে বলো না: ‘যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমন হতো।’ বরং বলো: ‘আল্লাহ তাকদীর করেছেন, আর তিনি যা চান তাই করেন।’ কারণ ‘যদি’ (এই আফসোস) শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়।” 

এর ব্যাখ্যায় ইমাম বললেন, রোজা মাসে আমাদের উপকারে আসে এমন কাজে বেশি যত্নবান হতে হবে, শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। এই সাহায্য চাওয়ার ব্যাখ্যায় বললেন, আমরা যেন আল্লাহ'র সাথে সরাসরি কথা বলি, আল্লাহকে আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা সরাসরি বলে তাঁর কাছেই সাহায্য চাই। কোনোভাবেই যেন আশাহত হয়ে হাল ছেড়ে না দেই। আর আগে কী হয়েছে, অতীতে ঠিকমতো রোজা রাখি নাই, আমল করি নাই - এইসব ভেবে যেন নিজেকে বঞ্চিত না করি। কারণ শয়তান আমাদেরকে এই অতীত মনে করিয়ে দিয়ে আমলে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে -- আমল করে লাভ হবে না -- এইটা মনে করানোর চেষ্টা করে, আফসোস তৈরী করে। 

ইমাম বললেন, আজকের খুতবার পরে,  এমনকি এই খুতবার চলার সময়ই আমরা মনে মনে ঠিক করতে পারি আমরা এই রোজায় কী কী আমল করবো। আমাদের সাধ্যের সাথে মিল রেখেই এই নিয়ত করতে হবে। গত রোজায় করতে পারি নাই, এমন কোনো একটা আমল এইবার আমরা করার চেষ্টা করতে পারি। ইমাম মন্তব্য করলেন, অতীত মনে করা তখনই ভালো যখন সেটা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি, ভুল শোধরাতে পারি। আফসোস করার জন্য অতীত মনে করার কোনো উপকার নাই। 

খুতবার লিংক: https://www.youtube.com/live/ZjKND8jbgrA?si=e3ed3puFlgBAZhS5


  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ