এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম ( ২৭ মার্চ, ২০২৬): শাওয়াল মাসের ৬ রোজার সম্পর্কে কিছু কথা

এই শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম ( ২৭ মার্চ, ২০২৬): শাওয়াল মাসের ৬ রোজার সম্পর্কে কিছু কথা
শেখ মেন্ডেজ । ইসলামিক সেন্টার অফ গ্রেটার প্রিন্সটন, নিউ জার্সি 

ইমাম রমাদানের পর শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রাখার যে সুন্নাত আছে, সে ব্যাপারে ৩-৪ টা মন্তব্য করলেন। আমার জন্য কয়েকটা নতুন ছিল, তাই খুব সংক্ষেপে লিখছি। 

শুরুতে একটা মন্তব্য করলেন: অনেকেই বলেন ইসলামে ২ ঈদ। 'ঈদ' মানে যেটা ফিরে আসে। আর আসলে ইসলামে ৩ টা ঈদ আছে - দুই ঈদ বাদেও প্রতি সপ্তাহের শুক্রবারও এক প্রকার ঈদ। শুক্রবার সপ্তাহের সবচেয়ে পবিত্র দিন। এই দিন উৎসবের দিন, মাফ চাওয়ার দিন, বেশি বেশি দোয়া, দুরুদ পড়ার দিন।  

ইমাম মন্তব্য করলেন, সহীহ হাদিস আছে যে, রাসূল (সাঃ) নাকি বলেছেন: যে ব্যক্তি রমাদান বা রোজা মাসে [সবগুলো] রোজা রাখলো, আর এরপর শাওয়াল মাসে ৬ টা রোজা রাখলো, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখলো।  এর ব্যাখ্যায় ইমাম বললেন, আল্লাহ তা'য়ালা যেকোনো ভালো কাজের পুরস্কার কমপক্ষে ১০ গুন দেন। [আমি পরে খুঁজে দেখলাম, কুরআনে এটা সরাসরি বলা আছে: সূরা আল-আনাম, সূরা নম্বর ৬, আয়াত ১৬০, যার অর্থ অনেকটা এইরকম: "যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে তার জন্য আছে দশ গুণ পুরস্কার, আর যে ব্যক্তি অসৎকাজ করবে তাকে শুধু কৃতকর্মের তুল্য প্রতিফল দেয়া হবে, তাদের উপর অত্যাচার করা হবে না।" -- সুবহানাল্লাহ!] সেই হিসাবে হিসাব করলে দেখা যায়, রমজান মাসের ৩০ দিন (৩০x১০ = ৩০০) আর শাওয়াল মাসের ৬ দিন (৬ x ১০ = ৬০), মোট  ৩৬ দিন রোজা রাখলে সেটা সেটার পুরস্কার (৩০০ + ৬০) = ৩৬০ দিনের সমান হয়। আর চাঁদের (লুনার ইয়ার) বছরের হিসাবে এক বছরে মোট ৩৬০ দিনই আছে - কাজেই রাসূল (সাঃ)'র ওই হাদিসটা অংকের হিসাবেও পুরোপুরি মিলে যায়!


এরপর ইমাম বললেন, মেয়েদের মধ্যে যারা রমজান মাসে সঙ্গত কারণে রোজা ভাঙবে, তাদের জন্য শাওয়াল মাসের রোজা রাখা সেই ভাঙা রোজার কাজা হিসাবেও গণ্য হবে, অর্থাৎ আলাদা করে কাজা তুলে পরে শাওয়ালের আরো ৬ রোজা রাখার দরকার নাই। দুটো মিলিয়ে একসাথে রাখলেই হবে। 

তৃতীয় মন্তব্য করলেন: অনেকেই মনে করেন শাওয়ালের ৬ রোজা একসাথে পরপর রাখতে হবে - এটা ঠিক নয়, এমন কোনো কথা নাই। ভেঙে ভেঙে, পুরো শাওয়াল মাসের বিভিন্ন দিন মিলিয়ে মোট ৬ দিন রাখলেই হবে। 

পরের মন্তব্যে বললেন, ফরজ কাজ যেইগুলো, যেমন নামাজ পড়া, রোজা রাখা, জাকাত দেয়া, ইত্যাদি - এইগুলো পালন করে কাউকে বলতে, জানাতে বাঁধা নাই। কিন্তু সুন্নত বা নফল, যেমন শাওয়ালের সুন্নত ৬ রোজা রাখা - এটা কেউ আমল করলে অন্যকে বলার দরকার নাই। এটা নিজের মধ্যে রাখাই ভালো। কারণ এইটা যেহেতু ঐচ্ছিক ইবাদত, এইটা পালন করে অন্য কাউকে বললে সেখানে লোক দেখানো বা রিয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। 

সবশেষে বললেন: রমজান মাসের আমরা বেশি বেশি করে যেই ভালো আমলগুলো করেছি: কুরআন পড়া, সুন্নত, নফল পড়া, দান-খয়রাত করা -- রোজা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো যেন বাদ বা থামিয়ে না দেই।  বললেন, নুন্নতম পক্ষে সেগুলোর ১০% করার চেষ্টা সারা বছর জুড়ে করার চেষ্টা করা উচিত। এরপর উদাহরণ দিয়ে বললেন, রমজান মাসে যদি আমরা প্রতিদিন ১ পারা বা যুজ করে কুরআন পড়ে থাকি, যেটা প্রায় ২০ পাতার মতো, তাহলে রমজান পরবর্তী সময়ে তার ১০% অর্থাৎ কমপক্ষে প্রতিদিন ২ পাতা করে পড়ার চেষ্টা করা উচিত। আলী (রাঃ) সহ অন্যান্য অনেক সাহাবী নাকি ৫০% করে আমল করার চেষ্টা করতেন।  


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পর্ব - ৬ । সিরাহ বছর: ৪ । কুৎসা রটনার কুরআনিক জবাব ও অন্ধ সাহাবীর ঘটনা

শুক্রবারের জুমআর খুতবার সারমর্ম (১৮ জুলাই, ২০২৫): রাসূলের (সাঃ)'র 'অপরিচিত' সাহাবীরা (রাঃ)

শুক্রবারের জুমুআর খুতবার সারমর্ম (১১ নভেম্বর, ২০২২): যে ভালো কাজগুলো ধ্বংসের কারণ