সবগুলো দোয়া এক জায়গায় - বাংলা শব্দের অর্থে, উচ্চারণে
সবগুলো দোয়া এক জায়গায় - বাংলা শব্দের অর্থে, উচ্চারণে
১১ মার্চ ২০২৬, বুধবার। ২২ রমজান, ১৪৪৭ হিজরী। ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ বাংলা
** আপডেট: অন্তত দুইজন আমার লেখা পড়ে মন্তব্য করেছেন যে দোয়া গুলোর মূল আরবি লিখে দেয়া দরকার ছিল। কারণ উচ্চারণগত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা তাতে কমে। আমি Gemini দিয়ে আরবি গুলো তাই জেনারেট করে লিখে দিচ্ছি। কেউ অন্য কোনো ভুল পেলে কিংবা কোনো সাজেশন থাকলে বলতে পারেন। **
[ভূমিকা/ডিসক্লেইমার: আজকের লেখা কোনো খুতবার সারমর্ম না। বরং বিভিন্ন খুতবাতে শুনে আর পরে লিখে রাখা দোয়া গুলার একটা কম্পাইলেশন। এই লেখার একটা ভূমিকা আছে: আজকে সকালে যখন আমার বোন, লেনা আপা মেসেজ দিয়ে বললো, ‘সাইয়েদুল ইস্তেগফার’ দোয়ার বাংলা অর্থসহ যে লেখাটা আছে, সেটা তাঁকে পাঠাতে। আমি লেখাটা আমার ওয়েবসাইট থেকে খুঁজে তো আর পাই না। কবে, কি টাইটেলে যে লিখে রেখেছিলাম - কোনোভাবেই তা মনে করতে পারি না। বেশ কিছুক্ষন ঘাঁটাঘাঁটি করার পর পেয়েছি। আর একইরকম আরো যে দোয়া গুলো খুতবা শুনে লিখেছিলাম, সেগুলো এক করে এক জায়গায় লিখে রাখার জন্যই এই পোস্ট। রোজা মাস, কেউ যদি এই লেখা পড়ে উপকার পায়, আমল করে, তাহলে সেই সুযোগে যদি আমার বোন আর আমার একটু সওয়াব হয় -- এই আর কি! আর যেই খুতবাতে সেই দোয়াটা শিখেছিলাম, সেটার সারমর্মের লিঙ্কও দিয়ে দিবো, যাতে করে দোয়ার মূল রেফারেন্স, কনটেক্সট কেউ চাইলে দেখে নিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ।
আর বরাবরের মতো ডিসক্লাইমার: এই লেখাতে আমার শোনার, বোঝার, লেখার ভুল থাকতে পারে, তাই নিজেরা যাচাই করে নিয়ে, শুদ্ধ উচ্চারণে দোয়া গুলো শেখার অনুরোধ থাকলো। আরেকটা কথা: এই লেখা পড়ে আমাকে খুব আমল-ওয়ালা মনে না করার বিনীত অনুরোধ থাকলো। আমার বাংলায় লিখতে ভালো লাগে, তাই লিখি, এর বেশি কিছু না।]
****
১. সাইয়েদুল ইস্তেগফার:
اَللّٰھُمَّ اَنْتَ رَبِّیْ لَا اِلٰہَ اِلَّا اَنْتَ خَلَقْتَنِیْ وَاَنَا عَبْدُکَ وَاَنَا عَلٰی عَہْدِکَ وَوَعْدِکَ مَا اسْتَطَعْتُ اَعُوْذُبِکَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ اَبُوْءُ لَکَ بِنِعْمَتِکَ عَلَیَّ وَاَبُوْءُ بِذَنْبِیْ فَاغْفِرْلِیْ فَاِنَّہٗ لَا یَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اَنْتَ
“আল্লাহ হুম্মা আন্তা রাব্বি। লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা। খালাক্বতানী ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা ‘আলা আহ্ব্দিক ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্ব’তু। আউযুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু। আবুউ লাকা বিনিই’মাতিকা আ’লাইয়া। ওয়া আবুউ বিযামবিই। ফা-গফিরলিই। ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরু -যযুনুবা ইল্লা আন্ত।”
(হে আল্লাহ, আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর অটল আছি।আমি আমার করা কাজের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।আপনি আমার উপর যে সকল নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি। আর আমি আমার গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।)
বাংলা শব্দের অর্থে উচ্চারণ:
আল্লাহ হুম্মা আন্তা রাব্বি -- [ও আল্লাহ, তুমি আমার রব]
লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা -- [তুমি ছাড়া কোনো ‘ইলাহ’ (উপাস্য) নেই]
খালাক্বতানী ওয়া আনা আবদুকা -- [তুমি আমাকে বানিয়েছো, এবং আমি তোমার দাস]
ওয়া আনা ‘আলা আহ্ব্দিক ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্ব’তু -- [এবং আমি তোমার (প্রতি দেয়া আমার) অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞা পালনে সাধ্যমতো সচেষ্ট আছি।]
আউযুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু -- [আমি তোমার কাছেই আশ্রয় চাই আমার করা খারাপ কাজের অনিষ্ট থেকে]
আবুউ লাকা বিনিই’মাতিকা আ’লাইয়া -- [আমি স্বীকার করছি তোমার নেয়ামত আমার প্রতি]
ওয়া আবুউ বিযামবিই -- [এবং আমি স্বীকার করছি আমার (করা) পাপ]
ফা-গফিরলিই -- [কাজেই আমাকে মাফ করে দাও]
ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরু -যযুনুবা ইল্লা আন্ত -- [কেননা তুমি ছাড়া তো আর কেউ পাপ মাফ করতে পারে না]
শুনে শুনে সাইয়েদুল ইস্তিগফার মুখস্ত করার জন্য:
মূল খুতবার লিংক: https://banglakhutba.substack.com/p/22-08-05
****
২. বিপদে পড়ে উদ্ধার পাওয়ার দোয়া, অবস্থা পরিবর্তনের দোয়া:
اَللّٰھُمَّ أْجُرْنِیْ فِیْ مُصِیْبَتِیْ وَاَخْلِفْ لِیْ خَیْرًا مِّنْھَا
“আল্লাহুম্মা আজির নি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ লি খাইরান মিন হা”
(হে আল্লাহ, আমার এই বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন।)
বাংলা শব্দের অর্থে:
আল্লাহুম্মা -- ও আল্লাহ
আজির নি -- পুরস্কৃত করুন আমাকে
ফি -- কারণে/ এর মাধ্যমে
মুসিবাতি - - এই মুসিবত বা বিপদ
ওয়া -- এবং
আখলিফ -- পরবর্তী [খলিফা শব্দ থেকে আসা, উত্তরসূরি অর্থে], পরিবর্তন করে দিন
লি -- আমার জন্য
খাইরান -- উত্তম, এর থেকে ভালো কিছু
মিন -- হতে
হা -- এটা
মূল খুতবার সারমর্মের লিংক: https://banglakhutba.substack.com/p/240
****
৩. দৈনন্দিন জীবনের কাজের চাপ কমানোর, সহজ করে দেয়ার দোয়া:
یَا حَیُّ یَا قَیُّوْمُ بِرَحْمَتِکَ اَسْتَغِیْثُ اَصْلِحْ لِیْ شَاْنِیْ کُلَّہٗ وَلَا تَکِلْنِیْ اِلٰی نَفْسِیْ طَرْفَةَ عَیْنٍ
“ইয়া হাইয়ু, ইয়া কাইয়ুম, বিরাহমাতিকা আস্তাগিসু, আস’লিহ লি শা’ নি কুল্লাহু, ওয়া লা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আ’ইন”
(হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক/রক্ষক, আমি আপনার রহমতের সাহায্য চাই, আমার সবকিছু ঠিক করে দিন, আর চোখের এক পলকের জন্যেও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে/নির্ভরশীল করে দিয়েন না।)
বাংলা শব্দের অর্থে:
ইয়া হাইয়ু -- হে চিরঞ্জীব।
ইয়া কাইয়ুম -- হে সর্ব বিষয়ের ধারক, রক্ষক
বিরাহমাতিকা -- আপনার রহমতের
আস্তাগিসু -- সাহায্য চাই
আস’লিহ -- সংশোধন, ঠিক করে দিন
লি -- আমার জন্য
শা’ নি -- আমার অবস্থা, কাজ
কুল্লাহু --সবটুকু, সবকিছু
ওয়া -- এবং লা তাকিলনি -- না আমাকে ছেড়ে দিয়েন
ইলা -- উপর
নাফসি -- আমার নফসের/নিজের
তারফাতা -- এক পলকের জন্যও
আ’ইন -- চোখের
মূল খুতবার সারমর্মের লিংক: https://banglakhutba.substack.com/p/00b
****
৪. নিজের মন, ঈমানের দৃঢ়তা বাড়ানোর দোয়া:
یَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِیْ عَلٰی دِیْنِکَ
“ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব! সাব্বিত ক্বালবী আ’লা দ্বীনিক!”
(হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী [আল্লাহ]! আমার হৃদয়কে আপনার দ্বীনের উপর দৃঢ় ও অবিচল রাখুন।)
বাংলা শব্দের অর্থে:
ইয়া -- হে
মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব -- নিয়ন্ত্রণকারী অন্তরের !
সাব্বিত -- দৃঢ়, মজবুত বা স্থির করো
ক্বালব-ই -- অন্তর আমার
আ’লা -- উপর
দ্বীন-ইক -- দ্বীন [ইসলামের] তোমার
মূল খুতবার সারমর্মের লিংক: https://banglakhutba.substack.com/p/9ad
****
৫. ইসলামের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া চাওয়া:
اَلْحَمْدُ لِلّٰہِ عَلٰی نِعْمَةِ الْاِسْلَامِ وَکَفٰی بِھَا نِعْمَةً
“আলহামদুলিল্লাহি আ’লা নি’মাতিল ইসলাম, ওয়া কাফা বিহা নি’মা”
(সব প্রশংসা আর ধন্যবাদ আল্লাহ’র, ইসলামের নিয়ামতের জন্য [যিনি আমাকে ইসলামের নিয়ামতে প্রতিষ্টিত করেছেন], আর কতই না উত্তম সেই নেয়ামত!)
বাংলা শব্দের অর্থে:
আলহামদুলিল্লাহি -- সকল প্রশংসা আর ধন্যবাদ আল্লাহর প্রাপ্য
আ’লা -- উপর নি’মাতিল ইসলাম -- নেয়ামত ইসলামের [আমাকে দেয়ার জন্য]
ওয়া -- এবং
কাফা -- কতই না উত্তম বিহা -- সেটি/ সেই
নি’মা -- নেয়ামত
****
৬. আল্লাহর কাছে [ভুল করে] গুনাহ মাফের তিন দোয়া:
اَللّٰھُمَّ اِنَّکَ عَفُوٌّ کَرِیْمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنَّا
“আল্লাহ হুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্না”
(ও আল্লাহ, নিশ্চয়ই তুমি সর্বোচ্চ ক্ষমাকারী। ক্ষমা করতে ভালোবাসো। তাই আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও)
বাংলায় শব্দের অর্থে:
আল্লাহ হুম্মা - ও আল্লাহ
ইন্নাকা - নিশ্চয়ই তুমি
আফুউন কারিমুন - সর্বোচ্চ ক্ষমা কারী
তুহিব্বুল - ভালোবাসো
আফওয়া - ক্ষমা করতে
ফা’ফু - তাই ক্ষমা করো
আন্না - আমাদেরকে
নোট: এখানে শেষে ‘আন্না’ -র বদলে ‘আন্নি’ বললে অর্থ হবে ‘আমাকে’। অর্থাৎ বহুবাচক থেকে একবাচক হয়ে যাবে।
----
رَبَّنَا ظَلَمْنَا اَنْفُسَنَا وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَکُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
“রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনা আল-খাসিরীন”
(হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। এখন তুমি যদি ক্ষমা না করো, আর রহম না করো, তাহলে অবশ্যই আমরা সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।)
বাংলা শব্দের অর্থে:
রাব্বানা - ও রব আমাদের
জালামনা - জুলুম করেছি আমরা
আনফুসানা - নিজেদের [নাফসের] প্রতি আমরা
ওয়া ইল্লাম - এবং যদি না
তাগফিরলানা - তুমি ক্ষমা করো আমাদের
ওয়া - এবং
তারহামনা - তুমি রহম করো আমাদের
লানা কুনান্না - অবশ্যই হবো আমরা
মিনা - হতে
আল-খাসিরীন - [সর্বোচ্চ] ক্ষতিগ্রস্থ
----
لَا اِلٰہَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحٰنَکَ اِنِّیْ کُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ
“লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনা জ্জোয়ালিমিন”
(তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ [উপাস্য] নাই। সব প্রশংসা/ধন্যবাদ তোমারই [প্রাপ্য]। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছি [আমাকে মাফ করে দাও])
বাংলা শব্দের অর্থে:
লা - নাই
ইলাহা - কোনো ইলাহ/রব
ইল্লা - ব্যতীত
আন্তা - তুমি (আল্লাহ)
সুবহানাকা - সকল প্রশংসা তোমারই
ইন্নি - নিশ্চয়ই আমি
কুনতু - হয়েছি
মিনা - হতে
জোয়ালিমিনি - জালিমদের/সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত
মূল খুতবার সারমর্ম: https://banglakhutba.substack.com/p/16c
****
৭. যখন আর কোনো সাহায্যের আশা নাই, তখন একমাত্র আল্লাহ’র সাহায্যের জন্য দোয়া
رَبِّ اِنِّیْ لِمَا اَنْزَلْتَ اِلَیَّ مِنْ خَیْرٍ فَقِیْرٌ
“রাব্বি ইন্নি লিমা আনঝালতা ইলাইয়া মিন খাইরান ফাকির”
(হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কোনো কল্যাণ নাযিল করবেন, নিশ্চয়ই আমি তার জন্য ফকির/অভাবগ্রস্ত/মুখাপেক্ষী))
বাংলা শব্দের অর্থে:
রাব্বি --- ও রব আমার!
ইন্নি -- নিশ্চয়ই আমি
লিমা -- যা কিছু
আনঝালতা -- তুমি নাজিল করবে
ইলাইয়া -- প্রতি আমার
মিন -- হতে
খাইরান -- তোমার কল্যাণ
ফাকির -- আমি [সেটার জন্যই] ফকির, অভাবগ্রস্থ, মুখাপেক্ষী।
এই দোয়াটা মুসা (আঃ) করেছিলেন যখন তাঁর আর কোনো আপাতঃ সাহায্যকারী ছিল না। তিনি ফিরাউনের বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে মরুর পথে সাথে কিছু না নিয়েই পালিয়েছিলেন। কুরআনের আয়াত সূরা আল কাসাস [সূরা নম্বর ২৮, আয়াত ২৪]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন